|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

‘প্যারিসের ছবি’তে ফ্রান্সের স্বীকৃতি, উজ্জ্বল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২৬ পিএম
৩৬১ পঠিত
‘প্যারিসের ছবি’তে ফ্রান্সের স্বীকৃতি, উজ্জ্বল বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির প্রকাশিত আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ (Images of Paris) ঘিরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক যোগাযোগে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে বইটি উপহার দেওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্র...
বাংলাদেশের আলোকচিত্রী ও লেখক ফরিদ আহাম্মদ রনির প্রকাশিত আলোকচিত্রভিত্তিক গ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ (Images of Paris) ঘিরে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক যোগাযোগে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে বইটি উপহার দেওয়ার পর এবার রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রশংসাপত্র তার এই সৃজনশীল উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর হাতে নিজের প্রকাশিত গ্রন্থটি তুলে দেন ফরিদ আহাম্মদ রনি। প্যারিসের ইতিহাস, স্থাপত্য, শিল্প ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা বইটি রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেওয়া তার দীর্ঘদিনের সৃজনশীল প্রচেষ্টার একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। লেখকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির দপ্তর ও প্যারিসের মেয়র দপ্তর থেকেও বইটির জন্য প্রশংসাপত্র ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি তার হাতে পৌঁছায়। চিঠিতে বইটি উপহার দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি তুলে ধরার উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ‘প্যারিসের ছবি’ শুধু একটি আলোকচিত্রের গ্রন্থ নয়; এতে ফ্রান্সের রাজধানীর ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্থাপত্য, শিল্পকলা ও নগরজীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। আইফেল টাওয়ার, লুভর জাদুঘর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, ভাস্কর্য এবং প্যারিসের বৈচিত্র্যময় নাগরিক জীবনের নানা মুহূর্ত স্থান পেয়েছে বইটিতে। বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি- তিন ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটি আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছে বাংলাদেশের আলোকচিত্র ও প্রকাশনাশিল্পের পরিচিতি তুলে ধরারও একটি প্রয়াস। ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বইটির বহুভাষিক প্রকাশনা এবং ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতির হাতে পৌঁছানোর বিষয়টি গুরুত্ব পায়। রনির এই গ্রন্থ ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের হাতে পৌঁছেছে। প্যারিসের সাবেক মেয়র আন্নে ইদালগোর কাছেও তিনি বইটি উপহার দিয়েছেন। এ ছাড়া প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চেঞ্জ নাউ সামিটে মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিংয়ের হাতেও গ্রন্থটি তুলে দেন তিনি। ২০২৬ সালের জুনে প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ারের কাছেও বইটি উপহার দেওয়া হয়। একই বছরের আগস্টে ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের হাতেও গ্রন্থটি পৌঁছে দেন লেখক। ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ওপর প্রতিষ্ঠিত। কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য, আলোকচিত্র ও সংস্কৃতির মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর চোখে প্যারিসের ইতিহাস ও সৌন্দর্য আন্তর্জাতিক পাঠকের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাওয়া প্রশংসাপত্রকে নিজের সৃজনশীল কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন ফরিদ আহাম্মদ রনি। তার ‘প্যারিসের ছবি’ ব্যক্তিগত অর্জনের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের শিল্প, আলোকচিত্র ও প্রকাশনাশিল্পের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংস্কৃতির কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা নেই। শিল্প ও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে বন্ধুত্বের সেতু। ‘প্যারিসের ছবি’ সেই সেতুবন্ধনের একটি নান্দনিক প্রয়াস, যা বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রকাশের আগে একটি বিষয় যাচাই করা ভালো: রাষ্ট্রপতির দপ্তরের ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের চিঠির বক্তব্য, বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের কাছে বই উপহার দেওয়ার তারিখ এবং তাদের পদবি মূল নথি বা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নেবেন। এতে প্রতিবেদনটির তথ্যগত নির্ভরযোগ্যতা আরও বাড়বে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স