চীনে মানসিক রোগে ভুগছে ১৭.৫ শতাংশ শিশু-কিশোর
গণমাধ্যম ডেক্স
চীনের ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ শিশু-কিশোর কোনো না কোনো মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত। ২০২১ সালে প্রকাশিত দেশব্যাপী এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। চীনের বেইজিং অ্যান্ডিং হাসপাতালের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই জরিপে ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতাজনিত সমস্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের।
গবেষকেরা জানিয়েছেন, প্রকৃত চিত্র আরও উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ, জরিপে স্কুলে যায় না এমন শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির ২০২২ সালের এক প্রতিবেদন অনুসারে, জরিপে অংশ নেওয়া কিশোর-কিশোরীদের ১৪ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে বিভিন্ন মাত্রার বিষণ্নতার ঝুঁকি রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় তাদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি। এর আগে একাডেমিটির আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নিম্ন মাধ্যমিকের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং উচ্চ মাধ্যমিকের প্রায় ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীর মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে।
হংকং পলিটেকনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক শিমিন ঝুর মতে, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল গণমাধ্যমের বিস্তার, পারিবারিক কাঠামোর পরিবর্তন এবং দ্রুত সামাজিক রূপান্তরের কারণে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।
চীনে জুনিয়র মিডল স্কুল বা নিম্ন মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত মোট নয় বছরের শিক্ষা বাধ্যতামূলক। এরপর সিনিয়র হাই স্কুলে ভর্তির পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ও কারিগরি শিক্ষার ধারায় ভাগ করা হয়। অঞ্চলভেদে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায়।
তবে চীনা সমাজে সাধারণ শিক্ষার প্রতি বেশি আগ্রহ থাকায় অনেক পরিবার কারিগরি শিক্ষার ধারাকে ব্যর্থতা হিসেবে দেখে। ফলে এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি মানসিক চাপ তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চাপ কমানো এবং দেশজুড়ে মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে চীন সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একজন করে পরামর্শক নিয়োগ এবং প্রতিবছর অন্তত একটি মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক অনুষ্ঠান বা বক্তৃতার আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির ৯২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯৫ শতাংশ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরামর্শক রয়েছেন।
তবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সন্তানের রোগনির্ণয়ের সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ এবং বিশেষজ্ঞের স্বল্পতা বড় বাধা হয়ে রয়েছে।
চীনা বিজ্ঞান একাডেমির এক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তান প্রথমবার মানসিক সমস্যার কথা জানানোর পর মাত্র ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ অভিভাবক তাকে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান।
এ ছাড়া ২০১৯ সালে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছিল, চীনে শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষায়িত যোগ্য মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা প্রায় ৫০০। তাদের অধিকাংশই দেশটির বড় শহরগুলোতে কর্মরত।
সূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স