ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে: রিজভী
গণমাধ্যম ডেক্স
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া জ্বর হলে নিজে নিজে ওষুধ সেবন না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এজন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
তিনি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি প্রশাসক ডা. শাহাদাতের ডেঙ্গু প্রতিরোধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
চসিক প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু সেন্টারে আগের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কমেছে। বৃষ্টিপাত ও জমে থাকা পানির সঙ্গে ডেঙ্গুর সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে। তাই ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য পাত্রে পানি জমতে না দিয়ে দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে। নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা কোথায় বংশবিস্তার করে প্রথমেই জানতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফুলের টব, বালতি, বোতল, পরিত্যক্ত টায়ার, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের কাপ, ছাদের পানি জমার স্থান, নির্মাণাধীন ভবন এবং ফ্রিজ ও এয়ারকন্ডিশনারের নিচে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নিয়মিত জমে থাকা পানি পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে চসিকের চলমান কর্মকাণ্ড উল্লেখ করতে গিয়ে প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু রোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন উচ্চপ্রযুক্তির বিটিআই (BTI) পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যা এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর। পাশাপাশি নগরীর ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুরু থেকেই সিটি করপোরেশনের ডেঙ্গু সেন্টারে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা ও সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও রোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদুল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক নেতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, বিএনপির চলমান কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে চমেক হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে রোগী, স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স