|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এআই আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
১৮৫ পঠিত
এআই আতঙ্কে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ধস
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এআই খাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ব্যাপক...

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাত ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর এআই খাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে এবং ডেটা সেন্টার নির্মাণের গতি কমে যেতে পারে, এমন আশঙ্কায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়। এতে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার থেকে অর্থ সরিয়ে সরকারি বন্ডের মতো তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছেন। খবর রয়টার্সের।

শুক্রবার (০৬ নভেম্বর) এশিয়ার বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে জাপানে। দেশটির নিক্কেই সূচক ৬ শতাংশ কমে যায়, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর এক দিনে সর্বোচ্চ পতন। দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের প্রধান শেয়ারসূচকও লেনদেন শুরুর পর ৮ শতাংশের বেশি পড়ে যায়। পরে বাজারের পতন ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ায় লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমে।

যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে। বাজারের আতঙ্ক পরিমাপক ভোলাটিলিটি ইনডেক্স (ভিআইএক্স) বেড়ে যায়। নাসডাক সূচক কমে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। একদিনেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০-তে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন বা ৩ লাখ কোটি ডলার হারিয়ে যায়।

এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে সিএমসি মার্কেটসের প্রধান ক্রিস্টোফার ফোর্বস পরিস্থিতিকে বিপর্যয়কর বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের অনেক গ্রাহক সূচক ও শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিলেন। দরপতনের পর তাদের অনেকেই লোকসানের মুখে পড়েছেন। দিনজুড়েই গ্রাহকদের কাছ থেকে মার্জিন কল ও অভিযোগ এসেছে।

ফোর্বস বলেন, বিনিয়োগকারীরা কোনো শেয়ার বা বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের অবস্থানের সঙ্গে আবেগগতভাবে জড়িয়ে পড়েন। কিন্তু বাজারের পতনে তাদের সেই বিনিয়োগে লোকসান হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত মুনাফা আসবে কি না, তা নিয়ে আগে থেকেই সংশয় ছিল। নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সেই উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। এতে এআই খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্জিন ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করা ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও চাপে পড়েছেন।

এশিয়ার বাজারে দরপতন ঠেকাতে বিভিন্ন দেশের কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেওয়ায় দিনের শেষ ভাগে শেয়ারসূচকগুলো কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থমন্ত্রী লি হিয়ং-ইল ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঋণনির্ভর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করেন।

রয়টার্সকে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সকালে তাইওয়ানের অর্থ মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাজারে সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

দিন শেষে তাইওয়ানের শেয়ারবাজার ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। তবে সপ্তাহজুড়ে সূচকটির পতন দাঁড়ায় ১২ দশমিক ২ শতাংশে, যা ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন বলে জানিয়েছে এলএসইজি।

এদিকে নাসডাকের ভবিষ্যৎ লেনদেন সূচক ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। তবে ইউরোপের শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ সূচক ১ শতাংশ কম ছিল। এতে বাজারের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার এআই চিপ নির্মাতা স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার প্রায় ৬ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। তাইওয়ানের চিপ নির্মাতা টিএসএমসির শেয়ার একপর্যায়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। পরে লোকসান কমে দিন শেষে পতনের হার দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশে।

জাপানে মেমোরি চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়ার শেয়ার ১১ শতাংশ কমেছে। এআই খাতে বড় বিনিয়োগকারী সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ারও ১১ শতাংশ পড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকির বিপরীতে বিমা ব্যয় গত চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এআই অবকাঠামো সম্প্রসারণের গতি কমে গেলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। উচ্চ সুদহার ও কঠোর আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের নতুন অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা আগে থেকেই সীমিত।

এআই ক্লাউড কম্পিউটিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান কোরউইভের শেয়ার ১০ শতাংশ কমেছে। এআই অবকাঠামোয় বিপুল ব্যয় ও ঋণনির্ভর বিনিয়োগ নিয়ে বাজারের উদ্বেগের অন্যতম সূচক হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণখেলাপি ঝুঁকির বিমা ব্যয়ও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বাড়তে থাকা বিরোধিতাও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। এসব স্থাপনা নির্মাণের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর যে ব্যয় ও চাপ তৈরি হচ্ছে, তা বাজার এখনো পুরোপুরি বিবেচনায় নেয়নি।

শেয়ারবাজারে অস্থিরতার মধ্যে এশিয়ায় সরকারি বন্ডের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের পাশাপাশি জাপান ও চীনের সরকারি বন্ডেও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মার্কিন ডলারের পাশাপাশি জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঁর চাহিদাও বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফার হার ৪ দশমিক ৮৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গত ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্নের কাছাকাছি। জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার একপর্যায়ে ৯ ভিত্তি পয়েন্ট কমে ১ দশমিক ৭৯৫ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ৩০ জুনের পর সর্বনিম্ন।

সূত্র : রয়টার্স 

সূত্র: কালবেলা