|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৫২তম বিসিএসও কি বিশেষ হতে যাচ্ছে: সংশয় আর কৌতূহল চাকরিপ্রার্থীদের

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০১:০১ এএম
২৮৩ পঠিত
৫২তম বিসিএসও কি বিশেষ হতে যাচ্ছে: সংশয় আর কৌতূহল চাকরিপ্রার্থীদের
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
৫২তম বিসিএসে এএসপি পদে বিশেষ নিয়োগের গুঞ্জন রয়েছে, কিন্তু পিএসসি কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা করেনি। বিশেষ বিসিএসের কারণে সাধারণ বিসিএস পিছিয়ে যেতে পারে।

পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে জনবল বাড়াতে একটি বিশেষ বিসিএস নেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এমন চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে পড়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের মনে নতুন কৌতূহল ও সংশয় তৈরি হয়েছে। আলোচনা চলছে, এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) জানিয়েছে, ৫২তম বিসিএস বিশেষ করার বিষয়ে কমিশনের মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা হয়নি। সরকার থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এখনো কমিশনে আসেনি।

এএসপি নিয়োগের গুঞ্জন ও সাধারণ বিসিএসের ভবিষ্যৎ

নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবছর ক্যাডার পদগুলোর জন্য সাধারণ বিসিএসের অপেক্ষায় থাকেন দেশের লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী। এর আগে ৫২তম বিসিএস সাধারণ বিসিএস হিসেবে আসার কথা ছিল। এমনকি পিএসসির পূর্বঘোষণা অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে নতুন একটি সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের জন্য ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তির পর এখন যদি আবারও এএসপি পদে বিশেষ বিসিএস আনা হয়, তবে সাধারণ বিসিএস আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কাই সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর ৫০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল পিএসসি। রোড়ম্যাপ অনুযায়ী এ বছরের নভেম্বরের মধ্যে এই বিসিএসের ফলাফল প্রকাশ হতে পারে। আর ৫২তম বিবিসিএস যদি শেষ বিসিএস হয় তবে চাকরিপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হবে। ৫১তম বিসিএসের আবেদন কেবল শেষ হয়েছে। ৫২তম বিসিএসের নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কিছু সময় যাবে পিএসসির।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশে এএসপি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ বিসিএসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ পাওয়ার পর কর্মকর্তাদের বনিয়াদি প্রশিক্ষণের সময় কিছুটা কমিয়ে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগের সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হবে এবং পূর্ণাঙ্গ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই নিয়োগ চূড়ান্ত করা হবে।

তবে এই বিশেষ বিসিএসের আলোচনা এখনো স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রয়েছে। বিষয়টির বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান বলেন, ‘৫২তম বিসিএস বিশেষ হবে কি না, এ বিষয়ে পিএসসিতে কোনো আলোচনা হয়নি। ৫২তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এএসপি নিয়োগের কোনো প্রস্তাব বা চাহিদাপত্র আমরা এখনো পাইনি।’

পিএসসির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এক বছরে একটি সাধারণ বিসিএস শেষ করা লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু সরকারের জরুরি চাহিদা মেটাতে মাঝেমধ্যে বিশেষ বিসিএসের আয়োজন করতে হয়। ৫১তম বিসিএস সাধারণ হওয়ার কথা থাকলেও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের বিশেষ বিসিএস হিসেবে সেটি আবেদনপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। ৫১তম বিসিএসে ৪ হাজার ৭০০ জন সহকারী সার্জন ও ৩০০ জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৪৪ হাজার ৬৩৫ জন চিকিৎসক।

সাধারণত বিশেষ বিসিএসে লম্বা লিখিত পরীক্ষা থাকে না। কেবল প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে খুব কম সময়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়। ফলে সরকারের জরুরি জনবল দরকার হলে বিশেষ বিসিএসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। কিন্তু পরপর দুটি বিশেষ বিসিএস চলে এলে সাধারণ বিসিএসপ্রত্যাশীদের বিসিএস পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়ে পড়ে।

পিএসসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চাহিদা এলেই কেবল সেটি কমিশনের বোর্ড সভায় তোলা হয়। ৫২তম বিসিএসের ধরণ কী হবে, তা সরকারের চূড়ান্ত চাহিদাপত্রের ওপরই নির্ভর করছে। চাহিদাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত সাধারণ বিসিএসের নির্ধারিত সূচি ধরেই এগোবে কমিশন।

সূত্র: প্রথম আলো