|
| |
সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০২ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
৩০৫ পঠিত
চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সের কাছে ছিনতাইয়ের শিকার সাংবাদিক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় পুলিশ বক্সের কাছে যমুনা টেলিভিশনের এক সাংবাদিক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারাল অস্ত্র ও শর্টগানের ভয় দেখিয়ে তার মুঠোফোন ও মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলের হলেও রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজ...

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ লিংক রোড এলাকায় পুলিশ বক্সের কাছে যমুনা টেলিভিশনের এক সাংবাদিক ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারাল অস্ত্র ও শর্টগানের ভয় দেখিয়ে তার মুঠোফোন ও মানিব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলের হলেও রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নাম সুজন চন্দ্র দাস (৩১)। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল যমুনা টেলিভিশনের চট্টগ্রাম সেন্টারের চিত্রসাংবাদিক হিসেবে কর্মরত আছেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে সুজন চন্দ্র দাস জানান, গত শুক্রবার বিকেলে এক ছোট ভাইকে আনতে এক বন্ধুকে নিয়ে বায়েজিদ লিংক রোডে যান তিনি। কাজ শেষে পুলিশ বক্সের পাশের একটি মাঠে ঘোরাঘুরি ও ছবি তোলার পর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার মুখে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় আশপাশে মানুষের উপস্থিতির মধ্যেই ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাঁদের ঘিরে ধরে। দুর্বৃত্তদের হাতে কিরিচ, দেশীয় অস্ত্র ও শর্টগানজাতীয় অস্ত্র ছিল।

সুজন অভিযোগ করেন, দুর্বৃত্তরা তাদের জোরপূর্বক বসিয়ে ঘাড়ে কিরিচ ও বুকে শর্টগান ঠেকিয়ে সঙ্গে থাকা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস২৪ আলট্রা মডেলের মূল্যবান মুঠোফোন, মানিব্যাগ ও নথিপত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর পেছনে তাকালে পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুমকি দিয়ে তারা পাশের একটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়।

ছিনতাইয়ের পরপরই স্থানীয়দের নিয়ে পাহাড়ের দিকে খোঁজ চালিয়ে দুর্বৃত্তদের না পেয়ে পাশের পুলিশ বক্সে গিয়ে সহায়তা চান তারা। 

তবে সুজনের ভাষ্যমতে, দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা জানান যে দুর্বৃত্তরা সশস্ত্র দল হওয়ায় নিজেদের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো সম্ভব নয়।

আইনি সহায়তার বিষয়ে সুজন আরও জানান, পুলিশ বক্সের কাছে সাহায্য না পেয়ে আকবর শাহ থানায় গিয়ে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অবস্থান করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার মেলেনি। পুলিশ সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কথা বলে জানায়, ঘটনাস্থল সীতাকুণ্ড থানার আওতাধীন। 

শেষ পর্যন্ত গত শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও, সেখানে ছিনতাইয়ের মূল ঘটনাটি বাদ দিয়ে কেবল মুঠোফোন ও মোটরসাইকেলের স্মার্ট কার্ড ‘হারিয়ে যাওয়া’র কথা উল্লেখ করা হয়।

আইনশৃঙ্খলার এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে রোববার রাতে ফেসবুকে পোস্ট দেন সুজন। 

সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন, পুলিশ বক্সের পাশে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে ছিনতাই হলে এবং পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এ বিষয়ে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজের হোসাইন জানান, ঘটনাটি তাদের থানার আওতাধীন এলাকা নয়, বরং সীতাকুণ্ড থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ বলেন, নগরে পুলিশের অভিযানে কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে ইতোমধ্যে দুই শতাধিক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স