|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চাকরি হারানো অনুপ্রিয়া এখন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০১:২৩ পিএম
১৯১ পঠিত
চাকরি হারানো অনুপ্রিয়া এখন সফল চলচ্চিত্র প্রযোজক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা থেকে শতকোটি টাকার চলচ্চিত্রের প্রযোজক হয়ে ওঠা, অনুপ্রিয়া নগরের জীবনের এই গল্পটি রূপালি পর্দার কোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম কিছু নয়। একসময় অ্যাপলের চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দ্বিতীয় ধাপেই বাদ পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সে ঘটনাই তাকে এমন এক আধ্যাত্মিক পথের...
চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতা থেকে শতকোটি টাকার চলচ্চিত্রের প্রযোজক হয়ে ওঠা, অনুপ্রিয়া নগরের জীবনের এই গল্পটি রূপালি পর্দার কোনো চিত্রনাট্যের চেয়ে কম কিছু নয়। একসময় অ্যাপলের চাকরি পাওয়ার লক্ষ্যে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে দ্বিতীয় ধাপেই বাদ পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে সে ঘটনাই তাকে এমন এক আধ্যাত্মিক পথের সন্ধান দেয়, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবসের নাম। পরবর্তী সময়ে নিম করোলি বাবার জীবন ও দর্শন নিয়ে নির্মিত ‘হনুমান অংশ’ সিনেমার অন্যতম প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। স্টিভ জোবসের কর্মজীবন ও সাফল্যের পথপরিক্রমা ঘেঁটে দেখতে গিয়ে অনুপ্রিয়া জানতে পারেন যে, উত্তরাখণ্ডের কৈঞ্চি ধামে গিয়ে নিজের সৃষ্টিশীল ভাবনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন জোবস। অ্যাপল প্রতিষ্ঠাতার স্মৃতিবিজড়িত এ আশ্রমটি সম্পর্কে জানার পর থেকেই তার মনে গভীর আগ্রহ জন্মায়। সেই কৌতূহল থেকেই সেখানে তার যাওয়া এবং ধীরে ধীরে ওই আধ্যাত্মিক গুরুর প্রতি অগাধ বিশ্বাসের সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময় বিশাল চতুর্বেদী পরিচালিত ‘হনুমান অংশ’ সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হন অনুপ্রিয়া। সিনেমাটির প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল মাত্র দেড় কোটি টাকা। ছবির তিনজন প্রযোজকের একজন হিসেবে নিজের জমানো সঞ্চয় থেকে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তিনি। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই নারী প্রযোজক জানান, তার এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রথমে ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন তার বাবা। মেয়ের বিদেশ বিভূঁইয়ে পড়াশোনা, অর্থনীতিতে ডিগ্রি এবং জুরিখে প্রতিষ্ঠিত চাকরি ছেড়ে সিনেমার মতো অনিশ্চিত দুনিয়ায় বড় অংকের সঞ্চয় ঢেলে দেওয়াকে সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি তিনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো ধরনের পূর্বপরিচিতি বা যোগাযোগ না থাকায় শঙ্কা ছিল আরও বহুগুণ বেশি। তবে শেষ পর্যন্ত তার বাবা-মা দুজনেই মেয়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এমনকি ছবিটিকে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি না দিয়ে সরাসরি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনের সিদ্ধান্তে মেয়ের পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন তারা। অনুপ্রিয়ার মতে, সিনেমাটি যদি বক্স অফিসে ব্যর্থও হতো, তবুও নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে তিনি একচুলও নড়তেন না। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, সমসাময়িক দর্শকরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে ছবিটি গ্রহণ নাও করতে পারে, কিন্তু আগামীদিনের তরুণ প্রজন্ম ঠিকই এই সৃষ্টির সঙ্গে একধরনের আত্মিক সংযোগ খুঁজে পাবে। শিশু ও কিশোরদের মনে আধ্যাত্মিকতার বীজ বুনে দেওয়ার তাড়নাটাই ছিল তার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা। মুক্তির প্রথম সপ্তাহে মাত্র এক কোটির সামান্য বেশি আয় এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে মোটে ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শনী—শুরুর দিকে ছবিটির ভাগ্য মোটেও আশাব্যঞ্জক ছিল না। কিন্তু নাটকীয়ভাবে তৃতীয় রোববারের পর থেকে চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যেতে শুরু করে। একদিনেই আড়ই কোটি টাকার ব্যবসা করার পর ছবির আয় হু হু করে বাড়তে থাকে। মাত্র দুই কোটিরও কম বাজেটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির ৮৩ দিনের মাথায় বিশ্বজুড়ে ৪৫২ কোটি টাকার বেশি আয় করে তাক লাগিয়ে দেয়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, দেশের বাইরে থেকে ফিরে বাবার পক্ষেও মুম্বাইয়ের কোনো সিনেমা হলে এই ছবি দেখার একটি আসন জোগাড় করা সম্ভব হয়নি, কারণ সব হলই তখন ছিল হাউসফুল। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

সূত্র: কালবেলা