|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইইউর

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ এএম
৩৫৫ পঠিত
নিরাপত্তা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইইউর
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৃহৎ চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া ওয়াশিংটন ও মস্কো মহাদেশটির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন,...
ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৃহৎ চুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপের দেশগুলোর অংশগ্রহণ ছাড়া ওয়াশিংটন ও মস্কো মহাদেশটির নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাশিয়ার কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই। খবর ইউরো নিউজের। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি শুধু ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে হবে না, বরং পুরো ইউরোপকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। এটিকে বড় ও চমৎকার চুক্তি আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, এতে সবাই খুশি হবে। তবে চুক্তির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। একই সময়ে ট্রাম্পের বিশেষ দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার জানান, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরিতে ইউরোপের জন্য বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা। তাদের বক্তব্য, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত। ইউরোপীয় দেশগুলোকে পাশ কাটিয়ে এটি নতুন করে নির্ধারণের সুযোগ নেই। শুক্রবার ওয়ারশতে সাংবাদিকদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, ‘ইউরোপের নিজস্ব নিরাপত্তা কাঠামো আগে থেকেই রয়েছে। সমস্যা হলো, রাশিয়া বারবার সেই কাঠামোর ভিত্তি তৈরি করা চুক্তিগুলো লঙ্ঘন করছে।’ তিনি আরও বলেন, ২০২১ সালে ন্যাটো রাশিয়ার জন্য কোনো হুমকি ছিল না, এখনো নয়। ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্তে ভ্লাদিমির পুতিনের কোনো ভেটো ক্ষমতা নেই। যেকোনো চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অবশ্যই এতে যুক্ত করতে হবে। একই অবস্থান জানিয়েছেন পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইউরোপীয়দের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সমঝোতা রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, বাস্তবায়নও অসম্ভব। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহাও বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে রাশিয়াকে বিবেচনা করা যায় না। ক্রেমলিনের সঙ্গে প্রভাববলয় ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনার পরিবর্তে রুশ আগ্রাসন থেকে ইউরোপকে সুরক্ষিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। এর আগে ব্রাসেলসে টানা দুই দিন ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং ইউরোপের বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামোর ভবিষ্যৎ নিয়ে এসব বৈঠকে আলোচনা হয়। ভিডিও সংযোগে বৈঠকে অংশ নেওয়া কুশনার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সব পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা এবং স্থায়ী শান্তির ভিত্তি তৈরিতে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে ওয়াশিংটন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগে ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে রাশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর আগে ন্যাটোর কাছে ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল মস্কো। ১৯৯৭ সালের পর ন্যাটোতে যোগ দেওয়া দেশগুলো থেকে জোটটির সেনা প্রত্যাহারের দাবিও ছিল তাতে। তবে সার্বভৌম দেশগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে জানিয়ে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল ন্যাটো। ইউরোপীয় দেশগুলোর মূল উদ্বেগ, ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পুরো মহাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত তাদের অংশগ্রহণ ছাড়াই নেওয়া হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র পলা পিনহো শুক্রবার বলেন, শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো অনেক কাজ বাকি। নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইউরোপীয় ইউনিয়নেরই থাকবে। অন্যদিকে ন্যাটো জানিয়েছে, ইউক্রেনের মিত্ররা সংঘাতের ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের জন্য কাজ করছে। কুশনার অবশ্য ইউরোপীয় অংশীদারদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আবুধাবি আলোচনার পাশাপাশি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরামর্শ করবে ওয়াশিংটন। অগ্রগতি হলে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণে বৃহত্তর বহুপক্ষীয় আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবুধাবির বৈঠকে ইউক্রেনের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ন্যাটোর প্রভাব এবং রাশিয়ার দাবির মধ্যে সমঝোতা সম্ভব কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে। তবে ইউক্রেন, রাশিয়া ও ইউরোপের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। ইউরোপীয় নেতারা বলছেন, রুশ আগ্রাসনকে পুরস্কৃত করে কিংবা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও নিজস্ব ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার ক্ষুণ্ন করে; এমন কোনো চুক্তি তারা মেনে নেবেন না। সূত্র : ইউরো নিউজ

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স