শেখ হাসিনা ফিরে এলে জনগণ তাঁকে সংবর্ধনা জানাবে, এমনটা কখনোই হবে না: রিজভী
গণমাধ্যম ডেক্স
শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে জনগণ তাঁকে সংবর্ধনা জানাবে—এমনটা কখনোই হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন ভারত থেকে আওয়াজ দিচ্ছেন, ‘এই যাব, এই করব।’ ভারত থেকে আওয়াজ দিয়ে তিনি মনে করছেন, দেশে ফিরে আসবেন আর সবাই তাঁকে ঢাকঢোল, করতাল বাজিয়ে সংবর্ধনা জানাবে। তিনি দিবাস্বপ্নের মধ্যে রয়েছেন।
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ রোববার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বাংলার মাটি, বীর সন্তানদের জন্ম দেওয়া এই মাটিতে কোনো পলাতক, ভীতু, শৃগালের মতো যারা পালিয়ে যায়, যারা নিজেদের দেশের সন্তানের রক্ত পান করতে দ্বিধা করে না, তারা আবার উড়ে এসে জুড়ে বসবে আর জনগণ মেনে নেবে, এটা হবে না। এটা কোনো দিনই হওয়া সম্ভব না।’
শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, তাঁর বাবা শেখ মুজিবুর রহমান যে বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, শেখ হাসিনা ভিন্ন আঙ্গিকে আরও ভয়ংকর বাকশাল তৈরি করেছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের সব কিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একদিকে ভারত সরকারের সমর্থন, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তিনি ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর এই শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘদিনের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে।
৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়
৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করতে দেওয়া হয়নি। তবে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন সংগঠন দিবসটি পালন করেছে। ফলে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য কখনো মুছে যায়নি। এ দিবসের অন্তর্নিহিত চেতনা কখনো হারিয়ে যায়নি।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয় এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সূচনা হয়। বাংলাদেশ কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে, কার সঙ্গে মৈত্রী গড়বে, তা দেশের সরকার ও জনগণের নিজস্ব বিষয়। কারও নির্দেশে বা আঙুলের ইশারায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বাধীনতার পর দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে মানুষের কথা বলার ও রাজনৈতিক মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না। সরকারের সমালোচনা করলে মানুষ নিখোঁজ হয়ে যেত কিংবা হত্যার শিকার হতো। রক্ষীবাহিনী গঠন করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের দমন করা হয়েছিল। ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে মানুষ সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছিল এবং নির্ভয়ে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। এ সময় দেশে বারবার ফ্যাসিবাদ ও বাকশাল কায়েম হয়েছে এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে একাধিকবার অভ্যুত্থানের ঘটনা ঘটেছে। তবে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা পেয়েছিল।
রাকিব আরও বলেন, বাকশাল কায়েম থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা—এসব ঘটনার সঙ্গে একটি দলই জড়িত, আর সেটি হলো আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ)। দলটি বারবার বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ আপস করেছে এবং প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বর্তমানে দলটির নেতারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তাদের ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ মহানগর শাখা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শাখার নেতা–কর্মীরা।
সূত্র: প্রথম আলো