|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

হারানো একটি ছাগল নিতে এসে মালিক পেলেন চারটি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
২৭২ পঠিত
হারানো একটি ছাগল নিতে এসে মালিক পেলেন চারটি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগরের বালুকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামছুন্নাহার। প্রায় তিন মাস আগে তার একটি গর্ভবতী ছাগল হারিয়ে গিয়েছিল। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই ছাগলের সন্ধান মিলল বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। তবে চমকপ্রদ ঘটনা হলো, হারানো একটি ছাগল নিতে এসে মালিক ফির...

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগরের বালুকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামছুন্নাহার। প্রায় তিন মাস আগে তার একটি গর্ভবতী ছাগল হারিয়ে গিয়েছিল। অনেকটা সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর সেই ছাগলের সন্ধান মিলল বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে। তবে চমকপ্রদ ঘটনা হলো, হারানো একটি ছাগল নিতে এসে মালিক ফিরে পেলেন চারটি ছাগল। কারণ, ছাগলটি কার্যালয়ে আশ্রয়ে থাকা অবস্থায় জন্ম দিয়েছিল তিনটি বাচ্চা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম তার কার্যালয় চত্বরে ছাগল চারটি প্রকৃত মালিক শামছুন্নাহারের হাতে তুলে দেন। এ সময় বিএনপি নেতা মোকলেছুর রহমান, জাসাস নেতা রেজাউল করিম বাপ্পী, স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন, বাবুসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, গত ১১ আগস্ট নিষিদ্ধ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট সেবনের পর বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগর এলাকা থেকে একটি ছাগল চুরি করে পালানোর সময় চার ব্যক্তি আটক হন। পরে ওই দিন বিকেলে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে তাদের জেল-জরিমানা করা হলে চোরাই ছাগলটি নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ছাগল চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা।

তারা জানান, নেশা করে ফেরার পথে রাস্তার পাশে ছাগলটি দেখতে পেয়ে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তবে ছাগলটি ঠিক কোন এলাকা থেকে চুরি করেছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। অনুমান করে আদমদীঘি উপজেলার কথা বলায় ওই দিন সন্ধ্যায় ছাগলটি দেখভালের জন্য আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

কার্যালয়ে আনার পর ওই রাতেই ছাগলটি তিনটি বাচ্চা প্রসব করে। প্রকৃত মালিকের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত ছাগল ও বাচ্চাগুলোর দেখভালের দায়িত্ব নেন কার্যালয়ের কর্মচারী জিয়া। দীর্ঘ দুই মাস ২০ দিন ধরে তিনি যত্নসহকারে ছাগল চারটিকে লালন-পালন করেন।

অবশেষে ছাগলটির প্রকৃত মালিকের সন্ধান মেলে। দুপচাঁচিয়া উপজেলার আলতাফনগরের বালুকাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শামছুন্নাহার প্রয়োজনীয় প্রমাণসহ ছাগলটি নিতে আদমদীঘিতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন তার ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক। যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার সকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলাম ছাগল ও তার তিনটি বাচ্চা তাদের হাতে তুলে দেন।

একটি ছাগল হারিয়ে চারটি ছাগল ফিরে পেয়ে আনন্দিত শামছুন্নাহার। অন্যদিকে হারানো ছাগলটির নিরাপদ আশ্রয়, তিনটি বাচ্চার জন্ম এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর যত্ন নেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স