|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

গাজীপুরে শিল্পের অস্থিরতায় পর্যটনে বড় ধাক্কা, বাতিল হয়েছে আগাম বুকিং

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম
৪৪৫ পঠিত
গাজীপুরে শিল্পের অস্থিরতায় পর্যটনে বড় ধাক্কা, বাতিল হয়েছে আগাম বুকিং
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সপ্তাহ খানেক ধরে চলা গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে জেলার পর্যটনে। বাতিল হয়েছে আগাম বুকিং ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থী না থাকায় অনেকটা অলস সময় পার করছেন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্...

বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে সপ্তাহ খানেক ধরে চলা গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে জেলার পর্যটনে। বাতিল হয়েছে আগাম বুকিং ও বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠানের আয়োজন। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। দর্শনার্থী না থাকায় অনেকটা অলস সময় পার করছেন রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

শনিবার (৭ নভেম্বর) জেলার বিভিন্ন রিসোর্ট ও বিনোদন কেন্দ্রের দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলার সব বড় বিনোদন কেন্দ্র গাজীপুর সাফারি পার্ক। কয়েকদিন ধরে চলা শ্রমিক আন্দোলনে দর্শনার্থী আগমনে বড় ধাক্কা খেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান বলেন, শ্রমিক আন্দোলনে পার্কে দর্শনার্থী অনেক কম ছিল। ভরা মৌসুমে অর্ধেকের চাইতেও কমে গিয়েছে। পার্কে সাধারণত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, সাভার, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দর্শনার্থীরা আসছেন। এসব দর্শনার্থীরা পার্কে আসতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ব্যবহার করে থাকেন। সম্প্রতি যে শ্রমিক অসন্তোষ হয়েছে তাতে পার্কে দর্শনার্থীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় চলে এসেছিল। গত দু’দিনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, তবে তা সংখ্যায় খুব কম।

তিনি বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ স্বাভাবিক হয়েছে কিনা, পার্কের কার্যক্রম চালু আছে কিনা, অনেক দর্শনার্থী ফোন পরিস্থিতি জেনে পার্কের আসার পরিকল্পনা করছেন। দর্শনার্থী আসার আগে খোঁজ নিয়ে আসছেন।

গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেই ‘সালনা পর্যটন রিসোর্ট এন্ড পিকনিক স্পট’ দর্শনার্থী উপস্থিতি কমেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক সোহরাব হোসেন বলেন, ‘শ্রমিক অসন্তোষের কারণে দুরদুরান্তের দর্শনার্থীরা এখানে আসতে পারেনি। যারা অগ্রীম বুকিং করে রেখেছিলেন তারা আগেই থেকেই যোগাযোগ করে বুকিং স্থগিত করেছিল। আর এলাকার দর্শনার্থীরা আসলে তার সংখ্যায় অনেক কম।’

শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নে অবস্থিত দেশের অন্যতম রিসোর্ট ‘ড্রীম স্কয়ার’। ওই প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা নুর আলম সিদ্দিকী বাবু বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তাদের পুরোই ধস নেমে এসেছে। সড়কে নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৯৮ ভাগ প্রোগ্রাম বাতিল হয়ে গিয়েছে। বড় বড় কর্পোরেট এইচএসবিসি’র প্রোগ্রাম ছিল, ইউনিসেফ এর প্রোগ্রাম ছিল তাদের সব প্রোগ্রামই পেন্ডিং হয়ে গেছে। তাতে প্রায় কোটি টাকার প্রোগ্রাম বাতিল হয়েছে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানেও দর্শনার্থীর সংখ্যা কমেছে। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের রেঞ্জার আরিফুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার কারণে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। সাধারণত শুক্র ও শনিবার উদ্যানে দর্শনার্থীদের চাপ বেশি থাকে। কিন্তু এবার সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন, নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের কারণে অনেকেই আসেননি। 

তিনি বলেন, শিল্পকারখানার অস্থিরতায় গাজীপুরের পর্যটন খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক থাকায় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে আসার মতো পরিবেশ ছিল না।

সূত্র: কালবেলা