|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

উপাচার্যের সামনেই উপ-রেজিস্ট্রারকে পেটালেন পাঁচ কর্মকর্তা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
২৩৮ পঠিত
উপাচার্যের সামনেই উপ-রেজিস্ট্রারকে পেটালেন পাঁচ কর্মকর্তা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে বসেই উপ-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সামনেই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। হামলা...

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে বসেই উপ-রেজিস্ট্রার মো. রফিকুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। বুধবার রাতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সামনেই তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। হামলায় তার বাম চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং রক্ত ঝরতে থাকে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত পাঁচ কর্মকর্তা হলেন জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান, সহসভাপতি ও সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. জিয়াউল হক, সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমান, ফোরামের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও সংস্থাপন শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মো. তারিকুল ইসলাম এবং সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার রেজাউল ইসলাম লাবু।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক তানজিউল ইসলাম জীবন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনুর বিরুদ্ধে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়। অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার আমিনুর রহমানের নামে পাঠানো ওই চিঠিতে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনা হয়। অন্যজনের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়। তবে আমিনুর রহমানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা চিঠিটি পাঠিয়েছেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই চিঠির বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে উপাচার্যের কার্যালয়ে কথা বলছিলেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনু ও শিক্ষক মো. ইউসুফ। আলোচনার একপর্যায়ে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘ক্লিকবাজি’ নিয়ে কথা ওঠে। চিঠিটি কারা চালাচালি করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে উপ-রেজিস্ট্রার রফিকুল ইসলাম শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মামদুদুর রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘এসব আপনারাই করেন, সিনিয়ররাই করেন।’ জবাবে মামদুদুর বলেন, ‘আপনি আগেও এ রুমে গণ্ডগোল করেছেন।’ এরপর দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে উপাচার্যের সামনেই রফিকুল ইসলামের ওপর হামলা করেন। তিনি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনের করিডরেও তাকে মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মজনু স্যার ও ইউসুফ স্যারের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদান নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। আমি জানতে চাই, এসব চিঠি কারা পাঠাচ্ছে। ভবিষ্যতে যেন এমন না ঘটে, সে জন্য বিষয়টির বিহিত হওয়া দরকার বলেও বলি।’

তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় তারিকুল ইসলাম তাকে বলেন, ‘আপনি সিনিয়র-জুনিয়র বোঝেন না। সিনিয়র সিনিয়রের জায়গায় থাকবে, জুনিয়র জুনিয়রের জায়গায়।’ এরপর জিয়াউল হক এগিয়ে এসে তাকে ঘুষি মারেন। রোকনুজ্জামান কক্ষে থাকা ফুলের টব দিয়ে আঘাত করেন। মামদুদুর রহমান ও রেজাউল ইসলাম লাবুও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন রফিকুল।

রফিকুল ইসলামের দাবি, উপাচার্যের কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছে। ফুটেজ পর্যালোচনা করলেই ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের সভাপতি ড. রোকনুজ্জামান বলেন, ‘জনসংযোগ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন। তারাই এ বিষয়ে জানাবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘এটা আমার সঙ্গে কথা না বলে, যারা অফিসাররা তাদের সঙ্গে কথা বলেন। আমার মনে হয় এসব বিষয়ে আমার মন্তব্য নাই।’

উপাচার্যের কার্যালয়ের ভেতরে ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার রুমে কথা হয়েছে, বাইরে হয়েছে (মারধরের ঘটনা)। এ বিষয়ে ওয়েট করি একটু।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স