|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পিটুনিতে প্রাণ গেল মায়ের

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
১৭৬ পঠিত
ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পিটুনিতে প্রাণ গেল মায়ের
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমি ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তহমিনা আক্তার মিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছোট ছেলেকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর)...
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জমি ও ফসল কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তহমিনা আক্তার মিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ছোট ছেলেকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের উত্তর সোনাখুলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিনা বেগম ওই এলাকার মো. জামিনুর রহমানের স্ত্রী। আটকরা হলেন- উত্তর সোনাখুলি গুচ্ছগ্রাম এলাকার আমেতুল্লাহ মুন্সির ছেলে সামছুল হক (৬৫), মো. আয়নাল হকের ছেলে সবুজ (২৮), আয়নাল হকের স্ত্রী মোছা. ছবিরন (৫০) এবং আয়নাল হকের মেয়ে রাহেনা বেগম (২৫)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত মিনা বেগমের ছেলে মিলনের (২৬) সঙ্গে আয়নাল হকের মেয়ে মোছা. হামিদা বেগমের (২২) বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিন ও যৌতুকের অংশ হিসেবে আয়নাল হক একটি বন্ধকি জমি তার জামাতা মিলনকে চাষাবাদের জন্য দেন। তবে কিছুদিন পর ওই জমির দখল, চাষাবাদ ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জামাতা ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক হয়। সেখানে উভয় পক্ষের সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয়, বিরোধপূর্ণ জমির চলতি মৌসুমের ধান কাটা শেষ হলে পরবর্তী সময়ে স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে। এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে ওই জমি থেকে গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য ধানগাছের অবশিষ্টাংশ কাটতে যান মিলনের ছোট ভাই মস্তো মিয়া (১৪)। এ সময় আয়নাল হক ও ছেলে সবুজসহ কয়েকজন তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। মস্তোর চিৎকার শুনে তাকে বাঁচাতে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান মা মিনা বেগম। হামলাকারীরা তার ওপরও চড়াও হয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। লাঠির আঘাতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন মিনা বেগম। পরে তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা খলিলুর রহমান ও হযরত আলী জানান, মিনা বেগমের মৃত্যু হলেও আটক ব্যক্তিসহ ৫-৭ জন ওই জমিতে ধান কাটতে থাকেন। পরে স্থানীয় লোকজন ধান কাটারত অবস্থায় চারজনকে হাতেনাতে আটক করেন। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যায়। ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়দের সহায়তায় এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে যৌতুকের জমি ও ফসল কাটাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।  

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স