|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আমরা প্রশ্ন করতে জানি, পরিবর্তনের সাহসও রাখি

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
৩৬৯ পঠিত
আমরা প্রশ্ন করতে জানি, পরিবর্তনের সাহসও রাখি
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
সকালবেলাতেই যুদ্ধ, সহিংসতা, দুর্নীতি, জলবায়ু সংকটসহ একের পর এক নেতিবাচক খবর পড়তে গিয়ে কখনো কখনো মনে অস্থিরতা তৈরি হয়। মনে হয়, পৃথিবী যেন দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

আমার বাড়ি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নে। বর্তমানে ভোলা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগে স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষে পড়ছি।

প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠি। দিনের শুরুতেই ঠিক করে নিই, সারা দিন কী পড়ব, কী কাজ করব। এরপর কিছুটা সময় কাটাই অনলাইনে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর পড়ে। প্রথম আলো, যমুনা টিভি, সময় টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদ অনুসরণ করি। দেশের ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির দিকেও নজর রাখি। কিন্তু সকালবেলাতেই যুদ্ধ, সহিংসতা, দুর্নীতি, জলবায়ু সংকটসহ একের পর এক নেতিবাচক খবর পড়তে গিয়ে কখনো কখনো মনে অস্থিরতা তৈরি হয়। মনে হয়, পৃথিবী যেন দিন দিন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে।

অথচ আমাদের সমাজে এখনো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়নি। অনেক তরুণ-তরুণী নিজের মানসিক কষ্ট প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। আমি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবেন, প্রয়োজনীয় সহায়তাও পাবেন।

পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি সাহিত্য, উপন্যাস ও পত্রিকা পড়তে ভালোবাসি। ছাপা বই পড়তেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। খবর জানতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলেও কোনো বিষয় গভীরভাবে বোঝার জন্য পত্রিকার ওপরই বেশি আস্থা রাখি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ আছে। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে সময় নষ্ট হয়। ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের অপ্রয়োজনীয় তুলনাও তৈরি হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকা জরুরি।

আমার কাছে সফলতা শুধু চাকরি, অর্থ বা সামাজিক মর্যাদা নয়। সৃষ্টিকর্তার ইবাদত করা, নিজের কাজের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, পরিবারের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো এবং মানসিক শান্তি নিয়ে বেঁচে থাকাই প্রকৃত সফলতা। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা প্রয়োজন, কিন্তু মানসিক শান্তি ছাড়া কোনো অর্জনই পরিপূর্ণ নয়।

আমাদের প্রজন্মও আর্থিক নিরাপত্তা চায়। তবে এর পাশাপাশি মানসিক শান্তি, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নিজের পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগকে আমি ভয় নয়, নতুন সুযোগ হিসেবে দেখি।

অথচ আমাদের সমাজে এখনো মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়নি। অনেক তরুণ-তরুণী নিজের মানসিক কষ্ট প্রকাশ করতে সংকোচ বোধ করেন। আমি এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে মানুষ নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবেন, প্রয়োজনীয় সহায়তাও পাবেন।

আমার কাছে আগের প্রজন্মের সঙ্গে জেন-জির সবচেয়ে বড় পার্থক্য সফলতাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতে। আগের প্রজন্মের কাছে স্থায়ী চাকরি ও আর্থিক নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের প্রজন্মও আর্থিক নিরাপত্তা চায়। তবে এর পাশাপাশি মানসিক শান্তি, ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং নিজের পছন্দের কাজকে গুরুত্ব দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগকে আমি ভয় নয়, নতুন সুযোগ হিসেবে দেখি। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে আরও ভালো সম্ভাবনা তৈরি হবে।

জেন-জি নিয়ে অনেকেই বলেন, আমরা অস্থির। কিন্তু আমি মনে করি, আমাদের প্রজন্ম প্রশ্ন করতে জানে, নতুনভাবে চিন্তা করতে জানে এবং পরিবর্তনের সাহস রাখে। তবে সততা ধরে রাখার পরীক্ষাও আমাদের দিতে হবে। আমার একজন শিক্ষক বলেছিলেন, ‘সুযোগের অভাবে সবাই সৎ।’ কথাটি আমাকে সব সময় দায়িত্বশীল থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়।

আমি ভোলার মানুষ। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খুব কাছ থেকে দেখি। নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জীবনে সরাসরি প্রভাব ফেলছে। শুধু ভোলা নয়, পুরো বাংলাদেশই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ ও অস্থিরতা। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে, যার ধাক্কা লাগে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবনেও। মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন করে তোলে।

আমি মনে করি, সমাজ থেকে কুসংস্কার, বৈষম্য ও সংকীর্ণ মানসিকতা দূর করতে হবে। নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শক্তিশালী করতে হবে বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার চর্চা।

একজন নাগরিক হিসেবে আমি এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগাতে চাই দেশের মানুষের জন্য।

আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চাই। বিশ্বাস করি, শুধু জেন-জি নয়, সব প্রজন্ম যদি দলমত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সততা, সহমর্মিতা ও দেশপ্রেম নিয়ে একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

  • আব্দুল আহাদ: শিক্ষার্থী, চরফ্যাশন, ভোলা

সূত্র: প্রথম আলো