দীপের রিমান্ড শুনানির সময় সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বললেন বিচারক
গণমাধ্যম ডেক্স
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তাঁর ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানিতে সাংবাদিকেরা কেন উপস্থিত, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারক। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে শুনানির আগমুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।
শুনানির শুরুতে সাংবাদিকদের দেখে ক্ষুব্ধ হন বিচারক। এ সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে আসা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকেরা কেন? আপনারা কী ভেতরে ঢুকতে পারেন। শুনানির পর পিপি–এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’ এ সময় বিচারক পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘সব ক্লিয়ার করেন কেউ থাকবে না ভেতরে।’
পরে সাংবাদিকেরা এজলাসের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালে শুনানি শুরু হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ শাহজাহান সাজু প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা যেহেতু ক্যামেরা ট্রায়াল নয়, ওপেন ট্রায়াল, সেহেতু শুধু জার্নালিস্টরা নয়, পাবলিকেরাও থাকতে পারবে। আর সাংবাদিকেরা জাতির দর্পণ ও ন্যায়বিচারে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা করে থাকেন। ওপেন ট্রায়ালে তাঁরা থাকলে শুনানিতে কী হলো, তা জাতিকে জানাতে পারেন। সুতরাং সাংবাদিকদের এজলাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা বলা ঠিক হয়নি।’
এ বিষয়ে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন খান বলেন, ‘আমরা অনেক বছর যাবৎ আদালতপাড়ায় সাংবাদিকতা করছি। অনেক সেনসিটিভ মামলার শুনানির সময়ও আদালতে থেকে শুনানি শুনেছি। কিন্তু বিচারকের এমন ব্যবহার কখনো দেখিনি। আসামিপক্ষের আইনজীবীর কথা শুনে আমাদের বের হয়ে যেতে বলেন বিচারক। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তিনি একই কথা বলেন। আমাদের এজলাসকক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এটা আসলে অনাকাঙ্ক্ষিত।’
এদিন দীপকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন। আবেদনে বলা হয়, প্রথম দফার রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে এই আসামি ঘটনার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আবার জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক প্রশ্ন কৌশলে এড়িয়ে যান, নীরবতা পালন করেন। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আবার রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুতাসিম বিল্লাহ দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জোর করে তাঁকে দিয়ে স্বীকার করাতে চাচ্ছে। আমি আজ তাঁর জামিনের আবেদন করিনি। কিন্তু চার দিনের রিমান্ড শেষ না হতেই আবার তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে আদালতকে বলেন, আসামির সঙ্গে এই মামলার ভুক্তভোগীর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। আসামি সুকৌশলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে তাঁকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। সিসিটিভি ফুটেজ, কথোপকথন বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এই মামলার সঙ্গে অন্য কোনো রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত কি না, ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য আছে কি না, তা জানার জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন। এর আগে তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে রাজধানীর উত্তরখান থানায় ৩০ অক্টোবর রাতে হত্যা মামলা করেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম।
সূত্র: প্রথম আলো