|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

সুসিকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসনবিরোধী মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করে কী বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৫ এএম
১৯৭ পঠিত
সুসিকে সরিয়ে কট্টর অভিবাসনবিরোধী মিলারকে হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ করে কী বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
৪১ বছর বয়সী মিলার ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক। বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে দেখা হয় তাঁকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি উইলিসকে সরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর জায়গায় গতকাল শুক্রবার নিয়োগ দিয়েছেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা অভিবাসন ইস্যুতে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত নীতিগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মিলার। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর মিলারের এই নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে, ট্রাম্প এখনো তাঁর আগের অবস্থানে অটল আছেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। ফলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনে মিলার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত করতে পারবে। আগামী বছরের জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হবে।

৪১ বছর বয়সী মিলার ট্রাম্পের অন্যতম কট্টর সমর্থক। বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নের অন্যতম রূপকার হিসেবে দেখা হয় তাঁকে।

ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রক্ষণশীল ছাত্রসংগঠন ডিউক কনজারভেটিভ ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেন মিলার। সে সময় ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থী পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন চিফ অব স্টাফ মিলারকে তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত উপদেষ্টাদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন। আগামী সোমবার থেকে সুসি উইলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন মিলার।

শুরু থেকেই রক্ষণশীল রাজনীতি

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হওয়ার অনেক আগেই রক্ষণশীল রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন স্টিফেন মিলার।

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান্তা মনিকা হাইস্কুলে পড়তেন মিলার। সে সময় স্থানীয় বেতার অনুষ্ঠানে স্কুলের উদারপন্থী নীতির সমালোচনা করতেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যখন আবার রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, তখনো তাঁর পাশে ছিলেন মিলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মিলারকে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রক্ষণশীল ছাত্রসংগঠন ডিউক কনজারভেটিভ ইউনিয়নের নেতৃত্ব দেন মিলার। সে সময় ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি।

পড়াশোনা শেষে ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে যান মিলার। সেখানে রিপাবলিকান পার্টির কংগ্রেস সদস্য ও সিনেটর জেফ সেশনসের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে যোগ দেন মিলার। প্রচারে ট্রাম্পের বক্তব্যের ধরন ও রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক ভাষা সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

২০১৭ সালে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয়, শুরু থেকেই তাঁদের দুজনের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। ট্রাম্পকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য সাজাতে সহায়তা করেছিলেন মিলার।’

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভূমিকা

ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর উপদেষ্টা ও ভাষণলেখকের দায়িত্ব পান মিলার।

ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি প্রণয়নে প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল মিলারের। এসব নীতিকে ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ রক্ষার উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করতেন তিনি।

ওই সময়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেন, মিলার শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী বক্তব্য ও মতাদর্শ ছড়াচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক আইনি সংস্থা সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার ২০১৯ সালে কিছু ই–মেইল প্রকাশ করেছিল। সেসব ই–মেইলে মিলারের বিরুদ্ধে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ওয়েবসাইট ও মতাদর্শকে সমর্থন করার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর হোয়াইট হাউস থেকে মিলারকে সরানোর দাবিতে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা সোচ্চার হন।

২০২০ সালে কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন জেনেশুনে একজন শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী ব্যক্তিকে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিনির্ধারণী ও প্রভাবশালী পদে বসিয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

সাধারণত হোয়াইট হাউসের কর্মীদের তদারকি ও নিয়োগ, প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি নির্ধারণ এবং নীতিগত বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন চিফ অব স্টাফ।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি চালুর পেছনেও মিলারের ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। বিচার বিভাগের এ নীতির আওতায় বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

এর ফলে অনেক মানুষ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তার হওয়া মা-বাবার সঙ্গে তাঁদের শিশুদের রাখার নিয়ম নেই। তাই অনেক শিশু তাঁদের মা–বাবা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের মুখে পরে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নীতিটি পরিবর্তন করেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্টিফেন মিলার

অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশুদের জন্য চালু করা ‘ডেফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস’ কর্মসূচি বন্ধের পক্ষেও প্রচার চালান মিলার। এ কর্মসূচির আওতায় ওই শিশুগুলো বড় হয়ে শিক্ষা ও চাকরির বৈধ কাগজপত্র পেত। ২০২১ সালে কর্মসূচিটি বন্ধ হয়ে যায়।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপে ভূমিকা রাখেন মিলার। এসব বিধিনিষেধের আওতায় ২০১৭ সালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

প্রাথমিক আদেশে সিরিয়া, ইরান, ইরাক, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে নীতিটিতে পরিবর্তন আনা হয়। সংশোধিত নীতির পক্ষে শেষ পর্যন্ত রায় দেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।

২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জালিয়াতি করে ট্রাম্পের জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে—এমন ভিত্তিহীন দাবিরও অন্যতম সমর্থক মিলার। সে সময় ট্রাম্পকে বিজয়ী ঘোষণা করার জন্য একটি পরিকল্পনার পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরও প্রভাবশালী

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প যখন আবার রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিলেন, তখনো তাঁর পাশে ছিলেন মিলার। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প আবার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর মিলারকে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর পলিসি ও জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এরপর ট্রাম্পের বিপুলসংখ্যক অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করেন মিলার। এ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা বেড়েছে। তাঁরা ক্রমেই এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই অথবা যাঁরা সামান্য অপরাধে অভিযুক্ত।

২০২৫ সালের মে মাসে ফক্স নিউজকে মিলার বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিদিন অন্তত তিন হাজার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ সংখ্যা প্রতিদিন আরও বৃদ্ধি করার জন্য চাপ দিয়ে যাবেন।’

অভিবাসন কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান সহিংস কৌশলের পক্ষেও সোচ্চার ছিলেন মিলার। মিনিয়াপোলিসে জানুয়ারিতে এক অভিযানে রেনে গুড ও অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার পর প্রথমে তিনি তাঁদের দুজনকেই ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করেন। পরে প্রেটির বিষয়ে দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসেন।

এ অভিযানের অংশ হিসেবে ফিলিস্তিনিদের অধিকার সমর্থনকারী এবং গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েল সরকারের নিপীড়নের সমালোচনাকারী ভিসাধারী ও স্থায়ী বাসিন্দাদেরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রাশিদা তালিবসহ অনেকের ফিলিস্তিনপন্থী বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন মিলার। রাশিদা তালিব কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী।

২০২৩ সালে ফক্স নিউজকে মিলার বলেছিলেন, ‘রাশিদা তালিবকে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা উচিত।’ এ সময় তিনি ওই আইনপ্রণেতা ও অন্য ডেমোক্র্যাটদের ‘গভীরভাবে ইহুদিবিদ্বেষী ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী’ বলেও আখ্যা দেন।

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সুসি উইলিস

হোয়াইট হাউসে ফিরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছিলেন মিলার। তবে সে চেষ্টা সফল হয়নি। একই সঙ্গে পশ্চিম গোলার্ধে ট্রাম্পের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে ক্রমেই বেশি সোচ্চার হয়েছেন তিনি।

ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলা মাদুরোকে রাজধানী কারাকাস থেকে তুলে নেওয়ার পদক্ষেপকে সমর্থন করেন মিলার। এ ছাড়া গত জানুয়ারিতে সিএনএনকে তিনি বলেন, সামরিক অভিযান চালিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল করার অধিকার আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফের দায়িত্ব কী

মিলারের নতুন দায়িত্বের ফলে ট্রাম্পের ওপর তাঁর প্রভাব কতটা বাড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

সাধারণত হোয়াইট হাউসের কর্মীদের তদারকি ও নিয়োগ, প্রেসিডেন্টের কর্মসূচি নির্ধারণ এবং নীতিগত বিষয়ে তাঁকে পরামর্শ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন চিফ অব স্টাফ।

এই পদে থাকা ব্যক্তি হোয়াইট হাউসে তথ্যপ্রবাহের ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রাখেন। এ কারণে প্রশাসনের কেউ কেউ তাঁকে প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছানোর ‘দ্বাররক্ষক’ বলে অভিহিত করেন।

সূত্র: প্রথম আলো