|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

৮ মাসের নীরবতা ভেঙে সেন্টমার্টিনের পথে পর্যটকরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
৩৫০ পঠিত
৮ মাসের নীরবতা ভেঙে সেন্টমার্টিনের পথে পর্যটকরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দীর্ঘ আট মাসের খাঁ খাঁ নীরবতা ভেঙে অবশেষে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি কেটে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পথে ভেসে চললো পর্যটকবাহী জাহাজ। নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় ফের মুখরিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের এই দ্বীপ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ৮৩৬ জন পর্য...
দীর্ঘ আট মাসের খাঁ খাঁ নীরবতা ভেঙে অবশেষে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি কেটে প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের পথে ভেসে চললো পর্যটকবাহী জাহাজ। নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর পেরিয়ে পর্যটকদের পদচারণায় ফের মুখরিত হতে যাচ্ছে স্বপ্নের এই দ্বীপ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ৮৩৬ জন পর্যটক নিয়ে ‘এমভি বারো আউলিয়া’ নামের একটি জাহাজ সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার মধ্য দিয়ে সচল হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই নৌপথ। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জাহাজ চলাচল শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।  তিনি জানান, পর্যটকের সংখ্যা বিবেচনায় না নিয়ে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। এ নিয়ে পর্যটকদের দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষার প্রহর ঘুচলো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ চালু হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর অনুমোদন এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মতি পাওয়ায় জাহাজ চলাচলের পথ সুগম হয়। জাহাজগুলো কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের সম্মিলিত যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এরমধ্যে এমভি বারো আউলিয়ায় ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলিতে ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফে ৭১৬ জন যাত্রী পরিবহন করা যাবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজ সেন্টমার্টিন নৌ-রুটে চলাচল করবে। প্রত্যহ এমভি বারো আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করে সেন্টমার্টিন থেকে বেলা আড়াইটায় ফিরবে। এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে গিয়ে ফিরবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। অন্যদিকে এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যাত্রা শুরু করে দ্বীপ থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেবে। সরকারের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিনে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপন করতে পারবেন। তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। এক ইসঙ্গে ভ্রমণের জন্য ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এদিকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করা হলেও পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও আশপাশের এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। নিষিদ্ধ করা হয়েছে কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও কেনাবেচাও। এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের কোনো ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচলও নিষিদ্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আগ্রহীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটন কার্যক্রমের পাশাপাশি দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। ঢাকা থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করা পর্যটক হোসাইন জামিল বলেন, প্রথম ট্যুরে বড় একটি গ্রুপ নিয়ে একসঙ্গে সেন্টমার্টিন যাচ্ছি, আমার কাছে সাগরের নীল জলরাশি অসাধারণ মনে হয়। রাত্রে প্রবাল দ্বীপে থাকবো, সবকিছু রোমাঞ্চকর মনে হচ্ছে। সেন্টমার্টিনের আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ী আবদুর রহিম জিহাদী কালবেলাকে জানান, সেন্টমার্টিনে দেড় শতাধিক আবাসিক হোটেল, গেস্ট হাউস রয়েছে। সর্বত্র সাজ সাজ রব। পর্যটকদের গ্রহণ করতে সেন্টমার্টিবাসী মুখিয়ে আছেন।  কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান জানান, যারা নিয়ম মেনে টিকেট পেয়েছেন তাদের নিয়ে এমবি বার আউলিয়া নামের জাহাজটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। একজন প্রশাসনিক কর্তা, চারজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবকিছু দেখভাল করছে। সবাইকে নিয়মের ভেতর থেকে সেন্টমার্টিন ভ্রমণের আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স