|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

যুবদল নেতার ‘হুমকির’ কারণে প্রাণভয়, কর্মস্থলে আসছেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
১৭৩ পঠিত
যুবদল নেতার ‘হুমকির’ কারণে প্রাণভয়, কর্মস্থলে আসছেন না স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার বাতিল না করায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে বিদ্যু...

পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার বাতিল না করায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল কর্মকর্তার কক্ষে ঢুকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিয়ে তাঁকে আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় কর্মস্থলে যাওয়া বন্ধ রেখেছেন ওই চিকিৎসক।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু দাবি করেছেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতেই তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। কাউকে অবরুদ্ধ করা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ই-জিপি প্রক্রিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও ই-জিপি নীতিমালা অনুসরণ করে অনলাইনে মূল্যায়ন শেষে গত ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন নেতা দরপত্রের শর্ত কঠিন দাবি করে তা বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে সভায় ব্যস্ত থাকার সময় সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল তার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেয়। পরে কক্ষে ঢুকে ছিটকিনি লাগিয়ে দরপত্র বাতিলের দাবি জানায়।

ডা. সুপ্রভা রাণীর অভিযোগ, তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রাণনাশের আশঙ্কায় বর্তমানে কর্মস্থলে যেতে পারছি না।’

তিনি আরও জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাবনার সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন অফিস সহকারী ও কর্মচারী জানান, আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রেখে দরপত্র বাতিলের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ওয়াসিম খান বলেন, ‘যারা টেন্ডার পাননি, তারা মঙ্গলবার ম্যাডামকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। এ সময় চিৎকার-চেঁচামেচি হচ্ছিল। আমি ওপর থেকে নেমে এসে সিসি ক্যামেরা উল্টানো অবস্থায় দেখি। পরে থানায় খবর দিলে ওসি সাহেব আসেন।’

টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, তিনি মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হলেও দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি। তবে কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। হাসপাতালে এভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কাউকে কাজ না দিয়ে গোপনে অন্য জেলা, বিশেষ করে ঝিনাইদহ থেকে লোক এনে কমিটি করা হয়েছে। এ ছাড়া দরপত্রে বিশেষ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু নিয়মের কথা বলতে গিয়েছিলাম। তাকে অবরুদ্ধ করা হয়নি, প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়নি। ওসি সাহেবও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই ওই কর্মকর্তা এখন মিথ্যা অভিযোগ করছেন।’

এ বিষয়ে পাবনা জেলা সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুজানগরে নিয়ম মেনেই টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানেন। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডার না পাওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ ধরনের হেনস্তা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে। এর আগে তিনিও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপাতত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কয়েক দিন নিরাপদে থাকুন। এ বিষয়ে আমরা দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেব।’

অন্যদিকে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন বলেন, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান এবং কয়েকজনকে দেখতে পান। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়ে তিনি কোনো অভিযোগ পাননি।

ওসি আরও বলেন, পরে তিনি নামাজ পড়তে যাওয়ার পর স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চলে গেছেন বলে জানতে পারেন। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স