|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সেদিন অভিনেত্রী হিমুকে হাসপাতালে ভর্তি করে একজন পালিয়ে যায়, মৃত্যুর রহস্য অমীমাংসিত

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:০৪ এএম
৩৩২ পঠিত
সেদিন অভিনেত্রী হিমুকে হাসপাতালে ভর্তি করে একজন পালিয়ে যায়, মৃত্যুর রহস্য অমীমাংসিত
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মৃত্যুর পরে সেদিন উত্তরার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছিল তাঁর মরদেহ। মৃত্যুর কারণ দীর্ঘসময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হোমায়রা হিমু

২০২৩ সালের ২ নভেম্বর। হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে ছোট পর্দার অভিনেত্রী হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর খবর। শুরুতে তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন—কেউ বলছিলেন আত্মহত্যা, কেউ সন্দেহ করছিলেন হত্যা। সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই থেমে যায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে অভিনয় করা এক শিল্পীর পথচলা। আজ তাঁর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী।

মৃত্যুর পরে সেদিন উত্তরার একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছিল তাঁর মরদেহ। মৃত্যুর কারণ দীর্ঘসময় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সেই সময় ছড়িয়ে পরে এই অভিনেত্রীর মৃত্যুর পেছনে রয়েছে রহস্যজনক কারণ। পরদিন তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।

হোমায়রা হিমু। ছবি: ফেসবুক

হিমুর অভিনেত্রী হওয়ার গল্প
হোমায়রা হিমু ১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। লক্ষ্মীপুরে ছোটবেলা কেটেছে হোমায়রা হিমুর। ক্লাস টুতে পড়ার সময় থেকেই কাজ করতেন মঞ্চে। বেসরকারি টিভি চ্যানেল দেশ টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হিমু নিজেই বলেছিলেন, ছোটবেলা থেকেই স্থানীয় হাইফাই কৌতুক শিল্পগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডস নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করতেন তিনি। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর ঢাকায় আসেন হিমু। প্রথমে ভর্তি হন নাগরিক নাট্যাঙ্গনে। এরপর কাজ করেন আরও কয়েকটি নাটকের দলে।

মঞ্চ থেকে ছোট পর্দায়
মঞ্চে কয়েক বছর কাজ করার পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে ফটোশুট করে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় মডেলিংয়ের জন্য জমা দেন এই অভিনেত্রী। তখন এইডস নিয়ে সচেতনতামূলক একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। পরে দেখা যায় আরও কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রে। একটি চায়ের বিজ্ঞাপনচিত্রে তাঁকে দেখার পর প্রথম হিমুকে নাটকে সুযোগ দেন নির্মাতা তাহের শিপন। নাটকের নাম ছিল ‘পি আই’। তাঁর প্রথম সহশিল্পী ছিলেন প্রয়াত দিলীপ চক্রবর্তী। ২০০৫ সালে বিনোদন দুনিয়ায় কাজ শুরু করেন হুমায়রা হিমু। এই সময়ে তাঁর আসল নাম হোমায়রা নুসরাত হিমু থেকে হোমায়রা হিমু হয়।

হোমায়রা হিমু। ফেসবুক থেকে

শেষ দিনগুলোর কথা
অভিনয়ের দীর্ঘ পথচলার শেষ দিকে নিয়মিত কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল হিমুর। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিউ কম থাকায় পরিচালক ও প্রযোজকেরা তাঁকে আগের মতো কাজে নিচ্ছেন না, এ নিয়ে আক্ষেপের কথাও বলেছিলেন তিনি। হোমায়রা হিমুর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তাঁর মা-বাবা কেউ বেঁচে নেই। এসব নিয়ে মাঝেমধ্যে তাঁর মধ্যে একাকিত্ব পেয়ে বসত বলে পরে জানান তাঁর সহকর্মীরা।

মৃত্যু ঘিরে রহস্য
কেউ না থাকায় মৃত্যুর পর তাঁর সব দায়িত্ব পালন করেছেন অভিনয় শিল্পী সংঘ। তখন তারা স্বাভাবিক মৃত্যু মনে করেই পাশে ছিল। কিন্তু পরে মনে সন্দেহ জাগায়। সেই অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবীব নাসিম ঘটনা নিয়ে বলেছিলেন, ‘এর আগেও একইভাবে আরেক অভিনয়শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একজন পালিয়ে যান। এবারও হিমুকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে একজন পালিয়ে যান। এই নিয়ে ঘটনা কী, কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সেটা পোস্টমর্টেম হওয়ার পরেই জানা যাবে। কেউ দায়ী থাকলে আমরা অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলব। কিন্তু এখন আমরা কোনো কিছু বলতে পারছি না।’

হিমুর কাজ
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় অভিনয় করে দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পান হিমু। ‘সোনাঘাট’, ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’, ‘বাটিঘর’, ‘শোনে না সে শোনে না’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘চাপাবাজ’ও ‘ছায়াবিবি’র মতো নাটকে তাঁকে দেখা গেছে। ২০১১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রে তরু চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর।

হোমায়রা হিমু

সূত্র: প্রথম আলো