|
| |
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

আয়ারল্যান্ডের প্রাচীন গুহা ‘নরকের দরজা’ ঘিরে নতুন পর্যটনপথ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম
৩৫৬ পঠিত
আয়ারল্যান্ডের প্রাচীন গুহা ‘নরকের দরজা’ ঘিরে নতুন পর্যটনপথ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ, পাথরের দেয়াল আর চরে বেড়ানো গবাদিপশুর মাঝে লুকিয়ে আছে ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন রাজকীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই স্থানটির নাম রাথক্রোগান। এখানকার একটি রহস্যময় গুহাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে হ্যালোইন উৎসবের প্রাচীন ঐতি...

আয়ারল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ, পাথরের দেয়াল আর চরে বেড়ানো গবাদিপশুর মাঝে লুকিয়ে আছে ইউরোপের অন্যতম প্রাচীন রাজকীয় প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসসমৃদ্ধ এই স্থানটির নাম রাথক্রোগান। এখানকার একটি রহস্যময় গুহাকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে হ্যালোইন উৎসবের প্রাচীন ঐতিহ্য।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি রসকমনের ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রাথক্রোগান একসময় দেশটির কনট প্রদেশের প্রাচীন রাজধানী ছিল। এখানে রয়েছে ২৬৬টি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এর মধ্যে আছে লৌহযুগের বৃত্তাকার দুর্গ, প্রাচীন আইরিশ লিপিতে খোদাই করা পাথর এবং সমাধিক্ষেত্র।

এত দিন ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে এসব নিদর্শনের অনেকগুলো থাকায় পর্যটকদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। সম্প্রতি চালু হয়েছে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রাথক্রোগান প্রত্নতাত্ত্বিক হাঁটার পথ। এই পথ ধরে পর্যটকরা এখন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ঘুরে দেখতে পারবেন। পুরো পথ হাঁটতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

রাথক্রোগানের সবচেয়ে রহস্যময় স্থাপনাগুলোর একটি হলো ‘ওয়েনাগ্যাট’ গুহা। স্থানীয়ভাবে এটি ‘নরকের দরজা’ নামে পরিচিত। মূল প্রত্নস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত গুহাটি মাটির সাত মিটার নিচে এবং প্রায় ৩৭ মিটার দীর্ঘ।

প্রাচীন আইরিশ লোককাহিনি অনুযায়ী, গুহাটি অতিপ্রাকৃত দেবী মোরিগানের আবাসস্থল ছিল। দেবীর সঙ্গে সামহেইন উৎসবের সম্পর্ক রয়েছে। ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবের মধ্য দিয়ে শীতের আগমনকে স্বাগত জানানো হতো। 

প্রাচীন বিশ্বাস অনুযায়ী, এ সময় জীবিতদের জগৎ ও অতিপ্রাকৃত জগতের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসত। অশুভ আত্মাদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ ছদ্মবেশ ধারণ করত। কালক্রমে এসব রীতিই হ্যালোইন উৎসবের ঐতিহ্যে রূপ নেয়।

তবে নিরাপত্তার কারণে গুহাটি বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বন্ধ। ভেতরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেশি থাকায় সেখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, রাথক্রোগান শুধু প্রাচীন স্থাপনার সমষ্টি নয়; এটি ছিল রাজাদের অভিষেক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, উৎসব ও সমাধির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। নতুন হাঁটার পথটি পর্যটকদের সেই প্রাচীন ইতিহাস ও লোককাহিনির সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।
  
সূত্র: বিবিসি

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স