চাকরি ও রিজিকের জন্য মুসা (আ.) যে দোয়া পড়েছিলেন
গণমাধ্যম ডেক্স
দেশের বর্তমান বাস্তবতায় চাকরি পাওয়া অনেকের কাছেই কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষিত যুবক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসংস্থানের আশায় ছুটছেন। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাচ্ছেন না। পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এর সঙ্গে পরিবার-পরিজনের দায়িত্ব, সামাজিক চাপ ও জীবিকার তাগিদ পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এমন পরিস্থিতিতে একজন মুমিনের অন্যতম ভরসা হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও তাওয়াক্কুল। কারণ রিজিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তাআলা। তিনি যাকে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা এবং যখন ইচ্ছা উত্তম রিজিক দান করেন। তাই চাকরি বা কর্মসংস্থানের জন্য সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে সাহায্য ও কল্যাণ কামনা করাও জরুরি। তাঁর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করলে তিনি বান্দার জন্য কল্যাণের পথ খুলে দিতে পারেন।
বর্তমানে ইন্টারনেটে চাকরি লাভের নানা আমল ও দোয়া প্রচারিত হচ্ছে। তবে এগুলোর অনেকগুলোরই নির্ভরযোগ্য দলিল পাওয়া যায় না। অথচ পবিত্র কোরআনে এমন একটি দোয়ার কথা এসেছে, যা হজরত মুসা (আ.) চরম অসহায় অবস্থায় আল্লাহর কাছে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর জীবনে কাজ ও আশ্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
বিপদে পড়ে মুসা (আ.)-এর সেই দোয়া
ফেরাউনের রোষানলে পড়ে মিসর ছেড়ে মাদইয়ানে পৌঁছানোর পর একদিন হজরত মুসা (আ.) একটি কূপের কাছে যান। সেখানে তিনি দেখেন, অনেক মানুষ তাদের পশুদের পানি পান করাচ্ছেন। অন্যদিকে দুজন নারী নিজেদের পশু নিয়ে অপেক্ষা করছেন। মুসা (আ.) তাদের অপেক্ষার কারণ জানতে চাইলে তারা জানান, রাখালরা সরে না যাওয়া পর্যন্ত তারা পশুগুলোকে পানি পান করাতে পারেন না। তাদের বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় পশু চরানো ও পানি পান করানোর দায়িত্ব তাদেরই পালন করতে হয়। (সুরা কাসাস: ২২-২৩)
তাদের অসহায় অবস্থা দেখে মুসা (আ.) পশুগুলোকে পানি পান করাতে সহযোগিতা করেন। এরপর তিনি একটি ছায়াময় স্থানে গিয়ে আল্লাহর কাছে নিজের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। পবিত্র কোরআনে তাঁর সেই দোয়া এভাবে এসেছে, رَبِّ إِنِّى لِمَآ أَنزَلْتَ إِلَىَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
উচ্চারণ: রাব্বি ইন্নি লিমা আনজালতা ইলাইয়া মিন খাইরিন ফাকির। (সুরা কাসাস: ২৪)
অর্থাৎ, আমার আশ্রয়, রিজিক ও কর্মসংস্থান দরকার। আর তুমি আমার জন্য যে কাজ বা জীবিকার ব্যবস্থা করবে, আমি সেটারই মুখাপেক্ষী।
ভালো চাকরি ও উত্তম কর্মসংস্থান পেতে যে এ দোয়া কার্যকরী, তা পরের আয়াতেই বর্ণিত ঘটনায় প্রমাণিত। কারণ, যে দুই নারীকে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের একজন নিজের বাবার কাছে মুসা (আ.)-কে কাজে নিয়োগের প্রস্তাব দেন।
আল্লাহ বলেন, ‘তখন (ওই) দুই নারীর একজন লজ্জাজড়িত পদে তাঁর (মুসা) কাছে এসে বলল, আপনি যে আমাদের পশুগুলোকে পানি পান করিয়েছেন, তার পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য আমার বাবা আপনাকে ডাকছেন। অতঃপর মুসা (আ.) তার কাছে এসে সব ঘটনা বর্ণনা করলে বৃদ্ধ বলেন, ‘ভয় করো না, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের কবল থেকে বেঁচে গেছ। ওদের (দুই নারীর) একজন বলল, হে আব্বা! আপনি একে মজুর-কর্মী হিসেবে নিযুক্ত করুন। কারণ, আপনার চাকর-মজুর হিসেবে নিশ্চয়ই সে (মুসা) উত্তম হবে, শক্তিশালী ও বিশ্বস্ত হবে।’ (সুরা কাসাস: ২৫-২৬)
হজরত মুসা (আ.) এভাবেই দোয়া ও অন্যকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তম কর্মক্ষেত্র, জীবিকা এবং আশ্রয় লাভ করেছিলেন। সুতরাং যারা ভালো চাকরি বা কর্মসংস্থান খুঁজছেন, তাদের উচিত সার্বিক চেষ্টার পাশাপাশি আল্লাহর কাছে এসব আমলের মাধ্যমে সহযোগিতা কামনা করা।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স