ল্যাপটপের পাওয়ার বাটন চেপে বন্ধ করলে কেন আপনার দরকারি ফাইল নষ্ট হতে পারে
গণমাধ্যম ডেক্স
হ্যাং হয়ে যাওয়া ল্যাপটপ বা পিসি বন্ধ করতে গিয়ে রাগের মাথায় পাওয়ার বাটন চেপে ধরে আপনিও কি নিজের অজান্তেই গুরুত্বপূর্ণ ডেটা হারিয়ে ফেলছেন? আপনার একটিমাত্র ভুলের কারণে চোখের পলকে গায়েব হয়ে যেতে পারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে করা মহামূল্যবান কাজ। কী এমন হয় পাওয়ার বাটন চেপে ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বন্ধ করলে…
আপনি খুব জরুরি একটি ভিডিও কলে আছেন বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। হঠাৎ স্ক্রিনের কার্সরটা গোল হয়ে ঘুরতে শুরু করল। মাউসে ক্লিক করলেও কিছুই কাজ করছে না। ল্যাপটপ হ্যাং হয়ে গেছে। বিরক্ত হয়ে কম্পিউটারের পাওয়ার বাটনটি চেপে ধরলেন, স্ক্রিনটা কয়েক সেকেন্ড পরেই বন্ধ হয়ে গেল।
পরের দিন সকালে ল্যাপটপ চালু করে দেখলেন সবকিছু ঠিকঠাকই আছে। কিন্তু যে ডকুমেন্টটি আপনি গতকাল এডিট করছিলেন, সেটিতে ঢুকে দেখলেন আপনার লেখা শেষ প্যারাটি পুরোপুরি উধাও! তখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কেন পৃথিবীর সব আইটি এক্সপার্ট পাওয়ার বাটন চেপে পিসি বন্ধ করতে মানা করেন!
কারণ, কম্পিউটার বন্ধ করা মানেই কেবল সুইচ অফ করা নয়। পাওয়ার বাটনে একবার হালকা চাপ দেওয়া আর দীর্ঘক্ষণ চেপে ধরে রাখার পরিণতি সম্পূর্ণ আলাদা। এর মধ্যে কেবল একটি উপায়ই আপনার কম্পিউটারকে তার চলমান কাজগুলো ঠিকঠাক গুছিয়ে রাখতে পাড়ে। চলুন, পাওয়ার বাটন চেপে পিসি বন্ধ করার বিপদগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।
যখনই বিদ্যুৎ চলে যায়, এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যেই র্যাম পুরোপুরি ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়। চার্জ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার সেভ না করা প্যারাগ্রাফটিও মুছে যায় চিরতরে।
বিদ্যুৎ চলে গেলেই র্যাম কেন সব ভুলে যায়
যেকোনো কম্পিউটার মূলত দুটি জায়গায় তথ্য জমা রাখে। আপনার হার্ডড্রাইভ বা এসএসডি হলো সেই জায়গা, যেখানে আপনার ফাইলগুলো স্থায়ীভাবে থাকে। অন্যদিকে র্যাম হলো কম্পিউটারের অত্যন্ত দ্রুতগতির একটি অস্থায়ী মেমোরি, যা কম্পিউটার কোনো কাজ করার সময় ব্যবহার করে। আপনি কিবোর্ডে যে অক্ষরগুলো টাইপ করেন, তা সবার আগে এই র্যামেই গিয়ে জমা হয়। আপনি যখন সেই পরিবর্তনগুলো সেভ করে মূল ড্রাইভের দিকে পাঠান, কেবল তখনই আপনার ডিস্ক সেগুলো দেখতে পায়।
এই দুই ধরনের মেমোরি তথ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা আচরণ করে। এসএসডির ফ্ল্যাশ মেমোরি একটি সুরক্ষিত সেলের ভেতরে বৈদ্যুতিক চার্জ আটকে রাখে, তাই বিদ্যুৎ চলে গেলেও সেই চার্জ বা তথ্য হারায় না।

কিন্তু র্যাম প্রতিটি তথ্যকে অতি সামান্য চার্জ হিসেবে ধরে রাখে, যা মুহূর্তের মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। তাই র্যামের চিপগুলোকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ দিয়ে সেই চার্জ রিফ্রেশ করতে হয়।
যখনই বিদ্যুৎ চলে যায়, এক সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যেই র্যাম পুরোপুরি ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়। চার্জ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার সেভ না করা প্যারাগ্রাফটিও মুছে যায় চিরতরে। আপনার ডকুমেন্ট ঠিক ততটুকুই সুরক্ষিত থাকে, যতটুকু তথ্য ইতোমধ্যেই র্যাম থেকে মূল ডিস্কে পৌঁছাতে পেরেছিল।
র্যাম প্রতিটি তথ্যকে অতি সামান্য চার্জ হিসেবে ধরে রাখে, যা মুহূর্তের মধ্যেই ফুরিয়ে যায়। তাই র্যামের চিপগুলোকে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ দিয়ে সেই চার্জ রিফ্রেশ করতে হয়।
কম্পিউটার কেন ডিস্কে ফাইল সেভ করার জন্য অপেক্ষা করে
আপনার হয়তো মনে হতে পারে, সেভ বাটনে ক্লিক করা মাত্রই বুঝি ফাইলটি সোজা আপনার ডিস্কে চলে যায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই এমনটা হয় না! আপনার অপারেটিং সিস্টেম প্রথমে সেই সেভ করা ডেটাগুলোকে র্যামের একটি বিশেষ অংশে জমিয়ে রাখে। একে বলে রাইট ক্যাশ। এরপর এটি আপনার ব্যবহৃত অ্যাপটিকে জানিয়ে দেয় ‘কাজ শেষ’। অথচ ডেটাগুলো তখনো মূল ডিস্কে যায়নি; অপারেটিং সিস্টেম একটু সময় নিয়ে পরে সেগুলো ডিস্কে পাঠায়।
এটি কিন্তু অপারেটিং সিস্টেমের কোনো অলসতা নয়, বরং কাজ দ্রুত করার একটি কৌশল। র্যামের তুলনায় হার্ডডিস্ক বা এসএসডিতে কোনো কিছু লিখতে অনেক বেশি সময় লাগে। তাই অপারেটিং সিস্টেম ছোটখাটো অনেকগুলো লেখাকে একসঙ্গে জমিয়ে তারপর বড় একটি বান্ডেল হিসেবে ডিস্কে পাঠায়।

মাইক্রোসফট তাদের নিজস্ব ডকুমেন্টে পরিষ্কার জানিয়েছে, এই ‘ডিস্ক রাইট ক্যাশিং’ পিসির পারফরম্যান্স বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে একই সঙ্গে তারা এও সতর্ক করেছে, বিদ্যুৎ চলে গেলে এর কারণে আপনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও হারিয়ে যেতে পারে।
এখন প্রশ্ন হলো, এই ক্যাশ মেমোরিতে ডেটা কতক্ষণ অপেক্ষা করে? লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেমে এর ডিফল্ট সময় হলো ৫ সেকেন্ড। অর্থাৎ, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে আপনার সর্বশেষ ৫ সেকেন্ডের কাজ পুরোপুরি গায়েব হয়ে যেতে পারে। উইন্ডোজ এবং ম্যাকওএসের ক্ষেত্রে এই সময়ের হিসাবটা একটু আলাদা। সোজা কথায়, স্ক্রিনে ‘সেভ হয়েছে’ দেখার পরও কয়েক সেকেন্ডের জন্য আপনার ফাইলটি মূল ডিস্কে সেভ হয় না!
আপনার অপারেটিং সিস্টেম প্রথমে সেভ করা ডেটাগুলোকে র্যামের একটি বিশেষ অংশে জমিয়ে রাখে। একে বলে রাইট ক্যাশ। এরপর এটি আপনার ব্যবহৃত অ্যাপটিকে জানিয়ে দেয় কাজ শেষ।
সঠিকভাবে শাটডাউন করলে কী সুবিধা পাওয়া যায়
আপনি যখন নিয়ম মেনে ‘Shut Down’-এ ক্লিক করেন, তখন অপারেটিং সিস্টেম একটি বিশাল চেকলিস্ট ধরে কাজ শুরু করে। এটি ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা প্রতিটি প্রোগ্রামকে বন্ধ হওয়ার নির্দেশ দেয়। ঠিক তখনই আপনার সামনে সেই পরিচিত পপ-আপ মেসেজটি ভেসে ওঠে—‘আপনি কি ফাইলটি সেভ করতে চান?’ এরপর এটি রাইট ক্যাশে জমে থাকা সব তথ্য মূল ডিস্কে লিখে ফেলে।
সবশেষে এটি এমন একটি কাজ করে, যা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই থেকে যায়। অপারেটিং সিস্টেম ড্রাইভকে জানিয়ে দেয়, একটু পরই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে যাচ্ছে।
এসএসডি ড্রাইভের নিজস্ব একটি ছোট্ট মেমোরি বাফার থাকে। অনেক সময় ফ্ল্যাশ মেমোরিতে ডেটা পুরোপুরি পৌঁছানোর আগেই ড্রাইভটি কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়, তার কাজ শেষ। তাই কম্পিউটার ড্রাইভটিকে একটি স্ট্যান্ডবাই কমান্ড পাঠিয়ে তার উত্তরের জন্য অপেক্ষা করে।

উত্তর দেওয়ার আগেই এসএসডি তার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করে ফেলে এবং কোন ডেটা কোথায় রাখা হয়েছে, তার একটি আপডেট ম্যাপ তৈরি করে সেভ করে রাখে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পরই কেবল কম্পিউটারের পাওয়ার অফ হয়।
এই এতসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করতে কয়েক সেকেন্ড থেকে শুরু করে এক মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যখন পাওয়ার বাটন চেপে ধরে রাখেন, তখন মাত্র ৪ সেকেন্ডের মধ্যে এর কোনোটিই সম্পন্ন হওয়ার সুযোগ পায় না।
এসএসডি ড্রাইভের নিজস্ব একটি ছোট্ট মেমোরি বাফার থাকে। অনেক সময় ফ্ল্যাশ মেমোরিতে ডেটা পুরোপুরি পৌঁছানোর আগেই ড্রাইভটি কম্পিউটারকে জানিয়ে দেয়, তার কাজ শেষ।
পাওয়ার বাটন ৪ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে ঠিক কী ঘটে
আধুনিক পিসির পাওয়ার বাটনটি সাধারণ বৈদ্যুতিক সুইচের মতো নয়। এটি কিবোর্ডের বোতামের মতোই একটি ইনপুট মাত্র। এই বাটনে একবার হালকা চাপ দিলে অপারেটিং সিস্টেমের কাছে একটি সিগন্যাল যায়। এর থেকে বোঝা যায়, কম্পিউটার শাটডাউন হতে পারে। তখনই আগের বলা চেকলিস্ট ধরে কাজ শুরু করে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ।
কিন্তু বাটনটি দীর্ঘক্ষণ চেপে ধরে রাখার বিষয়টি একদম আলাদা। আর এর পেছনের কলকাঠি নাড়ে হার্ডওয়্যার নিজেই। মাদারবোর্ডে পাওয়ার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা চিপটি একটি নির্দিষ্ট টাইমার মেনে চলে। ইন্টেলের ডেটাশিটে এর নিয়ম খুব স্পষ্ট করে লেখা আছে—পাওয়ার বাটনটি টানা অন্তত চার সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে হার্ডওয়্যার বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে। তখন সিস্টেম কী কাজ করছিল, তা মোটেও দেখা হয় না। এক্ষেত্রে অপারেটিং সিস্টেমের কাছে কোনো অনুমতিই চাওয়া হয় না, ফলে এটি ক্যাশ খালি করার বা ড্রাইভকে সতর্ক করার কোনো সুযোগই পায় না। একে বলা হয় পাওয়ার বাটন ওভাররাইড। প্রতিটি পিসিতেই এই ব্যবস্থা থাকে।

তবে এই ওভাররাইড ব্যবস্থাটি কিন্তু ইচ্ছে করেই রাখা হয়েছে। ঘুরতে থাকা অপারেটিং সিস্টেম যেহেতু নিজের শাটডাউন চেকলিস্ট চালাতে পারে না, তাই এমন একটি বিকল্প সুইচ থাকা জরুরি যা সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল নয়। অ্যাপলের ম্যাক কম্পিউটারেও ঠিক একই ব্যবস্থা রয়েছে।
সুতরাং, দীর্ঘক্ষণ পাওয়ার বাটন চেপে ধরা মানে আক্ষরিক অর্থেই প্লাগ টেনে খুলে ফেলার সমান। এর ফলে আপনার ডেটা বাঁচানোর সমস্ত নিরাপত্তাব্যবস্থাই এড়িয়ে যাওয়া হয়।
ইন্টেলের ডেটাশিটের নিয়ম খুব স্পষ্ট করে লেখা আছে—পাওয়ার বাটনটি টানা অন্তত চার সেকেন্ড চেপে ধরে রাখলে হার্ডওয়্যার বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।
ফোর্স শাটডাউন কি আপনার ফাইল নষ্ট করতে পারে
প্রথমে ভালো খবরটি দিয়ে শুরু করা যাক। পরের দিন সকালে আপনার ল্যাপটপটি যে একদম ঠিকঠাকভাবে চালু হয়, তার পেছনে রয়েছে জার্নালিং নামের একটি চমৎকার ফিচার। ফাইল সিস্টেম তার নিজস্ব কাঠামো পরিবর্তন করার আগেই জার্নাল নামক একটি লগে সেই পরিকল্পনাটি লিখে রাখে। কাজ অর্ধেক হওয়ার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে, পরের বার পিসি চালু হওয়ার সময় এটি সেই জার্নালটি পড়ে নেয়। এরপর এটি হয় সেই অর্ধেক হওয়া কাজটি শেষ করে, অথবা সেটি পুরোপুরি বাতিল করে দেয়। ফলে ফাইল সিস্টেমের কোনো বড় ক্ষতি হয় না।
এবার আসা যাক খারাপ খবরে। ডিফল্টভাবে, জার্নালিং ব্যবস্থাটি কেবল ফাইল সিস্টেমের মূল কাঠামোকে রক্ষা করে, আপনার ফাইলের ভেতরের তথ্যকে নয়। ফোল্ডারটি হয়তো ঠিকই থাকবে, ফাইলটির নামও সেখানে দেখাবে। কিন্তু ঠিক পাওয়ার কাটের মুহূর্তে যে ফাইলটি রাইট করা হচ্ছিল, সেটি অর্ধেক গায়েব হয়ে যেতে পারে বা আগের ও নতুন ভার্সন মিলে একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা হতে পারে। রাইট ক্যাশে থাকা যেকোনো তথ্য চিরতরে হারিয়ে যায়। আর যে কাজ আপনি সেভই করেননি, তা তো র্যাম থেকে কখনো বেরই হতে পারেনি!
ডিফল্টভাবে, জার্নালিং ব্যবস্থাটি কেবল ফাইল সিস্টেমের মূল কাঠামোকে রক্ষা করে, আপনার ফাইলের ভেতরের তথ্যকে নয়। ফোল্ডারটি হয়তো ঠিকই থাকবে, ফাইলটির নামও সেখানে দেখাবে।
এসএসডি ড্রাইভের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি রয়েছে। সার্ভার-গ্রেডের এসএসডিতে ক্যাপাসিটর থাকে, যার জমানো শক্তি দিয়ে পাওয়ার কাটের পরও অসমাপ্ত কাজ শেষ করা যায়। কিন্তু সাধারণ মানুষের ব্যবহারের ড্রাইভগুলো সাধারণত ‘ইন ফ্লাইট’ বা চলন্ত ডেটাকে সুরক্ষিত করতে পারে না। একটি ল্যাব টেস্টে ১৫টি এসএসডির পাওয়ার হাজারবার হঠাৎ করে কেটে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩টি ড্রাইভেই ডেটা নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মারাত্মক সব সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এমনকি একটি ড্রাইভ পুরোপুরি ডেড হয়ে গিয়েছিল!
হার্ডওয়্যারের ক্ষতির কথা বললে, শুধু পাওয়ার কাটের কারণে ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ পুড়ে যাওয়ার ভয় নেই। এর জন্য অতিরিক্ত তাপ বা বজ্রপাতের প্রয়োজন হয়। তবে হঠাৎ পাওয়ার কাটে আপনার অমূল্য ডেটা হারানোর ঝুঁকি ষোলো আনা থেকেই যায়।
একটি ল্যাব টেস্টে ১৫টি এসএসডির পাওয়ার হাজারবার হঠাৎ করে কেটে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৩টি ড্রাইভেই ডেটা নষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে মারাত্মক সব সমস্যা দেখা দিয়েছিল।
তাহলে কি পাওয়ার বাটন চেপে ধরে পিসি বন্ধ করা ঠিক
একেবারে শেষ উপায় হিসেবে, হ্যাঁ, এটি ঠিক। এই ওভাররাইড ব্যবস্থাটি মূলত এই বিপদের জন্যই তৈরি। পিসি পুরোপুরি হ্যাং করলে জোর করে কর্ড টেনে খোলার চেয়ে বাটন চেপে ধরে বন্ধ করা অনেক ভালো। জার্নালিংয়ের কল্যাণে বেশিরভাগ সময়ই ড্রাইভ এবং এর ভেতরের ডেটা নিরাপদে ফিরে আসে।
কিন্তু এটিকে প্রতিদিনের অভ্যাস বানানো মোটেও ঠিক নয়। যতবার আপনি বাটন চেপে পিসি বন্ধ করবেন, ততবারই আপনি এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকবেন এই আশায় যে, ক্যাশ মেমোরিতে তখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই।

বেশিরভাগ সময় আপনি বেঁচে গেলেও, হঠাৎ একদিন দেখবেন আপনার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে করা স্প্রেডশিট বা গেমের সেভ ফাইলটি গায়েব হয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপারটি ঘটে তখন, যখন ব্যাকগ্রাউন্ডে অপারেটিং সিস্টেমের কোনো সিস্টেম আপডেট চলাকালীন আপনি পিসি জোর করে বন্ধ করে দেন।
তাই হ্যাং হয়ে যাওয়া পিসির পাওয়ার বাটনে হাত দেওয়ার আগে অন্তত এক মিনিট অপেক্ষা করুন। অনেক সময় কম্পিউটার সহজেই ঠিক হয়ে যায়। একটু সময় লাগে এই যা। পাওয়ার বাটন খুব বিপদের সময় ব্যবহার করুন, কিন্তু রোজ এই বাটন ব্যবহার করলে বিপদে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না!
সূত্র: সায়েন্স এবিসি
সূত্র: প্রথম আলো