|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম
৪০৫ পঠিত
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ববর্তী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ব্য...
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। এ লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তার পূর্ববর্তী সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও ব্যবহৃত প্রযুক্তি তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ইডকলের ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) কর্মসূচিতে ভবিষ্যতে ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর (ডিএ) হিসেবে কাজ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।   মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিদ্যুৎ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (ইডকল) যৌথ আয়োজনে দেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এ এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘ছাদের প্রতিটি ইঞ্চি কাজে লাগান, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়ান’।  জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল (২০২৬–২০৩০) বাস্তবায়নে সহায়তা এবং সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সরকারি নীতি ও প্রণোদনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।  এক্সপোর ৯৩ নম্বর স্টলে পদক্ষেপ সৌর প্যানেল, অফ-গ্রিড ইনভার্টার, ব্যাটারি ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশ প্রদর্শন করছে। এর মধ্যে রয়েছে ১ দশমিক ৭ কিলোওয়াটের ইনভার্টার, ১২ ভোল্ট ১০০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ও ৬৪ ভোল্ট ১৫০ অ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি এবং ২০০ ও ৩৫০ ওয়াটের সৌর প্যানেল। প্রদর্শিত সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে পদক্ষেপের পূর্বে বাস্তবায়িত এবং বর্তমানে চলমান বিবিধ সৌরবিদ্যুৎ ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) প্রকল্পের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ খাতে পদক্ষেপের পথচলা শুরু ২০০৫ সালে। ইডকল এবং সরকারের গ্রামীণ অবকাঠামো উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করে সংস্থাটি প্রত্যন্ত ও বিদ্যুৎসুবিধাবঞ্চিত পরিবারে সোলার হোম সিস্টেম পৌঁছে দিয়েছে। পদক্ষেপের নিজস্ব পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে খাগড়াছড়ি, রংপুর, দিনাজপুর, বরিশাল, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, বান্দরবান, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ এই ১০ জেলায় ৩৩ হাজার ৮২৩টি সোলার হোম সিস্টেম ও ৩ হাজার ২০টি সৌর সড়কবাতিসহ মোট ৩৬ হাজার ৮৪৩টি ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মালিক হতে সহায়তা করেছে। পরবর্তী সময়ে পদক্ষেপ নিজস্ব কার্যক্রমেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়েছে। ২০২২ সালে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে ২৪ দশমিক ০৯ কিলোওয়াট-পিক ক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়, যার আনুমানিক বার্ষিক উৎপাদন ৩৩ হাজার ইউনিট। শাখা কার্যালয়গুলোতেও সৌরবিদ্যুৎ ও লিথিয়াম ব্যাটারিভিত্তিক এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলে শিবপুর ও গৈলায় দুটি বসতবাড়ি, একটি গবাদিপশুর খামার এবং একটি মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) সমন্বিত মোট চারটি স্থাপনা বাস্তবায়ন করা হয়, যেগুলোর সম্মিলিত সৌর সক্ষমতা ৮ দশমিক ৮ কিলোওয়াট-পিক।  এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ইডকলের ডোমেস্টিক রুফটপ সোলার (ডিআরএস) কর্মসূচির ডিমান্ড অ্যাগ্রিগেটর হিসেবে কাজ করার পরিকল্পনা করেছে, যার মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শীঘই শুরু হবে। পরিকল্পিত উদ্যোগে সংস্থার সদস্য ও সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা তুলে ধরা, উপযুক্ত ছাদ ও বিদ্যুৎ-চাহিদা চিহ্নিত করা এবং প্রযোজ্য নীতিমালা অনুযায়ী কারিগরি সেবা ও অর্থায়নের সুযোগের সঙ্গে সম্ভাব্য গ্রাহকদের সংযুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পদক্ষেপ-এর যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান বলেন, জাতীয় সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের লক্ষ্য অর্জনে পরিবার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ববর্তী প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এবং বিস্তৃত সদস্যভিত্তিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি মানুষের কাছে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির সম্ভাবনা তুলে ধরাই এবারের অংশগ্রহণের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সার বিশেষ হারের বিষয়টিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উঠে আসে। এ-সংক্রান্ত বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর। নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫-এর শর্ত পূরণ করে যাঁরা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যোগ্য ব্যবস্থা স্থাপন ও উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ শুরু করবেন, তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে প্রাপ্য হবেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের সরকারি স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ এবং ব্যাটারি ছাড়া উভয় ধরনের যোগ্য সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় এই সুবিধা প্রযোজ্য।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স