|
| |
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু, উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
৩৮৮ পঠিত
কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল শুরু, উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বারো আউলিয়া। দীর্ঘ...

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে শুরু হয়েছে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে শহরের নুনিয়ারছড়াস্থ বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট থেকে ৮ শতাধিক পর্যটক নিয়ে দ্বীপের উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি বারো আউলিয়া। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বপ্নের দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন পর্যটকরা। অন্যদিকে দ্বীপে পৌঁছানোর পর ফুল দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করিয়ে তাদের স্বাগত জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এমন ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেক পর্যটক।

সী ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর জানান, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজটি দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সেন্টমার্টিনে পৌঁছায়। পরে পর্যটকদের নিয়ে জাহাজটি কক্সবাজারে ফিরে আসবে। দ্বীপে পৌঁছানোর পর স্থানীয় বাসিন্দারা ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করে নেন। দীর্ঘদিন পর পর্যটকদের আগমনে দ্বীপবাসীর মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

প্রথম দিনের যাত্রায় পর্যটকদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে, আবার কেউ এসেছেন প্রিয়জনদের নিয়ে। ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ফাহমিদা হক বলেন, ‘এক সপ্তাহ ধরে সেন্টমার্টিন যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। সবকিছু ঠিক করার পরও জাহাজ চলাচল শুরু না হওয়ায় প্রায় চার দিন কক্সবাজারে থাকতে হয়েছে। অবশেষে আজ যেতে পারছি, খুব ভালো লাগছে।’

ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে পরিবার নিয়ে আসা রফিক মজুমদার বলেন, ‘পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চার দিন ধরে কক্সবাজারে অপেক্ষা করছি। অবশেষে আজ সেন্টমার্টিন যেতে পারছি। পরিবারের সবাইকে দেশের এই সুন্দর দ্বীপটি দেখাতে পারব, এটাই অনেক আনন্দের।’

দ্বীপে পৌঁছে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন দেখার অনুভূতি প্রকাশ করেন ঢাকার যাত্রাবাড়ীর পর্যটক ইসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘জাহাজ থেকে নীল সমুদ্রের পানি দেখে মন ভরে গেছে। সেন্টমার্টিনে নামার পর যে অনুভূতি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।’

রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক মারুফ, শাকিল ও জামশেদ বলেন, কয়েকজন মিলে দলবেঁধে দ্বীপে এসেছেন। তাদের সঙ্গে অনেকেই প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনে এসেছেন। দ্বীপের প্রকৃতি ও পরিবেশ অসাধারণ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এখানে আসতে পেরে তারা আনন্দিত।

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অপেক্ষায় ছিলেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও। চলতি পর্যটন মৌসুমে গত ১ নভেম্বর থেকে দ্বীপে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ উন্মুক্ত করা হলেও অনুমতি ও প্রশাসনিক জটিলতায় জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইনুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, পর্যটকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সরকারের নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনেই পর্যটক পরিবহন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও জাহাজ যুক্ত হলে যাতায়াত আরও সহজ হবে। জাহাজে ওঠার আগে পর্যটকদের ব্যক্তিগতভাবে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। তাদের প্লাস্টিকের বোতল দ্বীপে না নেওয়া এবং সেখান থেকে কোনো প্রবাল সংগ্রহ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেন্টমার্টিন দেশের সম্পদ, এই সম্পদ রক্ষা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, প্রথম দিন একটি জাহাজ চললেও পর্যায়ক্রমে তিনটি জাহাজ চলাচল করবে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে জেলা প্রশাসনের মনিটরিং অব্যাহত থাকবে। জাহাজে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন কিংবা পর্যটকদের হয়রানি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পর্যটকরা সচেতন না হলে শুধু প্রশাসনের পক্ষে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা করা কঠিন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ব্যবস্থাপনায় চালু করা অ্যাপের মাধ্যমে ট্রাভেল পাস সংগ্রহ করে পর্যটকরা জাহাজের টিকিট কিনছেন। প্রথম দিন এমভি বার আউলিয়া চলাচল শুরু করলেও শুক্রবার থেকে এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ নামের আরও দুটি জাহাজ চলাচল শুরুর কথা রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলের জন্য আরও সাতটি জাহাজ অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে।

এবারের পর্যটন মৌসুমে দ্বীপের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় যুক্ত হয়েছে বেশ কিছু বিধিনিষেধ। পর্যটকদের পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের পণ্য বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দ্বীপের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মোহাম্মদ মোশারফ বলেন, সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর কাজ করছে। পর্যটকরা যাতে নিষিদ্ধ পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক নিয়ে দ্বীপে যেতে না পারেন, সে জন্য ঘাটে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও তদারকি চলছে। পর্যটকদের সহযোগিতা পেলে দ্বীপের পরিবেশ রক্ষা আরও সহজ হবে।

জাহাজ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিদর্শক বিকাশ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি প্রতিরোধে ট্যুরিস্ট পুলিশ সতর্ক রয়েছে। জাহাজের ভেতরে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সেন্টমার্টিনেও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। পর্যটকদের সেবায় তারা সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছেন।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স