রাঙ্গুনিয়ায় ধান পাহারা দিতে গিয়ে চাষি খুন, দুই হাত কাটা মরদেহ উদ্ধার
গণমাধ্যম ডেক্স
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ধানক্ষেত পাহারা দিতে গিয়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নেজাম উদ্দিন (৫০) নামে এক চাষি। সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যার দুই হাত কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। এ হত্যাকাণ্ড ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, এলাকায় ধারাবাহিক সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা বাড়লেও কার্যকর প্রতিরোধ নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, মীরেরখীল কালিছড়ি ব্রিজসংলগ্ন মাতব্বর বাড়ির পাশে পাকা ধানক্ষেত পাহারা দিতে রাতে বাড়ি থেকে বের হন নেজাম উদ্দিন। বন্য হাতির আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় তিনি ক্ষেত পাহারা দিচ্ছিলেন। সকালে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে সড়কের মাঝখানে বৃষ্টির পানিতে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার দুই হাত কনুই থেকে কাটা ছিল।
নিহত নেজাম উদ্দিন সরফভাটা ইউনিয়নের মীরেরখীল স্লুইসগেট এলাকার রফু মিয়ার ছেলে। পেশায় দিনমজুর নেজাম চাষাবাদের পাশাপাশি গাছ কাটার কাজ করতেন।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
নিহতের ছোট ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, রাতে পাকা ধান পাহারা দিতে খেতে গিয়েছিলেন তার ভাই। সকালে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে বের হন। পরে সড়কের মাঝখানে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
আহাজারি করতে করতে জসিম উদ্দিন বলেন, আমার ভাই একজন নিরীহ চাষি ও গাছ কাটার শ্রমিক ছিলেন। তাকে কেন, কী কারণে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।
নেজাম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর সরফভাটা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাসে এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে জখম করা হয়েছে। এর আগে রাতে একটি ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, গত দুই বছরে রাঙ্গুনিয়ায় ২০টির বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তাদের দাবি, এর অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ঘটেছে সরফভাটা ইউনিয়নে। ধারাবাহিক এসব সহিংসতায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সন্ত্রাসীদের উপদ্রবে মীরেরখীলসহ আশপাশের গ্রামের শত শত পরিবারের সদস্য এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকে মামলা করার সাহস না পাওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নেজাম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
পাশাপাশি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের আদলে সরফভাটা এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নেজাম উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি এলাকায় সংঘটিত অন্যান্য সহিংসতার ঘটনায়ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স