প্রেমে নিঃস্ব হয়ে নিজ বাড়িতে ইয়াবা তৈরির উদ্যোগ নেন যুবক
গণমাধ্যম ডেক্স
প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৬ এএম
প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাড়ি ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবক। পরিকল্পনা ছিল, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ এবং পর্যায়ক্রমে এক কোটি ইয়াবা বড়ি উৎপাদনের।
টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় ইয়াবার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়...
প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে নিজ বাড়ি ইয়াবা তৈরির কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবক। পরিকল্পনা ছিল, প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ এবং পর্যায়ক্রমে এক কোটি ইয়াবা বড়ি উৎপাদনের।
টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় ইয়াবার ব্যাপক চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে অধিক লাভের আশায় এ উদ্যোগ নেন তিনি। তবে উৎপাদন শুরুর আগেই পুলিশের অভিযানে তার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে। এসময় কারখানা স্থাপনের জন্য তৈরি করা পরীক্ষাগার থেকে বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ, কাঁচামাল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন নির্মাণাধীন চারতলা একটি আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় কারখানাটি স্থাপনের প্রস্তুতি চলছিল।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে ওই ভবনের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। পরে টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে স্থাপন করা পরীক্ষাগার ও বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া যায়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানান, তিনি কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল, অটোমোবাইল) পাস করেছেন। প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। এ বিষয়ে ধারণা নিতে ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম বলেন, টঙ্গী, গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকায় ইয়াবার ব্যাপক চাহিদা থাকায় অধিক লাভের আশায় নিজেদের বাড়িতে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন বাপ্পি। প্রথম পর্যায়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি, ব্যাংকমাঠ বস্তি, কেরানিরটেক বস্তি, টঙ্গী নদীবন্দরসহ আশপাশের মাদকবাজারে ইয়াবা সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল তার। উৎপাদন শুরুর আগেই স্থানীয় ক্রেতাদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরির উদ্যোগ নিলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে।
ওসি আরও বলেন, কারখানাটি চালু হলে গাজীপুর, ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইয়াবা সরবরাহের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারত। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না কিংবা এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানায়, অভিযানে বিভিন্ন ধরনের তরল ও গুঁড়া রাসায়নিক পদার্থ, কাঁচামাল, কাচের বোতল, মাপার যন্ত্র, ফিল্টারেশন ও ভ্যাকুয়াম পাম্প, হিটিং সেটআপ এবং পরীক্ষাগারের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট, ফিল্টার পেপার, রাসায়নিক সংরক্ষণের উপকরণ, পরীক্ষার কাগজ এবং বিভিন্ন রাসায়নিকের নাম ও পরিমাপসংক্রান্ত তথ্য লেখা একটি খাতা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার এএসআই নূরে আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার বাপ্পিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সূত্র: কালবেলা