|
| |
রবিবার, ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিতে দক্ষিণ সিটির ২৯ ওয়ার্ড, একযোগে চিরুনি অভিযান

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
২২২ পঠিত
ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিতে দক্ষিণ সিটির ২৯ ওয়ার্ড, একযোগে চিরুনি অভিযান
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৫টি ওয়ার্ডে ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি ডেঙ্গুর অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। সংস্থাটির এডিস মশার লার্ভা জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। এসব ওয়ার্ডে আজ রোববার একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে ডিএসসিসি। এর আওতায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হবে।

আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের বি-টাইপ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম। করপোরেশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গুর ঝুঁকি নিরূপণ ও এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৭৫টি ওয়ার্ডে ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। ১২ দিনের এ জরিপে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৩২২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। শনাক্ত লার্ভা তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংসের পাশাপাশি লার্ভানাশক প্রয়োগ করা হয়।

ডিএসসিসি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন। মশার ঘনত্ব নিরূপণের বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে ২৯টি ওয়ার্ডকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টিকে মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ ও ১৮টিকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

জরিপে বহুতল ও সেমিপাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন ও খালি প্লটে জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, আঙিনা ও কর্মস্থল পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না।

অন্তত সপ্তাহে এক দিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

করপোরেশন জানিয়েছে, চিরুনি অভিযানে মশার লার্ভা ও পূর্ণাঙ্গ মশা নিধনে ওষুধ প্রয়োগ, প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়েও বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় ও যৌথ অভিযান পরিচালনার কথাও জানিয়েছে ডিএসসিসি। এসব কার্যক্রমের পরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জরিপের তথ্য তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, প্লাস্টিকের বালতিতে ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ, প্লাস্টিকের ড্রামে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ, বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিকের মগে ৯ দশমিক ২৩ শতাংশ ও ফুলের টবে ৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, নাগরিকেরা নিজ আঙিনা ও এসব পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলে শুরুতেই এডিস মশার বিস্তার প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: প্রথম আলো