|
| |
শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

জামায়াতের ৭৭ শাখার ৫১টিতেই আগের আমির

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ০৪:৫৫ এএম
১৬৩ পঠিত
জামায়াতের ৭৭ শাখার ৫১টিতেই আগের আমির
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও মহানগর আমিরের মেয়াদ দুই বছর। দলের রুকনরা গোপন ব্যালটে তাঁদের নির্বাচিত করেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জেলা ও মহানগর নেতৃত্বে নতুন মেয়াদে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে ঘোষিত ৭৭টি সাংগঠনিক শাখার ৫১টিতেই আমির পদে বহাল আছেন আগের নেতারা। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০ জেলার আমির এক দশক বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। ঝালকাঠিতে ২০০৪ সাল থেকে আমির পদে থাকা হাফিজুর রহমানও আবার নির্বাচিত হয়েছেন।

অন্যদিকে খাগড়াছড়িতে প্রায় ২৮ বছর ধরে আমিরের দায়িত্ব পালন করা সৈয়দ মো. আবদুল মোমেনের জায়গায় এসেছেন মিনহাজুর রহমান। তিনি আগে জেলা শাখার সেক্রেটারি ছিলেন। লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, বরিশাল, রাজবাড়ী ও খুলনা জেলায়ও নেতৃত্ব বদল হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত একই ব্যক্তি আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

জামায়াতের জেলা পর্যায়ে বছরের পর বছর একই ব্যক্তির নেতৃত্বে থাকা নিয়ে সম্প্রতি প্রথম আলোয় ‘জামায়াতের জেলা নেতৃত্বে বছরের পর বছর একই মুখ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। দলটির ভেতরেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ছিল। সেই পটভূমিতে নতুন মেয়াদের নির্বাচনে কিছু শাখায় পরিবর্তন এলেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা অনেক নেতাই আবার আমির নির্বাচিত হয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, বরিশাল, রাজবাড়ী ও খুলনা জেলায়ও নেতৃত্ব বদল হয়েছে। এসব জেলায় ১৭ থেকে ২৩ বছর পর্যন্ত একই ব্যক্তি আমিরের দায়িত্বে ছিলেন।

জামায়াত গত বুধবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২৭-২৮ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরদের নাম জানায়। রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের রুকনদের (সদস্য) গোপন ভোটে জেলা ও মহানগর আমিররা নির্বাচিত হয়েছেন।

তবে এদিন কুমিল্লা মহানগর ও জামালপুর জেলা শাখার আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়নি। কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে গত ১৪ অক্টোবর জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর দুই দিন পর দলটি মহানগর কমিটি ভেঙে দেয় এবং দীর্ঘদিনের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। এ কারণে সেখানে নতুন কমিটির ভোট গ্রহণ হয়নি। অন্যদিকে জামালপুর জেলায় ভোট গ্রহণ হলেও কিছু পর্যালোচনার জন্য ফল প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে।

রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের রুকনদের (সদস্য) গোপন ভোটে জেলা ও মহানগর আমিররা নির্বাচিত হয়েছেন।

১০ জেলায় এক দশক পেরিয়েও একই নেতৃত্ব

সারা দেশে জেলা ও মহানগর মিলিয়ে জামায়াতের ৭৯টি সাংগঠনিক ইউনিট রয়েছে। জামায়াতের নেতা ও প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ৪৯টি শাখার নেতৃত্বের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, বগুড়া জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, ঝালকাঠি, ময়মনসিংহ জেলা, শেরপুর, মেহেরপুর, টাঙ্গাইল, রাঙামাটি ও বান্দরবানের আমিররা অন্তত ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন মেয়াদেও তাঁরা নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে ঝালকাঠির হাফিজুর রহমান ২০০৪ সাল থেকে টানা ২২ বছর জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। রাঙামাটির মোহাম্মদ আবদুল আলীম ও বান্দরবানের এস এম আবদুছ ছালাম আজাদ ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালনের পর আবার নির্বাচিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জের মো. শাহিনুর আলম একই পদে ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর আবার নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া নাটোর, বরিশাল মহানগর, বরগুনা, নড়াইল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং মানিকগঞ্জের আমিররা এবার পঞ্চম মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন।

এর মধ্যে ঝালকাঠির হাফিজুর রহমান ২০০৪ সাল থেকে টানা ২২ বছর জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। রাঙামাটির মোহাম্মদ আবদুল আলীম ও বান্দরবানের এস এম আবদুছ ছালাম আজাদ ১৬ বছর ধরে দায়িত্ব পালনের পর আবার নির্বাচিত হয়েছেন। সিরাজগঞ্জের মো. শাহিনুর আলম একই পদে ১৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর আবার নির্বাচিত হয়েছেন।

দীর্ঘদিনের কয়েকজন আমিরের জায়গায় নতুন মুখ

নতুন মেয়াদে খাগড়াছড়ির পাশাপাশি জয়পুরহাট, খুলনা, বরিশাল, রাজবাড়ী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। জয়পুরহাটে নতুন আমির হয়েছেন গোলাম কিবরিয়া, খুলনা জেলায় কবিরুল ইসলাম, বরিশাল জেলায় মাহফুজুর রহমান, রাজবাড়ীতে হাসমত আলী ও লক্ষ্মীপুরে এ আর হাফিজুল্লাহ।

এর মধ্যে এ আর হাফিজুল্লাহ আগে লক্ষ্মীপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারে ‘দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেন, জান্নাত অবধারিত’ মন্তব্য করে তিনি ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। মহানগর শাখাগুলোর মধ্যে বগুড়ায় আবদুল মালেক, রাজশাহীতে মো. জাহাঙ্গীর, ময়মনসিংহে আসাদুজ্জামান সোহেল ও গাজীপুরে খায়রুল হাসান নতুন আমির হয়েছেন।

এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে নতুন মুখ এসেছেন ঠাকুরগাঁওয়ে মোহাম্মদ আলমগীর, দিনাজপুরে এনামুল হক, রংপুরে এনামুল হক, পাবনায় নজরুল ইসলাম, নওগাঁয় মাহফুজুর রহমান, ঝিনাইদহে আবদুল আউয়াল, মাগুরায় সাঈদ আহমাদ, পিরোজপুরে আ. রব, কিশোরগঞ্জে আজিজুল হক, গাজীপুরে সেফাউল হক, নরসিংদীতে ইব্রাহিম ভূঁইয়া, ফরিদপুরে ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ ও সুনামগঞ্জে শামসুদ্দিন।

নারায়ণগঞ্জ জেলার মাসুদুর রহমান চলতি বছরের শুরুতে ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। এবার তিনি নির্বাচিত আমির হয়েছেন। অন্যদিকে কুড়িগ্রামের মো. আজিজুর রহমান ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ২২ বছর জেলা আমির ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি আবার দায়িত্ব পান। এবারও তাঁকে আমির নির্বাচিত করেছেন রুকনরা।

এক বা দুই বছর কাজ করে অনেকে সংগঠনের কার্যক্রম পুরো বুঝে উঠতে পারেন না। সে কারণে কেউ কেউ একাধিকবার নির্বাচিত হন। রুকনরা ভোট দিয়েই তাঁদের নির্বাচিত করেন।

বারবার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে দলের ব্যাখ্যা

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও মহানগর আমিরের মেয়াদ দুই বছর। দলের রুকনরা গোপন ব্যালটে তাঁদের নির্বাচিত করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, এবার ৯ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হয়। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুমের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। প্রতিটি শাখার জন্য আলাদা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। সংশ্লিষ্ট শাখায় রুকন সম্মেলনের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শেষে গত বুধবার নির্বাচিতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

একই ব্যক্তি বারবার নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রুকনরা দায়িত্বশীল নির্বাচনে ভোট দেন। তাঁর ভাষ্য, ইসলামি সংগঠন হিসেবে জামায়াতের নেতৃত্বের কিছু স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। এক বা দুই বছর কাজ করে অনেকে সংগঠনের কার্যক্রম পুরো বুঝে উঠতে পারেন না। সে কারণে কেউ কেউ একাধিকবার নির্বাচিত হন। রুকনরা ভোট দিয়েই তাঁদের নির্বাচিত করেন।

সূত্র: প্রথম আলো