|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সি চিন পিংয়ের পর চীনের ক্ষমতায় কে বসবেন

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম
১৯৩ পঠিত
সি চিন পিংয়ের পর চীনের ক্ষমতায় কে বসবেন
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:

সি চিন পিং যখন চীনের প্রেসিডেন্ট এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মেয়াদের দুইবারের বাধ্যবাধকতা ভেঙে নিজেকে পুনর্বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তখন থেকেই তাঁর উত্তরসূরি কে হতে পারেন—তা নিয়ে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়।

সি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে ছেঁটে ফেলেছেন, কিন্তু তাঁর বয়সও বাড়ছে। এমনকি তিনি ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত নিজের পছন্দের কোনো উত্তরসূরি মনোনীত করাকেই সহজ পথ বলে মনে করতে পারেন।

যদিও এখনো সর্বজনস্বীকৃত কোনো উত্তরসূরির নাম সামনে আসেনি। আগামী বছরের শেষের দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সিসিপির ২১তম জাতীয় কংগ্রেসের আগে (বা পরেও) এমন কারও উত্থানের সম্ভাবনা কম। তবে পঞ্চম প্লেনামের ঠিক আগে প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের যেভাবে ব্যাপক রদবদল করা হচ্ছে, তা কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।

৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ সালে জন্মগ্রহণকারী জু জোংমিংকে সাংহাইয়ের ডেপুটি পার্টি সেক্রেটারি থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। ফলে তিনি চীনের সর্ববৃহৎ শহরের সরকারের প্রধান হন। একপর্যায়ে অনেক পর্যবেক্ষক এই পদক্ষেপকে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে জু-কে সির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলার একটি পরিকল্পিত বার্তা হিসেবে ধরে নিয়েছিলেন।

কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। এর পর থেকেই প্রাদেশিক পদগুলোতে রদবদলের গতি আরও দ্রুত হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর আনহুই, হেনান এবং ফুচিয়েন—তিনটি প্রদেশেই নতুন পার্টি সেক্রেটারি নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণকারী লি লেচেং এবং চৌ জুয়ি যথাক্রমে আনহুই ও হেনানের দায়িত্ব নেন।

অন্যদিকে, ১৯৬৭ সালে জন্মগ্রহণকারী চাও লং ফুচিয়েনের গভর্নর থেকে পদোন্নতি পেয়ে প্রাদেশিক পার্টি সেক্রেটারি হন। (চীনের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গভর্নরের চেয়ে পার্টি সেক্রেটারির ভূমিকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।)

এরপর, গত ২৬ অক্টোবর পঞ্চম প্লেনাম শুরু হওয়ার মাত্র দুদিন আগে অর্থাৎ ২৪ অক্টোবর, রদবদলের গতি আরও বাড়ে। ১৯৬৫ সালে জন্মগ্রহণকারী ওয়াং চিজুন হুনানের এবং ১৯৬৪ সালে জন্মগ্রহণকারী মো গাওয়ি ইউনানের পার্টি সেক্রেটারি হন।

একই সময়ে তুলনামূলক তরুণ কর্মকর্তারা গভর্নরের পদের জন্য এগিয়ে আসেন: ফুচিয়েনে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণকারী গো নিংনিং, ছিংহাইয়ে ১৯৭১ সালে জন্মগ্রহণকারী জুগে ইউজিয়ে এবং হুনানে ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণকারী সিয়ে ওয়েইচিয়াং গভর্নর হন।

উত্তরসূরিকে রাজনৈতিকভাবে নির্ভরযোগ্য হতে হবে, কিন্তু এই নির্ভরযোগ্যতা মানে কেবল সির ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ হওয়া নয়। সিকে বিশ্বাস করতে হবে যে এই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর রাজনৈতিক নীতি বা অবদানকে অস্বীকার করবেন না।

এটি স্পষ্টত একটি প্রজন্মগত পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। প্রাদেশিক পার্টি সেক্রেটারির পদগুলোতে ধীরে ধীরে ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জায়গা করে নিচ্ছেন, আর ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য খুলে যাচ্ছে গভর্নরের পদ।

ইতিমধ্যে যারা পূর্ণ প্রাদেশিক বা মন্ত্রী পদমর্যাদায় পৌঁছেছেন, তাঁদের দিকে তাকালে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চচিয়াংয়ের গভর্নর লিউ চিয়ে, চিয়াংসুর গভর্নর লিউ সিয়াওথাও এবং কুয়াংশির চেয়ারম্যান ওয়েই তাও—তাঁরা সবাই ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। শানসির গভর্নর লু দোংলিয়াং জন্ম নিয়েছেন ১৯৭৩ সালে।

জু, গো, জুগে এবং সিয়ে এখন এই সারিতে যুক্ত হয়েছেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী চাং চেংজোং; চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান চেং ফু বো এবং কমিউনিস্ট ইউথ লিগের প্রথম সম্পাদক আ দোং—তাঁরা সবাই ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন।

কয়েক বছর আগেও ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের ‘তরুণ ক্যাডার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। আর এখন তাঁরা দলবদ্ধভাবে শীর্ষ আমলাতন্ত্রের মূল কেন্দ্রে প্রবেশ করতে শুরু করেছেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কংগ্রেসে ভোট হলেও প্রক্রিয়াটিকে একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখা হয়

এভাবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি দল তৈরি হচ্ছে ঠিকই, তবে আসল প্রশ্ন হলো—সি চিন পিং কেমন ব্যক্তিকে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখতে চান?

সাধারণভাবে কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে সির মানদণ্ড সর্বজনবিদিত: রাজনৈতিক যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে; ক্যাডারদের অবশ্যই অনুগত, সৎ এবং দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার মানসিকতাসম্পন্ন হতে হবে; পাশাপাশি তাঁদের পেশাগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সামর্থ্য এবং বড় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষমতা থাকতে হবে। তবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হয়, যা সাধারণ জ্যেষ্ঠ পদায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

সির উত্তরসূরি নির্বাচনের আলোচনা প্রায়ই দুটি চরমপন্থায় গিয়ে ঠেকে। একদলের মতে, সি কেবল অন্ধ আনুগত্যকেই গুরুত্ব দেন। অন্যদলের মতে, তিনি সবচেয়ে দক্ষ এবং সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীকেই বেছে নেবেন।

বাস্তবে দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। তবে একজন নেতা যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শাসন করেছেন এবং একটি পুরো যুগের সঙ্গে নিজের নাম, তত্ত্ব ও রাজনৈতিক ভাবধারাকে গভীরভাবে গেঁথে দিয়েছেন, তাঁর জন্য প্রথম মানদণ্ড হলো নিজের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করা।

উত্তরসূরিকে রাজনৈতিকভাবে নির্ভরযোগ্য হতে হবে, কিন্তু এই নির্ভরযোগ্যতা মানে কেবল সির ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ হওয়া নয়। সিকে বিশ্বাস করতে হবে যে এই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসার পর তাঁর রাজনৈতিক নীতি বা অবদানকে অস্বীকার করবেন না।

তিনি জোসেফ স্টালিনের মৃত্যুর পর নিকিতা ক্রুশ্চেভের মতো হতে পারবেন না, যিনি জীবদ্দশায় পূর্বসূরির তোষামোদি করেছিলেন কিন্তু মৃত্যুর পর তাঁর তীব্র নিন্দা করেছিলেন। আবার তিনি মাও সে–তুংয়ের পর ডেং সিয়াওপিংয়ের মতোও হতে পারবেন না, যিনি পূর্বসূরির মর্যাদা রক্ষা করলেও ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক আদর্শকে মৌলিকভাবে বদলে দিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় মানদণ্ড হলো রাজনৈতিক পূর্বাভাসযোগ্যতা বা আচরণগত নিশ্চয়তা।

আজকে যে কর্মকর্তা সির প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত, সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর তিনি একই আচরণ নাও করতে পারেন। চরম ক্ষমতা মানুষের রাজনৈতিক আচরণ বদলে দেয়—সি নিজে এটি অনেকের চেয়ে ভালো বোঝেন। একজন নির্ধারিত উত্তরসূরি হিসেবে তিনি সবার সঙ্গে নম্র ও সহযোগিতাপূর্ণ ছিলেন। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরই তিনি দ্রুত নিজের কেন্দ্রিক একটি রাজনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলেন।

কয়েক বছর ধরে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সি সম্ভবত আরও দুই মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এই হিসাব সঠিক হলে, এখনই নির্দিষ্ট কোনো উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই।

সি হয়তো দুটিই চান: এমন এক উত্তরসূরি যিনি ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট শক্তিশালী হবেন, আবার রাজনৈতিকভাবে তাঁর কাছে শতভাগ পূর্বাভাসযোগ্যও থাকবেন।

তৃতীয় মানদণ্ড হলো দেশ শাসনের সক্ষমতা।

২০৩০-এর দশকে চীনের নেতৃত্ব দেওয়া মানে কেবল জিডিপির প্রবৃদ্ধি সামলানো নয়। নতুন নেতাকে জটিল অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও নিরাপত্তাঝুঁকি এবং ১০ কোটিরও বেশি সিসিবি সদস্য, বিশাল আমলাতন্ত্র, জটিল স্থানীয় স্বার্থ ও বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থনীতিসমৃদ্ধ একটি বিশাল দল-রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।

এমন কেউ যিনি অনুগত কিন্তু অদক্ষ, তিনি শেষ পর্যন্ত সির রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা করতে ব্যর্থ হতে পারেন। আবার খুব বেশি শক্তিশালী ও স্বাধীনচেতা কেউ সির প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজের একটি রাজনৈতিক যুগ তৈরি করতে পারেন। ফলে সম্ভাব্য উত্তরসূরিকে অত্যন্ত সংকীর্ণ পথ ধরে হাঁটতে হবে।

এর জন্য প্রয়োজন সংবেদনশীল ও চ্যালেঞ্জিং পদে কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা। সি যদি সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের পরখ করার সময় পান, তবে তিনি সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থীদের বিভিন্ন কঠিন পদে দায়িত্ব দেবেন—এটাই স্বাভাবিক।

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং

এই কারণেই বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংডং, চিয়াংসু এবং চচিয়াং এত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু, কয়েকটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আবার কয়েকটি দুটোই। এই প্রদেশগুলো পরিচালনা করা একটি বড় পরীক্ষা, বিশেষ করে সংকটের মুহূর্তে কর্মক্ষমতা প্রমাণের পরীক্ষা।

কারণ রুটিন কাজকর্ম পরিচালনার চেয়ে অর্থনৈতিক মন্দা, বড় কোনো দুর্ঘটনা, সামাজিক অসন্তোষ বা কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের সময় একজন কর্মকর্তা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন—সেটাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রার্থীদের এই তালিকাকে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি প্রশ্ন যুক্ত হয়: সি চিন পিং কখন পদত্যাগ করতে চান?

কয়েক বছর ধরে আমার পর্যবেক্ষণ হলো, সি সম্ভবত আরও দুই মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২৭ থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন। এই হিসাব সঠিক হলে, এখনই নির্দিষ্ট কোনো উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার কোনো প্রয়োজন তাঁর নেই।

খুব আগেই উত্তরাধিকারীর নাম ঘোষণা করলে কোনো বিশেষ সুবিধা তো মিলবেই না, বরং সির বাইরে ক্ষমতার আরেকটি দ্বিতীয় কেন্দ্র তৈরি হতে পারে। কর্মকর্তারা স্বাভাবিকভাবেই সেই ব্যক্তির দিকে ঝুঁকতে শুরু করবেন। উত্তরাধিকারীর প্রভাব তাঁর আনুষ্ঠানিক পদকে ছাড়িয়ে যাবে।  

তাই এই পর্যায়ে সি চিন পিং কোনো একজনকে বেছে না নিয়ে বরং সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের খসড়া তালিকা তৈরি করার সম্ভাবনাই বেশি। অন্যান্য যোগ্যতা ঠিক থাকলে, ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের এই তালিকায় থাকার সম্ভাবনা বেশি।

সি যদি ২০৩৭ সালের দিকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন, তবে তাঁদের বয়স হবে ৬৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। এটা শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য একটি যুক্তিযুক্ত বয়সসীমা, যদিও তা সি বা তাঁর পূর্বসূরি হু জিনতাওয়ের ক্ষমতা গ্রহণের সময়ের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এটি সির জন্য সুবিধাজনকও হতে পারে; কারণ একজন প্রবীণ নেতার পক্ষে সির নিজস্ব উত্তরাধিকার থেকে বিচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।

আমার ধারণা, ২১তম সেন্ট্রাল কমিটির বয়সের মূল কেন্দ্রবিন্দু ১৯৬৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়বে স্পষ্টভাবেই। সি এবং হাতে গোনা কয়েকজন শীর্ষ নেতা ছাড়া ১৯৫০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারী কর্মকর্তারা সেন্ট্রাল কমিটি থেকে অনেকটাই অদৃশ্য হয়ে যাবেন।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠাতে দাঁড়িয়ে আছেন চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং

১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে জন্মগ্রহণকারীরা পূর্ণ সদস্যপদের মূল ভিত্তি হবেন, আর ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী চাও, বেইজিংয়ের মেয়র ইন ইয়ং এবং শানসির গভর্নর চাও গাংয়ের মতো ব্যক্তিত্বরা যদি বড় সংখ্যায় প্রবেশ করতে শুরু করেন, তবে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই ২০৩০-এর দশকের শীর্ষ পর্যায়ের প্রার্থী তালিকার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠবেন।

আর জু, লু, লিউ চিয়ে বা লিউ সিয়াওথাওয়ের মতো ১৯৭০-পরবর্তী কর্মকর্তারা যদি ২১তম পার্টি কংগ্রেসেই পলিটব্যুরোতে প্রবেশ করেন, তবে বার্তাটি আরও শক্তিশালী হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত যা–ই ঘটুক না কেন, আমি মনে করি না যে ২১তম পার্টি কংগ্রেস বাইরের বিশ্বকে স্পষ্ট করে দেবে যে সি চিন পিংয়ের উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন। এটি বড়জোর আমাদের জানাতে পারে যে দৌড়ের শেষ ধাপে কারা টিকে আছেন।

  • দেং ইউওয়েন চীনা লেখক।

    ফরেন পলিসি থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

সূত্র: প্রথম আলো