|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনের জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
১৯৭ পঠিত
চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনের জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হল আব্দুল জব্বার জ্যোতির্বিজ্ঞান কর্মশালা। গত ২৯-৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম কলেজ প্রাঙ্গনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়।

তিন দিনে মোট ২০ ঘণ্টার এই কর্মশালায় জ্যোতির্বিজ্ঞানের প্রাথমিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে মহাকাশপ্রযুক্তি ও চলমান জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিয়ে। শুধু বক্তৃতা শোনার মধ্যেই এই আয়োজন সীমাবদ্ধ ছিল না। শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল হাতে-কলমে বিভিন্ন কাজ, কুইজ এবং টেলিস্কোপের সাহায্যে আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ।

কর্মশালার শুরুতে আয়োজনটির সমন্বয়ক আইনুন নওয়ার জ্যোতির্বিজ্ঞানী অধ্যাপক আব্দুল জব্বারের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর শুরু হয় মূল কর্মসূচি। প্রথম সেশনে ‘অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ফেনোমেনা’ বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করেন হাসান মাহমুদ সজীব।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক রাজীব কর্মকার পরের সেশনে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক স্থানাঙ্ক ব্যবস্থা ও এ-সংক্রান্ত জ্যামিতি নিয়ে কথা বলেন। এরপর শাফায়েত রহমানের পরিচালনায় ছিল মঙ্গল গ্রহের রোভার নকশা তৈরির সেশন। নাফিসা মুমতাহিন হাতে-কলমে মহাকর্ষ ও কৃষ্ণগহ্বরের ধারণা দেন। দিনের শেষ সেশনে স্টেলারিয়াম সফটওয়্যারের সাহায্যে মহাকাশের বিভিন্ন দৃশ্যের সিমুলেশন এবং নক্ষত্রমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা দেন সোহানুর রহমান।

দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সুলতানা নাহারের সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ববিষয়ক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে। এরপর সৌরজগৎ নিয়ে আলোচনা করেন রওনক শাহরিয়ার। আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মহাজাগতিক বস্তু সম্পর্কে জানার পদ্ধতি নিয়ে কথা বলেন পরমাণু শক্তি কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মনীশ দেবনাথ। দিনের শেষ পর্বে গ্যালাক্সি ও গ্যালাক্সি ক্লাস্টার নিয়ে বক্তৃতা দেন ওয়াটারলু সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের পোস্টডক্টরাল ফেলো সৈয়দা লামমীম আহাদ। পাশাপাশি গ্যালাক্সির আকৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে ধারণা দেন নক-বিডির ডেপুটি সমন্বয়ক ফারিবা নেহরীন বিন্তি।

কর্মশালার শেষ দিনেও ছিল নানা আয়োজন। সকালে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের অধ্যাপক বিমান নাথ নক্ষত্রের জন্ম, জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আলোচনা করেন।

এরপর অনলাইনে যুক্ত হন নাসার সৌর মিশনের সদস্য ও নিউ মেক্সিকো স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শাহ মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন। তিনি হেলিওফিজিকস এবং অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকার উপযোগী পরিবেশ নিয়ে কথা বলেন।

তৃতীয় সেশনে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাস এবং ভিনগ্রহের প্রাণ নিয়ে দুটি বক্তৃতা দেন আইএইউর বাংলাদেশ জাতীয় আউটরিচ সমন্বয়ক ও বুয়েটের অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। মধ্যাহ্নভোজের পর শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল টেলিস্কোপের সাহায্যে সূর্য ও সৌরকলঙ্ক পর্যবেক্ষণের সুযোগ। পাশাপাশি তারা নিজেরাই তৈরি করে হাতে বানানো স্পেকট্রোস্কোপ ও সূর্যঘড়ি।

এরপর এবারের পদার্থবিজ্ঞানের নোবেলজয়ী গবেষণার বিষয় আইসকিউব নিউট্রিনো নিয়ে বক্তৃতা দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ. কে. এম. রেজাউর রহমান। সৌরজগতের বাইরের গ্রহ নিয়ে আলোচনা করেন ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমি এডুকেশন কোঅর্ডিনেশন টিমের সদস্য ও চুয়েটের গণিত বিভাগের অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার দেব। দিনের শেষ সেশনে শিক্ষার্থীদের অ্যাস্ট্রোফটোগ্রাফির ছবি তোলার কৌশল হাতে-কলমে শেখান মেহেদী হাসান তূর্য।

সন্ধ্যা নামার পর শুরু হয় আকাশ পর্যবেক্ষণের পালা। টেলিস্কোপের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা শনি গ্রহ এবং এর দুটি উপগ্রহ এবং অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর কর্মশালার অংশ হিসেবে আয়োজিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা।

সবশেষে সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। কুইজে বিজয়ীদের দেওয়া হয় পুরস্কার।

কর্মশালাটির মূল আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়নের নক-বিডি টিম। সহ-আয়োজক হিসেবে ছিল বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি ও ইউনিভার্স অ্যাওয়ার্নেস কার্যক্রম। এ ছাড়া আউটরিচ ও ক্লাব পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল কসমিক এনিগমা, চিটাগং কলেজ ফিজিকস অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোনমি ক্লাব, চট্টগ্রাম অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি, চিটাগং ইউনিভার্সিটি ফিজিকস ক্লাব, চিটাগং ইউনিভার্সিটি সায়েন্টিফিক সোসাইটি এবং চুয়েটের অ্যান্ড্রোমিডা স্পেস অ্যান্ড রোবটিক্স রিসার্চ অর্গানাইজেশন।

সূত্র: প্রথম আলো