|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম
১৭৩ পঠিত
হরমুজ প্রণালিতে মাইন বিস্ফোরণে চার তেলবাহী জাহাজে আগুন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির অনুমোদনহীন পথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করার সময় মাইন বিস্ফোরণে চারটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইরানের সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে।

এ ঘটনার এক দিন আগেই মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছিল, প্রণালিটি থেকে মাইন অপসারণ করে তারা জাহাজ চলাচলের পথ পরিষ্কার করেছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে গত ২৪ ঘণ্টায় মাইন বিস্ফোরণে তিনটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গেছে। জাহাজগুলো প্রণালির দক্ষিণ দিকের অনুমোদনহীন পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

মাইন বিস্ফোরণে প্রণালির পূর্ব দিকে আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লেগেছে বলে জানিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। জাহাজটি প্রণালির সংরক্ষিত ও বিপজ্জনক এলাকা দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মাইন বিস্ফোরণে একাধিক জাহাজে আগুন ধরার খবর দিয়েছে ইরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও দাবি করেছে, তারা জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করেছে।

আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম তিনটি জাহাজ তাদের রাডার ও নেভিগেশন সিস্টেম বন্ধ করে রেখেছিল। এমনকি তারা ইরানি নৌবাহিনীর সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করে।

তবে ঠিক কোন সময়ে জাহাজগুলোয় আগুন লেগেছে এবং সেগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও গতকাল রাতে জানায়, তারা ওমানের খাসাবের উত্তর-পূর্বে প্রায় ২৫ নটিক্যাল মাইল (৪৬ কিলোমিটার) দূরে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেয়েছে। এর আগে ওই এলাকায় আরও দুটি নৌযানে আগুন ধরার খবর জানিয়েছিল সংস্থাটি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় মাইন বিস্ফোরণে একাধিক জাহাজে আগুন ধরার খবর দিয়েছে ইরান। এর পরিপ্রেক্ষিতে অঞ্চলটিতে সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও দাবি করেছে, তারা জাহাজ চলাচলের প্রধান পথগুলো থেকে সব মাইন অপসারণ করেছে।

তবে গতকাল সেন্টকমের এ দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি এক্স পোস্টে লেখেন, বিবৃতিতে না বলে এ দাবির পক্ষে যথাযথ প্রমাণ দিন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।

এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করায় ইরানের বন্দরগুলোয় নৌ অবরোধ দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র; পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের হামলা থেকে রক্ষা করে চলাচলে সহায়তা করছে। গত রোববার সেন্টকম জানায়, গ্রীষ্মকাল থেকে এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রপ্তানিতে তারা সহায়তা করেছে।

গতকাল দেওয়া বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘হরমুজ প্রণালির অনুমোদনহীন পথে মাইন পেতে রাখা হয়েছে। এসব পথে চলাচলের দায় জাহাজের মালিক ও নাবিকদের। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টকমের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে তাঁদের কান দেওয়া উচিত নয়।’

সূত্র: প্রথম আলো