|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইউটিউব দেখে মরুর দেশের ফলের আবাদ 

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২১ পিএম
১৮৩ পঠিত
ইউটিউব দেখে মরুর দেশের ফলের আবাদ 
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শাকসবজির বিপরীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে মরুর দেশের ফল। খালের পাড়ে বিস্তৃত চরের জমিতেই এবার ফলেছে মরুভূমির ফল সাম্মাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখে ৪০ শতক জমিতে এ ফলের চাষ করেন ৪২ বছর বয়সী কৃষক মো. এখলাস। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছেন।  ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর বাইন্যাচোলা ব্...

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শাকসবজির বিপরীতে এখন চাষাবাদ হচ্ছে মরুর দেশের ফল। খালের পাড়ে বিস্তৃত চরের জমিতেই এবার ফলেছে মরুভূমির ফল সাম্মাম। ইউটিউবে ভিডিও দেখে ৪০ শতক জমিতে এ ফলের চাষ করেন ৪২ বছর বয়সী কৃষক মো. এখলাস। প্রথমবারেই ভালো ফলন পেয়েছেন। 

ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর বাইন্যাচোলা ব্রিজ সংলগ্ন ধুরুং খালের চরে এ চাষাবাদ করেন তিনি। ওই গ্রমের মৃত আবুল কাশেমেরে ছেলে এখলাস। 

কৃষিকাজে আগে থেকেই যুক্ত ছিলেন। সাম্মাম চাষের আগে কলা, বরইসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও কৃষিপণ্য চাষ করতেন। এর আগে গাছের ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। নতুন কিছু করার আগ্রহ এবং বেশি লাভের আশায় এবার প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে সাম্মাম চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। গত ২২ আগস্ট ৪০ শতক জমিতে মালচিং পেপার ব্যবহার করে ২ হাজার ৪০০টি চারা রোপণ করেন। প্রথমবারের এই চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা। চারা রোপণের দেড় মাস পর থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। প্রায় সব গাছেই ফল এসেছে। 
সাম্মামের বাইরের অংশ হালকা সবুজ। ভেতরের শাঁস হলুদ রঙের। ফলটি খেতে মিষ্টি, তবে বিশেষ কোনো গন্ধ নেই। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি সাম্মাম ৬৫ টাকা দরে বিক্রি করছেন এখলাস। পাইকাররা সরাসরি তার ক্ষেত থেকে ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফটিকছড়ি সদর ছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা আসছেন। এ পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ কেজি সাম্মাম বিক্রি করেছেন তিনি। এতে আয় হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা। আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ কেজি ফল বিক্রির আশা করছেন। সেগুলো বিক্রি হলে আরও প্রায় ১ লাখ টাকা আয় হতে পারে। সব মিলিয়ে প্রথমবারের এই চাষে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টাকার ফল বিক্রির প্রত্যাশা করছেন তিনি।

সাম্মাম চাষি মো. এখলাস কালবেলাকে বলেন, আমাকে সহযোগিতা করছেন চার শ্রমিক। তারা সাম্মাম চাষের পাশাপাশি তার অন্যান্য কৃষিকাজেও সহযোগিতা করেন। 

ভালো ফলন পেতে জৈব সার, সালফারসহ পোকামাকড় দমনে প্রয়োজীয় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় বলে জানান এ কৃষক।

ফটিকছড়িতে সাম্মাম চাষে এখলাস একা নন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও পাঁচ কৃষক এ ফল চাষ করেছেন। তবে কাঞ্চননগর ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ধুরুং খালের চরে সাম্মাম চাষ করেছেন এখলাস। তার উৎপাদিত ফলের সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকদের মধ্যেও এ ফল চাষে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা শিবুরাম কৃষ্ণ দে কালবোলকে বলেন, ইউটিউব দেখে এখলাস সাম্মাম চাষের পরিকল্পনা করেন। চাষের শুরু থেকেই তার উদ্যোগের খোঁজ-খবর রাখতাম। মাঝে মধ্যে ক্ষেতে গিয়ে ফসলের অবস্থা দেখেছি। তাকে প্রয়োজনীয় সময় ও পরামর্শ দিয়েছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক কালবেলাকে বলেন, মরু অঞ্চলের ফল হিসেবে পরিচিত সাম্মাম ফটিকছড়িতে কয়েক বছর ধরে চাষ হচ্ছে। এবার কাঞ্চননগরের কৃষি উদ্যোক্তা এখলাসের হাত ধরে ধুরুং খালের চরে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ফলটির চাষ হয়েছে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স