|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

জলবায়ু অর্থায়নে সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: মাহ্‌দী আমিন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
৩৫১ পঠিত
জলবায়ু অর্থায়নে সমতা ও মর্যাদা নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: মাহ্‌দী আমিন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বহির্বিশ্বের সাথে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জ্বালানি খাত...

সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বহির্বিশ্বের সাথে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, বিদ্যমান জ্বালানি সংকট নিরসন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় জ্বালানি খাতে বহুমুখী পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘সায়েন্স পলিসি ডায়লগ অন ব্ল্যাক কার্বন অ্যান্ড আদার শর্ট লাইভড ক্লাইমেট পল্যুটেন্টস’ শীর্ষক সেমিনারে মাহ্‌দী আমিন এসব কথা বলেন।

মাহ্‌দী আমিন বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুতকে (সোলার এনার্জি) অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি ভবনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এবং পরিবহন খাতে কার্বন নিঃসরণ কমাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল বা পরিবেশবান্ধব যানবাহনকে বিশেষ নীতিসহায়তার মাধ্যমে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই ক্ষতিপূরণ তহবিল বা লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড কার্যকর করা এবং পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে উন্নত দেশগুলোর সাথে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে কাজ করছে সরকার।’

উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা যাবে না

উন্নয়নের নামে কোনোভাবেই প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা যাবে না উল্লেখ করে মাহ্‌দী আমিন বলেন, ‘অতীতে মেগাপ্রকল্পের নামে পরিবেশের যে অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করা হয়েছে, তা থেকে আমাদের অবিলম্বে সরে আসতে হবে। ভবিষ্যৎ ও আগামী প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস এবং বাসযোগ্য স্বদেশ নিশ্চিত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় শিল্পখাতকে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার পাশাপাশি ‘গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি’ এবং ‘লিড সার্টিফিকেশন’-এর আওতা বাড়িয়ে কাজ করা হচ্ছে। একই সাথে, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাসকূপ খনন ও বিভিন্ন বিকল্প উৎসের কার্যকর ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে।

পরিবেশবিষয়ক গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতি

সরকারের পরিবেশবিষয়ক গৃহীত পদক্ষেপ ও অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মাহ্‌দী আমিন জানান, গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট রূপকল্প নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, যা দলের নির্বাচনি অঙ্গীকারেও স্পষ্ট ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন এবং পুনর্খননের একটি বৃহৎ কর্মসূচি পুরোদমে শুরু হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিশাল বৃক্ষমেলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ব্যাপক বনায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ এবং সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যার‍্যাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ওরজান গুসটাফসোন।

সূত্র: কালবেলা