|
| |
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সব সম্পত্তির বিনিময়ে হলেও মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম
২৩৫ পঠিত
সব সম্পত্তির বিনিময়ে হলেও মুক্তি চান মাদ্রাসাশিক্ষক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নেত্রকোনার মদনে বহুল আলোচিত ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় আগামী ১১ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এ দিন ধার্য হয়েছে। শেষ শুনানিতে নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে হলেও মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন প্রধান আসামি সাগর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্র...

নেত্রকোনার মদনে বহুল আলোচিত ১১ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় আগামী ১১ নভেম্বর ঘোষণা করা হবে। যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের এ দিন ধার্য হয়েছে। শেষ শুনানিতে নিজের সব সম্পদের বিনিময়ে হলেও মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন প্রধান আসামি সাগর।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুছ সালামের আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের তারিখ ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, যুক্তিতর্কের একপর্যায়ে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর বিচারকের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন। আকুতি জানায়, তার যা সম্পদ রয়েছে, সব কিছুর বিনিময়ে এ মামলা থেকে মুক্তির।

স্ত্রী ও সন্তানের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন কারাগারে থাকলে তাদের দেখাশোনা ও ভরণপোষণ কঠিন হয়ে পড়বে।

শুনানির একপর্যায়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আনিসুর রহমানের আপস প্রসঙ্গ তুললে তা বিচারক নাকচ করে দেন। বিচারক জানান, তারা কখনো আপসের বিষয়ে কথা বলেননি। এ সময় ঘটনাস্থলের আশপাশে সিসিক্যামেরা ছিল কি না, সেটিও জানতে চান আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. নূরুল কবীর রুবেল আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটিকে ওই শিক্ষক একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের হাতে থাকা সাক্ষ্য, নথিপত্র ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, মদনের কাইটাইল ইউনিয়নের এলাকায় একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়তো শিশুটি। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর। মাদ্রাসায় থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরবর্তীতে শিশুর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের নজরে আসে বিষয়টি। পরীক্ষানিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।

এরপর গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। মামলায় সাগরের পাশাপাশি তার ভাই মামুন মিয়াকেও আসামি করা হয়।

মামালার খবর পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান শিক্ষক সাগর। পরে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে আমানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি ডিএনএ সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। 

মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে শিশুটি সন্তান প্রসবের পর। আদালতের নির্দেশক্রমে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে নবজাতকের নমুনার সঙ্গে মামলার আসামি সাগরের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। আগস্টে প্রকাশিত সিআইডির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নবজাতক সন্তানের সঙ্গে শিক্ষক সাগরের ডিএনএর ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ার কথা জানানো হয়। এটি মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণ হিসেবে সামনে আসে।

এরপর ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার এসআই মো. আক্তারুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগর এবং তার ভাই মাইমুন ওরফে মামুন মিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়।

বুধবার যুক্তিতর্ক শেষে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার অভিযোগ করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে। পিপি মো. নুরুল কবীর রুবেল বলেন, রায়ের আগে মামালাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে যুক্তিতর্ক ও মামলার প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা মনে করি, অভিযোগ প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হয়েছে। আশা করছি, আদালতে সন্দেহাতীতভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হবে এবং আসামি সর্বোচ্চ সাজা পাবেন।’

সূত্র: কালবেলা