|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কমনীয় কমলাঘণ্টি ফুল

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৫:৩৫ এএম
৩৯১ পঠিত
কমনীয় কমলাঘণ্টি ফুল
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
পৃথিবীতে টেকোমা গণের সাতটি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে এ গণের অন্তত তিনটি প্রজাতির উদ্ভিদ আছে।

হেমন্তের এক দুপুরে চোখ আটকে গেল একগুচ্ছ ফুলে। ফুলগুলোর রং কমলা ও হলুদের মিশেল। মনে হলো, সূর্যের আলো যেন ফুলের পাপড়িতে এসে আশ্রয় নিয়েছে। থোকায় থোকায় ফোটা ফুলগুলো এমনভাবে সাজানো, যেন আলোর রং মেখে পুষ্পগুচ্ছ দিয়ে ধরিত্রীকে অঞ্জলি নিবেদন করছে।

আগারগাঁওয়ে জাতীয় গ্রন্থাগার ও আর্কাইভ ভবনের চত্বরে বেশ কিছু ফুল ও বাহারি গাছ আছে। সেগুলোর মধ্যে অনুচ্চ, ঝোপালো এই গাছ আলাদা করে নজর কাড়ে। হেমন্তের রোদে তার ফুলের সৌন্দর্য আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ঋতু বদলালেও তার শোভা আরও কিছুদিন ধরে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখবে।

এ গাছের এক সহোদরাকে আমরা প্রায় সবাই চিনি। নাম চন্দ্রপ্রভা বা সোনাপাতি। এ ফুলের রং স্বর্ণাভ হলুদ, যেন পূর্ণিমার চাঁদের আলো ছড়িয়ে আছে পাপড়িতে। আর তারই আরেক সহোদরার ফুলের রং কমলা। গাছটি সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছে। এ কারণে এখনো এর কোনো বাংলা নামকরণ হয়নি। ইংরেজিতে এর নাম অরেঞ্জ বেল বা অরেঞ্জ ট্রাম্পেট ফ্লাওয়ার। ফুলের গড়ন ও রঙের সঙ্গে মিল রেখে ইংরেজি নামের আদলে এর বাংলা নাম হতে পারে ‘কমলাঘণ্টি’।

সোনাপাতি ও কমলাঘণ্টি— দুটিই বিগনোনিয়েসি গোত্রের উদ্ভিদ। এ গোত্রের ফুলের গড়ন অনেকটা ঘণ্টার মতো। পারুল ও ধারমারা ফুলের গড়নও একই রকম। এরা সবাই এ গোত্রের টেকোমা গণের অন্তর্ভুক্ত। টেকোমা নামটি এসেছে নাহুয়াটাল ভাষার ‘টেকোমাক্সোচিটল’ শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘নলাকার ফুল’।

পৃথিবীতে টেকোমা গণের সাতটি প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে এ গণের অন্তত তিনটি প্রজাতির উদ্ভিদ আছে। এ দেশে অনেক দিন ধরেই সোনাপাতি (Tecoma stans) গাছ বিভিন্ন বাগান ও উদ্যানে লাগানো হচ্ছে। রমনা উদ্যানে গেলে এ গাছের ছড়াছড়ি চোখে পড়ে। খামারবাড়ি মোড় থেকে বিজয় সরণি মেট্রোস্টেশনের দিকে যাওয়ার পথের সড়কদ্বীপেও রয়েছে এ গাছ। প্রায় সারা বছরই এতে ফুল ফোটে। তবে শরৎ ও হেমন্তে এ ফুলের আধিক্য বেশি দেখা যায়।

খুলনার বয়রায় এক নার্সারিতে ফোটা হাইব্রিড কমলাঘণ্টি ফুল

চন্দ্রপ্রভা বা সোনাপাতি চিরসবুজ গুল্ম কিংবা ঝোপালো ছোট বৃক্ষ। গাছটি তিন থেকে চার মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা যৌগিক। একটি পত্রদণ্ডের দুই পাশে দুই থেকে তিন জোড়া পত্রক থাকে, শীর্ষে থাকে আরেকটি। প্রতিটি পত্রকের কিনারা করাতের দাঁতের মতো খাঁজকাটা।

কমলাঘণ্টি (Tecoma fulva subsp. guarume) আধা চিরসবুজ, দ্রুতবর্ধনশীল গুল্ম বা ছোট বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ। গাছটি সাধারণত এক থেকে তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। প্রচুর ডালপালা ও শাখা-প্রশাখা নিয়ে বেশ ঝোপালো হয়ে ওঠে। নিয়মিত ছেঁটে রাখলে গাছ খাটো ও বেশি ঝোপালো থাকে, ফুলও ফোটে বেশি।

পাতা পক্ষল যৌগিক, চকচকে সবুজ। পত্রকের কিনারা খাঁজকাটা। গাছে গুচ্ছাকারে ফোটে আগুনের মতো কমলা-লাল রঙের নলাকার, ঘণ্টাকৃতির ফুল। ফুলের গোড়ার অংশ নলাকার হলেও মুখের দিকে চওড়া। পাপড়ি পাঁচটি খণ্ডে বিভক্ত। ফুলের ভেতরে গলার কাছে থাকে গাঢ় রঙের আঁচড় বা লম্বা রেখা। বর্তমানে এর কয়েকটি সংকর জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এসব জাতের ফুলে অন্য রঙের বৈচিত্র্যও দেখা যায়। সংকর জাতের গাছগুলো তুলনামূলক খাটো বা বামন আকৃতির হওয়ায় টবে লাগানোর উপযোগী।

ফুলের মধু খেতে মৌমাছি, প্রজাপতি ও হামিংবার্ড আসে। পিঁপড়ারাও ফুলে ভিড় করে। গ্রীষ্মকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়। শরৎ ও হেমন্তে প্রচুর ফুল ফোটে। শীতকালেও কিছু ফুল দেখা যায়।

গাছটি কম ও বেশি, দুই ধরনের তাপমাত্রাই সহ্য করতে পারে। খরাও সইতে পারে, বিশেষ করে বড় গাছগুলো। এর ফল সরু, লম্বা ও চ্যাপটা। ফল শুঁটি বা ক্যাপসুলের মতো এবং দুটি খণ্ডে বিভক্ত। ফল ধরার সময় সবুজ থাকে। পাকতে শুরু করলে শুকিয়ে কাষ্ঠল বাদামি রং ধারণ করে। পুরোপুরি পেকে গেলে শুঁটিটি মাঝ বরাবর ফেটে যায়, সেখান থেকে বীজ বেরিয়ে পড়ে। তবে চন্দ্রপ্রভার মতো এ গাছে বেশি ফল ও বীজ হয় না।

রোদযুক্ত, খোলামেলা জায়গায় লাগালে গাছের পাতা ও ফুলের রং ভালো হয়। তবে আধোছায়াতেও এটি জন্মাতে পারে। সাধারণত আধা-পরিণত কাণ্ড বা ডালের কাটিং থেকে এ গাছের চারা তৈরি করা হয়। বীজ থেকেও চারা উৎপাদন সম্ভব। উদ্ভিদটির আদি নিবাস পেরু।

সূত্র: প্রথম আলো