|
| |
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মায়ের মৃত্যুতে ৮ বছর পর কারাগারের বাইরে কাজল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
৪৪৯ পঠিত
মায়ের মৃত্যুতে ৮ বছর পর কারাগারের বাইরে কাজল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন চিকিৎসক ডা. সাধন চৌধুরীর স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজল চন্দ্র মহন্ত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে পুলিশের পাহারায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী মহাশ্মশানে গিয়ে মায়ের সৎকারে অংশ নেন তিনি। প্রায় ৮ বছর পর কারাগারের বাইরে এসে মায়ের...
মায়ের মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন চিকিৎসক ডা. সাধন চৌধুরীর স্ত্রী হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি কাজল চন্দ্র মহন্ত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে পুলিশের পাহারায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ী মহাশ্মশানে গিয়ে মায়ের সৎকারে অংশ নেন তিনি। প্রায় ৮ বছর পর কারাগারের বাইরে এসে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার এ ঘটনায় শ্মশানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কাজল চন্দ্র মহন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার কাঁটাবাড়ী গ্রামের মৃত কার্তিক চন্দ্র মহন্ত ও রিনা রানী মহন্তের একমাত্র ছেলে। বুধবার সকালে অসুস্থতাজনিত কারণে তার মা রিনা রানী মহন্ত মারা যান। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হলে তা মঞ্জুর করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্যারোলে মুক্তি পান কাজল। পুলিশের কঠোর পাহারায় তাকে ফুলবাড়ী মহাশ্মশানে নেওয়া হয়। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করে মায়ের সৎকারে অংশ নেন তিনি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কাজলকে একনজর দেখতে শ্মশানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও আত্মীয়স্বজনেরা। এ সময় ফুলবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহমুদ আলম লিটনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সৎকার শেষে পুলিশের পাহারায় কাজল চন্দ্র মহন্তকে আবার দিনাজপুর জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ফুলবাড়ী পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, অসুস্থতাজনিত কারণে রিনা রানী মহন্তের মৃত্যু হয়। মায়ের সৎকারে ছেলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনটি মঞ্জুর করলে কাজলকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে গৃহবধূ তপতি রানীকে স্বামী সাধনা নন্দ চৌধুরী ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিমা রানী, ছোট স্ত্রীর ছেলে আকাশ চৌধুরী ও তার বন্ধু কাজল চন্দ্র মোহন্ত এবং জীবন রবিদাসের সহায়তায় তপতি রানীকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে মরদেহে আগুন দিয়ে দগ্ধ অবস্থায় মরদেহ ফুলবাড়ী পৌরএলাকার সুজাপুর গ্রামের বাঁশ ঝাড়ে ফেলে দেয়। এ ব্যাপারে নিহতের ছেলে কাস্টমস কর্মকর্তা শুভনন্দ চৌধুরী ৭ এপ্রিল নিজ পিতা সাধনা নন্দ চৌধুরীসহ পাঁচজনকে আসামি করে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে পুলিশ মামলায় স্ত্রী হত্যার অন্যতম আসামি স্বামী সাধনা নন্দ চৌধুরী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রতিমা রানী, ২য় স্ত্রীর ছেলে আকাশ চৌধুরী, কাজল চন্দ্র মোহন্ত এবং জীবন রবিদাসের বিরুদ্ধে বিচারের জন্য আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করেন। ২০২২ সালের ১১ মে বিকেল সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি প্রতিমা রানী, আকাশ চৌধুরী ও কাজল চন্দ্র মোহন্তকে মৃত্যুদণ্ড দেন। সাধনা নন্দ চৌধুরীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও জীবন রবিদাসকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। পরে উচ্চ আদালতের অপিলে কাজল চন্দ্র মোহন্ত মৃত্যুদণ্ডে পরিবর্তে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত হন। রায় ঘোষণার পর থেকে কাজল চন্দ্র মোহন্ত দিনাজপুর কারাগারে সাজা খাটছেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স