|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চাইলেই কি যেকোনো মা অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারেন?

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:০০ এএম
৪৩১ পঠিত
চাইলেই কি যেকোনো মা অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারেন?
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

নিজের মায়ের দুধ না পেলে ছোট্ট শিশুর পুষ্টির ব্যবস্থা তো করতেই হবে। সবচেয়ে কার্যকর বিকল্প হলো অন্য একজন মায়ের দুধ তাকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা। তবে যেকোনো মা কি চাইলেই অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারেন?

মারা যাওয়া এক মায়ের সন্তানের জন্য সম্প্রতি ‘দুধ-মা’ খোঁজা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কথা হয়েছে। সত্যিই তো, মায়ের মৃত্যু হলে ওই একরত্তি শিশুকে দুধ দেবেন কে? জন্মের পর থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর জন্য মায়ের দুধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধেই মেলে সম্পূর্ণ পুষ্টি। যে শিশু কোনো কারণে নিজের মায়ের দুধ পায় না, তার কী বিকল্প?

নিজের মায়ের দুধ না পেলে

কারণ যেটাই হোক, বাজারের ফর্মুলা দুধের চেয়ে এটিই স্বাস্থ্যকর। বিশেষ করে যেসব শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্মায়, তাদের জন্য মায়ের দুধ অত্যন্ত প্রয়োজন। পৃথিবীর কোথাও কোথাও মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকও আছে। এই ব্যাংক থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী দুধ সংগ্রহ করা যায়।

সবাই কি অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারেন

জানতে চেয়েছিলাম স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট ডা. আনিকা তাবাস্‌সুমের কাছে। তিনি জানালেন, উদ্যোগটি মহৎ হলেও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কারণে অন্য মায়ের দুধের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। অবশ্যই নিশ্চিত হতে হবে, ওই মায়ের নিজের সন্তান যেন পর্যাপ্ত দুধ থেকে বঞ্চিত না হয়।

ছড়াতে পারে সংক্রমণ

অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে হলে নিচের এসব সংক্রমণের বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।

  • এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হেপাটাইটিস সি ভাইরাস, হিউম্যান টি-সেল লিম্ফোট্রপিক ভাইরাস, সিফিলিস (উপসর্গ না-ও থাকতে পারে, তাই দুধ দেওয়ার আগে কিছু পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে)

  • হারপেস সিমপ্লেক্স ভাইরাস সংক্রমণ (স্তনে জ্বর ঠোসার মতো ক্ষত, তবে একটি স্তনে সংক্রমণ না থাকলে সেখান থেকে দুধ নেওয়া যায়)।

  • ব্রুসেলা সংক্রমণ (জ্বর ও ব্যথার মতো সাধারণ উপসর্গও থাকতে পারে)।

  • মাঙ্কি ভাইরাস সংক্রমণ, ইবোলা ভাইরাস সংক্রমণ।

আরও কিছু ঝুঁকি

তাই আগেই নিন পরামর্শ

অন্যের সন্তানকে দুধ দেওয়ার আগে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

  • সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসক নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষা করতে দেবেন।

  • কোনো ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত থাকলে কত দিন পর তিনি অন্যের সন্তানকে দুধ দিতে পারবেন কিংবা আদতেই পারবেন কি না, সেটিও চিকিৎসকই বলে দেবেন।

  • স্তন্যদানকারী মায়েদের ওষুধ সেবনের ব্যাপারে কিছু বিধিনিষেধ থাকে। সম্প্রতি তিনি কী কী ওষুধ গ্রহণ করেছেন, সেটিও জানাতে হবে। সাপ্লিমেন্ট বা হারবাল ওষুধ সেবন করলেও সেটি জানিয়ে রাখুন।
    খেয়াল রাখুন

  • মাতৃদুগ্ধ ব্যাংকের দুধ পাস্তুরাইজেশন করা থাকে। আমাদের দেশে সুযোগ নেই। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখুন। প্রতিবার দুধ সংগ্রহের আগে হাত এবং দুধ সংগ্রহের অনুষঙ্গটি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পরিষ্কার পাত্রে সংরক্ষণ করুন।

  • দুধ সংগ্রহের পর কক্ষ তাপমাত্রায় (২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম) চার ঘণ্টা পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে বোতল থেকে শিশুকে খাওয়ানো হলে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সেটি থেকে খাওয়ানো যাবে।

  • ফ্রিজের সাধারণ চেম্বারে চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কম তাপমাত্রায় রাখলে চার দিন পর্যন্ত এবং ডিপ ফ্রিজে  মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কমে রাখলে ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত ব্যবহারোপযোগী থাকতে পারে।

  • চুলায় বা ওভেনে মায়ের দুধ গরম করতে নেই।

  • একটা পাত্রে ঈষদুষ্ণ পানি নিয়ে তাতে দুধের বোতল রাখলে দুধ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসবে। তাই ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজে রাখতে হলে দুধের বোতলটা মানসম্মত হতে হবে, যা তাপে নষ্ট হবে না।

  • ডিপ ফ্রিজে রাখা দুধ ফ্রিজে রেখেও গলানো যায়। এভাবে দুধ সম্পূর্ণ গলানোর পর তা ফ্রিজে চব্বিশ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। আবার ডিপ ফ্রিজেও রাখা যাবে না।

  • স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনার পর দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সেই দুধ শিশুকে খাওয়ানো যাবে।

  • অপরিণত নবজাতকের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বিশেষ কোনো নির্দেশনা দিলে অবশ্যই তা মেনে চলতে হবে।

সূত্র: প্রথম আলো