|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ধামরাইয়ে তিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়, আতর-সাবান ও গলাকাটা মুরগি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
৩৯২ পঠিত
ধামরাইয়ে তিন বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়, আতর-সাবান ও গলাকাটা মুরগি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় গভীর রাতে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তির বাড়িসহ তিনটি বাড়িকে লক্ষ্য করে এমন ভীতিকর কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযো...
ঢাকার ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের বড় চন্দ্রাইল এলাকায় গভীর রাতে তিনটি বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তির বাড়িসহ তিনটি বাড়িকে লক্ষ্য করে এমন ভীতিকর কর্মকাণ্ডের ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি কেনাকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাদের। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে বাড়ির ফটকে এসব সামগ্রী দেখতে পান দুই বাড়ির বাসিন্দারা। এর আগে বুধবার দিবাগত রাতে মো. মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে একটি ব্যাগ ঝুলতে দেখা যায়। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। যে তিনটি বাড়িতে এসব সামগ্রী রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর মালিক হলেন গত ২৪ অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. মোসলেহ উদ্দিন এবং তার প্রতিবেশী মো. ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন ও সেন্টু মিয়া। মোসলেহ উদ্দিন জানান, গত ২৪ অক্টোবর গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। আগুনের ঘটনায় যারা তাকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের বাড়িগুলোও এবার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। তিনি বলেন, ‘যারা সে সময় আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং আমাকে সহযোগিতা করেছিলেন, ঠিক তাদের বাড়িগুলোতেই এবার কাফনের কাপড় পাঠিয়ে মৃত্যুর বার্তা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বাড়ির পাশে জমি কেনা নিয়ে একটি নম্বর থেকে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, ওই জমি কেন কিনেছি। এরপর থেকেই একের পর এক হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’ ওয়াহিদ ভুইয়া রিপন বলেন, রাতে মোসলেহ উদ্দিনের বাড়ির গ্রিলে ব্যাগ ঝুলতে দেখে তিনি সেখানে যান। পরে বাড়ি ফিরে গেলেও সকালে নিজের বাড়ির দরজায় কাফনের কাপড়, আতর, সাবান ও রক্তমাখা গলাকাটা মুরগি দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘এটা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। পূর্বশত্রুতার জেরে একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে আমাদের পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দিতে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতেই এই ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।’ অন্য ভুক্তভোগী সেন্টু মিয়া বলেন, ‘আমরা এলাকায় শান্তিতে বাস করতে চাই। প্রকাশ্য দিবালোকে বা রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হুমকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমাদের পুরো পরিবার এখন আতঙ্কে ঘরের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার ও প্রশাসনের কাছে কঠোর নিরাপত্তা চাই।’ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঘটনার পর থেকে শুধু তিনটি পরিবার নয়, পুরো চন্দ্রাইল গ্রামের মানুষের মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা প্রথমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে ধামরাই থানায় গিয়ে লিখিতভাবে পুলিশকে বিষয়টি জানান। ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স