|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী ইমান মাজারি ও তার স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম
৩৬৩ পঠিত
পাকিস্তানে মানবাধিকারকর্মী ইমান মাজারি ও তার স্বামীর ১০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পাকিস্তানের প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে সন্ত্রাসবাদের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের ভেতরে তাদের বিচার শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়। তবে এ মামলায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে দম্পতি বলেছ...

পাকিস্তানের প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী ইমান মাজারি ও তার স্বামী হাদি আলী চাট্টাকে সন্ত্রাসবাদের মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের ভেতরে তাদের বিচার শেষে এ রায় ঘোষণা করা হয়।

তবে এ মামলায় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে দম্পতি বলেছেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারক তাহির আব্বাস সিপরা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটির রায়ের একটি অনুলিপি বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে এসেছে।

এতে বিচারক উল্লেখ করেন, ইমান মাজারি ও তার স্বামী ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট দলের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিলেন। বিচারকের মতে, তাদের এ কর্মকাণ্ড ‘সন্ত্রাসের অনুভূতি তৈরির উদ্দেশ্য ও অভিপ্রায় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে’।

তবে রায়ে একই সঙ্গে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনাটি ছিল ‘খুবই সাধারণ ধরনের একটি ঘটনা, যেখানে আপাতদৃষ্টিতে একটি ব্যারিকেড সরানো হয়েছিল’।

২০২৪ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় সফররত ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সড়কে থাকা ব্যারিকেড সরিয়ে ফেলেছিলেন ইমান মাজারি ও তার স্বামী। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। গত ৭ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া এবং জনমনে উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে দম্পতি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তারা নিজেদের ‘বিবেকের বন্দি’ উল্লেখ করে বলেন, মানবাধিকার নিয়ে কাজ করার কারণেই তাদের নিশানা করা হচ্ছে।

এর আগে নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের নথিতে তারা বলেছিলেন, ‘স্বৈরাচার, নিপীড়ন ও অবিচারের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ান বা দাঁড়াতে চান, তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রভাব আরও জোরালো করতে আমাদের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে স্বজনদের সমালোচনা

ইমান মাজরির মা শিরিন মাজারি এ বিচারপ্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সরকারের সময় দেশটির মানবাধিকারবিষয়ক মন্ত্রী ছিলেন। ইমরান খান বর্তমানে কারাবন্দি।

রয়টার্সকে শিরিন মাজারি বলেন, ‘এটি যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই একটি প্রহসনের বিচার।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিজেদের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ তাদের দেওয়া হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ আইনি নথিও তাদের সরবরাহ করা হয়নি।’ এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ দণ্ডাদেশের সমালোচনা করে বলেছে, এটি পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি কলঙ্কজনক ঘটনা।

সংস্থাটির ইয়াসমিন আহমেদ বলেন, ‘এটি ছিল ন্যায়বিচারের নীতি ও ন্যায্য বিচারের অধিকার রক্ষায় বিচার বিভাগের সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় বিচার বিভাগ শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে ইমান ও হাদিকে তাদের মানবাধিকার নিয়ে কাজের জন্য শাস্তি দিতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এসব অভিযোগ ব্যবহার করা হচ্ছে।’

সূত্র: আল জাজিরা

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স