|
| |
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে

Super Admin

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ এএম
৩৮৩ পঠিত
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব দলগুলোর রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ছে
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলে...

ইসরায়েলের নির্বাচনে আরব নাগরিকদের ভোট ও তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর রাজনৈতিক গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এবারের নির্বাচনে সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দলগুলোর অবস্থান, শর্ত এবং অন্য রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে মতপার্থক্য জোট গঠনের আলোচনাকে জটিল করে তুলেছে।

ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনের আংশিক হিসাব ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের পূর্বাভাসে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কি না, তা নিয়ে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব পূর্বাভাস চূড়ান্ত ফল নয়।

আরব দলগুলোর মধ্যে মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম সরকারে অংশ নেওয়ার পক্ষে। ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোটকে সমর্থন দিয়ে সরকার টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল দলটি। এবারও একই ধরনের সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তবে আব্বাসের মতে, আগে নিশ্চিত হতে হবে সরকার গঠনের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে কি না, এরপর আলোচনা হতে পারে শর্ত নিয়ে।

অন্যদিকে, হাদাশ, তা’আল ও বালাদকে নিয়ে গঠিত জয়েন্ট লিস্ট সরকারে সরাসরি যোগ দেওয়ার পরিবর্তে নেতানিয়াহুর বিকল্প সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী। দলটির নেতা ইউসেফ জাবারিন অপরাধ দমনে অর্থায়নসহ কার্যকর ও তদারকিযোগ্য পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছেন। তবে যুদ্ধনীতি, বসতি সম্প্রসারণ ও জাতীয় ইস্যুতে দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন নিয়ে ইসরায়েলের ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও বিভক্তি রয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট রা’আমকে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ইয়ার গোলান আরব দলকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটও আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন। এসব মতপার্থক্য সরকার গঠনের সমীকরণকে আরও জটিল করেছে।

ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনাতেও ভিন্নমত রয়েছে। একদিকে, আরব নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পার্লামেন্টে প্রতিনিধি নির্বাচিত করছেন এবং সরকার গঠনের আলোচনায় ভূমিকা রাখছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের ভেতরে বৈষম্য এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গুরুতর বিতর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব বিষয়কে আলাদা প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করা জরুরি।

আরব দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলেও পার্থক্য রয়েছে। কেউ সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখতে চায়, আবার কেউ সরকারের বাইরে থেকে নির্দিষ্ট শর্তে সমর্থন দেওয়ার পক্ষে। ফলে কেবল আসনসংখ্যা নয়, অপরাধ দমন, জনসেবা, নিরাপত্তা ও জাতীয় নীতির মতো বিষয়েও সমঝোতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নির্বাচনের ফল শেষ পর্যন্ত যে সরকারই গঠন করুক, আরব দলগুলোর অবস্থান ইসরায়েলের জোট রাজনীতি ও নাগরিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। তবে তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে চূড়ান্ত ফলাফল, সম্ভাব্য জোটের শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার ওপর।

সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স