|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

এআই যত দ্রুত কোড লিখছে, সফটওয়্যারের ‘কোয়ালিটি’ তত বড় চ্যালেঞ্জ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পিএম
২৬৯ পঠিত
এআই যত দ্রুত কোড লিখছে, সফটওয়্যারের ‘কোয়ালিটি’ তত বড় চ্যালেঞ্জ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
এআই যদি সফটওয়্যার তৈরির গতি বহুগুণ বাড়ায়, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা একইভাবে না বাড়লে সফটওয়্যার সরবরাহের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে মান নিশ্চিতকরণ।

বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানি নিয়ে আমরা অনেক দিন ধরেই বড় স্বপ্নের কথা বলছি। দক্ষ জনবল, তুলনামূলক কম খরচ, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ এবং সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—সবই সেই আলোচনায় আছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে সফটওয়্যারের মূল প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু কে কত দ্রুত বা কত কম খরচে কোড লিখতে পারে, সেটি নিয়ে নয়; মূল প্রশ্ন হচ্ছে—কার সফটওয়্যার বেশি নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, স্কেলযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য; অর্থাৎ সফটওয়্যার রপ্তানির মূল লড়াই হচ্ছে কোয়ালিটি নিয়ে।

একজন আন্তর্জাতিক ক্রেতা শুধু কোড কেনেন না; তিনি আসলে আস্থা কেনেন—সফটওয়্যারটি ঠিকমতো কাজ করবে কি না, ব্যবহারকারী বাড়লে টিকে থাকবে কি না, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করবে কি না, নতুন সংস্করণে পুরোনো ফিচার ভেঙে যাবে কি না এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে মান বজায় রাখতে পারবে কি না। বাংলাদেশ যদি উচ্চমূল্যের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানি বাড়াতে চায়, তাহলে সফটওয়্যার কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স, টেস্টিং ও কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিংকে আর সফটওয়্যার তৈরির শেষ ধাপের একটি কারিগরি কাজ হিসেবে দেখলে চলবে না। এটি এখন রপ্তানি প্রতিযোগিতার অন্যতম মৌলিক সক্ষমতা। সহজ ভাষায়, ভালো টেস্টিং মানে ভালো সফটওয়্যার ও বেশি আস্থা এবং বেশি আন্তর্জাতিক প্রকল্প ও বেশি রপ্তানি।

এআইয়ের যুগে মানের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে

এআইয়ের সহায়তায় সফটওয়্যার উন্নয়ন এখন কোড তৈরির গতি নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোড লেখা, ত্রুটি খোঁজা, ডকুমেন্টেশন, টেস্ট কেস তৈরি—সবকিছুতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার হচ্ছে। ফলে একই সময়ে একটি উন্নয়ন দল আগের তুলনায় অনেক বেশি ফিচার ও কোড তৈরি করতে পারছে। কিন্তু এখানেই নতুন সংকট।

একজন আন্তর্জাতিক ক্রেতা শুধু কোড কেনেন না; তিনি আসলে আস্থা কেনেন—সফটওয়্যারটি ঠিকমতো কাজ করবে কি না, ব্যবহারকারী বাড়লে টিকে থাকবে কি না, নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করবে কি না, নতুন সংস্করণে পুরোনো ফিচার ভেঙে যাবে কি না এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে মান বজায় রাখতে পারবে কি না।

যে গতিতে কোড তৈরি হচ্ছে, সেই একই গতিতে মান যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, কার্যকারিতা যাচাই ও নির্ভরযোগ্যতা পরীক্ষা না বাড়লে সফটওয়্যার সরবরাহ প্রক্রিয়ার বড় বাধা উন্নয়ন থেকে সরে কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্সের দিকে চলে যাবে।

এআই দ্রুত কোড তৈরি করতে পারে; কিন্তু সেই কোডের যথার্থতা, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণযোগ্যতা এবং ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য এখনো অনেকাংশে মানবিক বিচারবোধ ও কাঠামোবদ্ধ পরীক্ষার ওপর নির্ভরশীল। এ কারণেই ভবিষ্যতে ডেভেলপার ও টেস্টারের সম্পর্কও বদলাবে।

আগের চিত্র ছিল—অনেক ডেভেলপার, কিন্তু তুলনামূলক কম টেস্টার। এআই যুগের চিত্র হতে পারে দ্রুতগতির ডেভেলপার ও এআই এজেন্ট, সঙ্গে অনেক শক্তিশালী কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা। বিশেষ করে ব্যাংকিং, আর্থিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিযোগাযোগ, সরকারি ডিজিটাল সেবা, এআই-নির্ভর ব্যবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ডেভেলপার ও কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারের অনুপাত ভবিষ্যতে ১:১-এর কাছাকাছিও যেতে পারে। এটি এখনো কোনো সর্বজনীন শিল্পমান নয়। তবে দিকটি স্পষ্ট—এআই যদি সফটওয়্যার তৈরির গতি বহুগুণ বাড়ায়, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা একইভাবে না বাড়লে সফটওয়্যার সরবরাহের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হয়ে উঠতে পারে মান নিশ্চিতকরণ।

এআই যুগের চিত্র হতে পারে দ্রুতগতির ডেভেলপার ও এআই এজেন্ট, সঙ্গে অনেক শক্তিশালী কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতা। বিশেষ করে ব্যাংকিং, আর্থিক প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিযোগাযোগ, সরকারি ডিজিটাল সেবা, এআই-নির্ভর ব্যবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রে ডেভেলপার ও কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারের অনুপাত ভবিষ্যতে ১:১-এর কাছাকাছিও যেতে পারে।

এআই ডেভেলপারের প্রয়োজন কমাবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এআই যুগে দক্ষ কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজনীয়তা যে আরও কৌশলগত হয়ে উঠছে, সেটি ক্রমেই পরিষ্কার।

এআই দিয়ে টেস্টিং, আবার এআইকেও টেস্টিং

এআই যুগে সফটওয়্যার টেস্টিংয়ের কাজও বদলে যাচ্ছে। একদিকে আছে এআই দিয়ে টেস্টিং—এআই ব্যবহার করে টেস্ট কেস তৈরি, অটোমেশন, ত্রুটি পূর্বাভাস, রিগ্রেশন টেস্টিং ও কোয়ালিটি বিশ্লেষণ করা। অন্যদিকে আছে এআইকে টেস্টিং—একটি এআই–ব্যবস্থা কতটা নির্ভুল, নির্ভরযোগ্য, নিরাপদ, পক্ষপাতমুক্ত ও দায়িত্বশীল আচরণ করছে, সেটি যাচাই করা; অর্থাৎ আগামী দিনের টেস্টার শুধু ‘বাগ খোঁজার মানুষ’ নন। তাঁকে সফটওয়্যার, তথ্য, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্যবহারকারীর আচরণ এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকি—সবই বুঝতে হবে। এই পেশাজীবীই হচ্ছেন কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার বা টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার।

কোয়ালিটি এখন অর্থনৈতিক অবকাঠামো

ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, টেলিকম, ই-কমার্স, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, করব্যবস্থা, লজিস্টিকস ও সরকারি সেবা—সবই ক্রমে সফটওয়্যারনির্ভর। একটি সফটওয়্যার ত্রুটি এখন শুধু কারিগরি সমস্যা নয়। এটি টাকা আটকে দিতে পারে, সেবা বন্ধ করতে পারে, তথ্য ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, একটি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাহক হারাতে বাধ্য করতে পারে কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রেতার আস্থা নষ্ট করতে পারে। তাই সফটওয়্যার কোয়ালিটি শুধু সফটওয়্যার কোম্পানির বিষয় নয়। এটি ডিজিটাল আস্থার অবকাঠামো। আর আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থার সরাসরি আর্থিক মূল্য আছে।

বাংলাদেশে আমরা প্রায়ই আগে প্রশিক্ষণ দিই, পরে বাজার খুঁজি। সফটওয়্যার কোয়ালিটির ক্ষেত্রে উল্টোভাবে ভাবতে হবে। কোন দেশ ও কোন শিল্পে কী ধরনের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার দরকার, আগে সেটি নির্ধারণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা থাকতে পারে।

বাংলাদেশের রপ্তানির জায়গাটি কোথায়

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানি ছিল প্রায় ৭২ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার। এর প্রায় ৮৭ শতাংশ এসেছে কম্পিউটার সেবা থেকে—যার মধ্যে সফটওয়্যার উন্নয়ন, আউটসোর্সিং ও তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রয়েছে। বহু বছর ধরে আলোচিত ৫০০ কোটি ডলারের উচ্চাকাঙ্ক্ষার তুলনায় এই অর্জন এখনো অনেক কম। এর মানে এই নয় যে বড় লক্ষ্য নেওয়া ভুল ছিল; বরং শিক্ষা হচ্ছে, শুধু লক্ষ্য ঘোষণা যথেষ্ট নয়।

আমাদের জানতে হবে—

আমাদের দক্ষতা কোথায়? আমাদের আন্তর্জাতিক মান কতটা? আমাদের কোম্পানিগুলোর কোয়ালিটি সক্ষমতা কতটা? আমরা কোন বাজারে যাব? ক্রেতারা কেন বাংলাদেশকে বেছে নেবেন? এবং সবশেষে এই দক্ষতা কত রপ্তানি আয় তৈরি করছে?

জাতীয় মূল্যশৃঙ্খলটি তাই হওয়া উচিত—

* দক্ষতা, সক্ষমতা, কোয়ালিটি, আস্থা, প্রকল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি।

সফটওয়্যার কোয়ালিটিও রপ্তানি করা যায়

আরেকটি বড় সুযোগ হলো, বাংলাদেশকে সব সময় সম্পূর্ণ সফটওয়্যার তৈরি করেই রপ্তানি করতে হবে—এমন নয়; বিদেশে তৈরি সফটওয়্যার বাংলাদেশে বসেও টেস্ট করা সম্ভব। ফাংশনাল টেস্টিং, টেস্ট অটোমেশন, এপিআই টেস্টিং, পারফরম্যান্স টেস্টিং, নিরাপত্তা পরীক্ষা, মোবাইল টেস্টিং, অ্যাক্সেসিবিলিটি টেস্টিং, এআই/মেশিন লার্নিং যাচাই, ডেটা কোয়ালিটি ও ম্যানেজড কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স—এসব সেবাই আন্তর্জাতিকভাবে দূর থেকে দেওয়া যায়।

অর্থাৎ সফটওয়্যার টেস্টিং ও কোয়ালিটির দ্বৈত অর্থনৈতিক ভূমিকা আছে। একদিকে এটি বাংলাদেশের সব সফটওয়্যার রপ্তানিকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং নিজেই একটি রপ্তানিযোগ্য পেশাগত সেবায় পরিণত করবে।

বিশ্বমানের সঙ্গে সংযোগ জরুরি

মোহাম্মদ নূরুজ্জামান

আন্তর্জাতিক বাজারে দক্ষতার একটি সাধারণ ভাষা প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং কোয়ালিফিকেশনস বোর্ড—আইএসটিকিউবি, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সফটওয়্যার টেস্টিং সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাগুলোর একটি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত ১৫ লাখ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, ১১ লাখের বেশি সার্টিফিকেশন দেওয়া হয়েছে এবং এর কার্যক্রম ১৩০টির বেশি দেশে বিস্তৃত।

বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ড—বিএসটিবি ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশের আইএসটিকিউবি সদস্য পর্ষদ হিসেবে কাজ করছে। আইএসটিকিউবিএর নিজস্ব তালিকাতেও বিএসটিবিকে বাংলাদেশের মেম্বার বোর্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে। এর মূল্য শুধু সার্টিফিকেটে নয়, আসল মূল্য হচ্ছে বাংলাদেশের একজন পেশাজীবীর দক্ষতাকে এমন একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে মাপা, যা বিদেশি নিয়োগকর্তা ও ক্রেতার কাছে পরিচিত।

১০ হাজার পেশাজীবী—কিন্তু ১০ হাজার সার্টিফিকেট নয়

বিএসটিবি ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার সার্টিফায়েড টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার তৈরিতে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়েছে। এর বৃহত্তর উদ্দেশ্য হচ্ছে সার্টিফিকেশনকে কর্মসংস্থান, বৈশ্বিক প্রকল্প এবং তথ্যপ্রযুক্তি সেবা রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত করা। কিন্তু এই লক্ষ্যকে ১০ হাজার সার্টিফিকেট বিতরণের প্রকল্প বানানো যাবে না। সঠিক পথ হওয়া উচিত—শেখা, হাতে-কলমে কাজ মূল্যায়ন, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক প্রকল্প থেকে রপ্তানি আয়। আমাদের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর সাফল্যও শুধু কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, সেটি দিয়ে মাপা উচিত নয়। দেখতে হবে—কতজন চাকরি পেয়েছেন, কতজন আন্তর্জাতিক প্রকল্পে যুক্ত হয়েছেন এবং কত বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু করতে হবে

কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই তৈরি হওয়া প্রয়োজন। শুধু একটি সফটওয়্যার টেস্টিং কোর্স নয়—অটোমেশন, এপিআই টেস্টিং, পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা, এআই অ্যাস্যুরেন্স ও কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিংকে কাঠামোবদ্ধ শিক্ষাপথে আনা যেতে পারে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে সফটওয়্যার কোয়ালিটি ও টেস্টিং দক্ষতা তৈরির ক্ষেত্রে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ আরও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বিএসটিবি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথা বলছে।

বাজার না থাকলে প্রশিক্ষণের মূল্য কমে যায়

বাংলাদেশে আমরা প্রায়ই আগে প্রশিক্ষণ দিই, পরে বাজার খুঁজি। সফটওয়্যার কোয়ালিটির ক্ষেত্রে উল্টোভাবে ভাবতে হবে। কোন দেশ ও কোন শিল্পে কী ধরনের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ার দরকার, আগে সেটি নির্ধারণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনা থাকতে পারে।

আগামী ৫ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটন হোটেলে অনুষ্ঠেয় চতুর্থ এসকিউএটি বাংলাদেশ সিম্পাজিয়াম, প্রশ্নোত্তর ও টেস্টিং শুধু একটি প্রযুক্তি সম্মেলন নয়; এটি জাতীয় আলোচনার একটি সুযোগ। এবারের প্রতিপাদ্য ‘কোয়ালিটি ইন অ্যাজ অব এআই’। সম্মেলনে আইএসটিকিউবির গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া ডুসা–জিগার এবং সাবেক গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট অলিভার ডেনুর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। থাকবে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মাস্টারক্লাস, মূল প্রবন্ধ, আলোচনা, এআই টেস্টিং, টেস্ট অটোমেশন, কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, সার্টিফিকেশন ও পেশাবিষয়ক অধিবেশন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এটি শুধু টেস্টারদের সম্মেলন হওয়া উচিত নয়। এখানে থাকা প্রয়োজন সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী, প্রযুক্তিপ্রধান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি নেতৃত্ব, টেলিকম, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ডেভেলপার, সাইবার নিরাপত্তা পেশাজীবী এবং সরকারি নীতিনির্ধারকদেরও।

এই সম্মেলন থেকে কী বের হওয়া উচিত

এক দিনের সম্মেলন দিয়ে বাংলাদেশের সফটওয়্যার রপ্তানি বদলে যাবে না; কিন্তু সঠিক মানুষদের একই টেবিলে বসানো গেলে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা শুরু হতে পারে। আমাদের অন্তত কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন। বাংলাদেশে কতজন কোয়ালিটি ও টেস্টিং পেশাজীবী আছেন—তার একটি জাতীয় ভিত্তি-সমীক্ষা করা। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের দক্ষতার ফাঁক চিহ্নিত করা। ১০ হাজার আন্তর্জাতিকভাবে সার্টিফায়েড পেশাজীবীর লক্ষ্যকে কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করা। সরকারি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক মানের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং পথ যুক্ত করা। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর কোয়ালিটি সক্ষমতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়ারিং সেবা বিক্রির জন্য পরিকল্পিত বাজার উন্নয়ন শুরু করা।

শেষ পর্যন্ত লড়াইটা আস্থার

এআই সফটওয়্যার তৈরির গতি আরও বাড়াবে। কোড আরও বেশি তৈরি হবে। নতুন ফিচার আরও দ্রুত বাজারে আসবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত একটি প্রশ্ন থেকেই যাবে—যা তৈরি হচ্ছে, সেটি কি সত্যিই নির্ভরযোগ্য? এই প্রশ্নের উত্তরই হবে আগামী দিনের সফটওয়্যার শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতার জায়গা। বাংলাদেশের প্রযুক্তি ব্র্যান্ড কি শুধু ‘কম খরচে সফটওয়্যার তৈরি করা দেশ’ হবে? নাকি আমরা বলতে পারব—বাংলাদেশ বিশ্বস্ত প্রযুক্তি অংশীদার। বাংলাদেশ মানসম্মত সফটওয়্যার তৈরি করে। বাংলাদেশের কোয়ালিটি ইঞ্জিনিয়াররা বিশ্বমানের। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত দ্বিতীয়টি।

তাই সফটওয়্যার রপ্তানির মূল লড়াই শুধু কোডের পরিমাণ নিয়ে নয়। মূল লড়াই হচ্ছে ‘সফটওয়্যার টেস্টিং ও কোয়ালিটি’ নিয়ে।

ড. মোহাম্মদ নূরুজ্জামান: প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ড ও ড্যাফোডিল গ্রুপ সিইও

সূত্র: প্রথম আলো