|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ভিন্ন জালের গল্প লিখলেন লিকা

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
১৮৯ পঠিত
ভিন্ন জালের গল্প লিখলেন লিকা
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
মোংলার নদীতে ভোরের আলো ফোটার আগেই জাল ফেলেন এক মৎস্যজীবী। ফেরেন কখনো ভরা ঝুড়ি নিয়ে, কখনো প্রায় খালি হাতে। সেই জেলের কন্যা লিকা পোদ্দার, ভিন্ন এক বাধার জাল পেরিয়ে যিনি নিয়ে এসেছেন জাতীয় শিরোপা! এক্ষেত্রে জালটা কোর্টের মাঝখানে ঝোলানো ছিল। ওপারে ছিলেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন, অন্যতম দেশ সেরা শাটলার ঊর...
মোংলার নদীতে ভোরের আলো ফোটার আগেই জাল ফেলেন এক মৎস্যজীবী। ফেরেন কখনো ভরা ঝুড়ি নিয়ে, কখনো প্রায় খালি হাতে। সেই জেলের কন্যা লিকা পোদ্দার, ভিন্ন এক বাধার জাল পেরিয়ে যিনি নিয়ে এসেছেন জাতীয় শিরোপা! এক্ষেত্রে জালটা কোর্টের মাঝখানে ঝোলানো ছিল। ওপারে ছিলেন সাবেক চ্যাম্পিয়ন, অন্যতম দেশ সেরা শাটলার ঊর্মি আক্তার। মাঠের বাইরের সব হিসাব ভুল প্রমাণ করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের নারী এককের মুকুট কেড়ে নিলেন লিকা পোদ্দার। ফাইনালের প্রথম গেমে দুই পয়েন্টের ব্যবধানে টানটান স্নায়ুর লড়াই ২২-২০। দ্বিতীয় গেমে ছন্দপতন ১১-২১। তৃতীয় গেমে দারুণভাবে ফিরে আসা ২১-১৮। প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্মি আক্তার, যিনি আগেও এই মুকুট পরেছেন। অর্থাৎ যে মঞ্চে লিকার প্রথম পা রাখা, সেখানে অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অভিজ্ঞ যোদ্ধা। ২৪ বছর বয়সী নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার এই শাটলারের জন্য এটি ক্যারিয়ারের প্রথম সিনিয়র জাতীয় শিরোপা। কিন্তু মুকুটের ঝলকের চেয়ে বেশি আলো ছড়িয়েছে তার আড়ালের গল্প। লিকার পরিবার সচ্ছল নয়। বাবা নদীতে মাছ ধরে কোনোমতে সংসারের চাকা ঘোরান। দুই বোন আর বাবা-মাকে নিয়ে চারজনের এই পরিবারের ভার এখন অনেকটাই লিকার কাঁধে। অথচ কাঁধের এই বোঝা নিয়েই তিনি র‍্যাকেট ধরেছেন, কোর্টে নেমেছেন, নিজেকে গড়েছেন। সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো সার্ভিসেস দলের ছায়া তার মাথার ওপর ছিল না। পাশে ছিল এলোরা শাটলার একাডেমি, কাওসাকি ব্র্যান্ডের পৃষ্ঠপোষকতা আর কোচ অহিদুজ্জামান রাজুর নিখুঁত অঙ্ক। সীমিত সম্বল, অসীম জেদ- এই দুইয়ের যোগফলই তাকে আজ এখানে এনেছে। পাঁচ বছর ধরে সিনিয়র পর্যায়ে খেলছেন লিকা। এতদিন পর এলো প্রথম ফাইনাল, আর সেই প্রথম ফাইনালেই চ্যাম্পিয়ন। এই হিসাব মেলানো সহজ নয়। প্রথম বড় ম্যাচের চাপ অনেক সময় বড় খেলোয়াড়কেও কাবু করে ফেলে। সেই চাপকে জয় করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, ধৈর্যের মূল্য শেষ পর্যন্ত মেলে। খেলা শেষের দৃশ্যটাই বোধ হয় সবচেয়ে মানবিক। ভিডিওকলে মোংলায় থাকা মায়ের মুখোমুখি হতেই বাঁধ ভাঙল লিকার চোখে। ফ্রেমের এপারে মেয়ে, ওপারে মা। মায়ের বহুদিনের স্বপ্ন ছিল, তার মেয়েকে নিয়ে বড় কিছু ভাবার। সেই স্বপ্ন আজ ফ্রেমে ধরা পড়ল চোখের জলে ভেজা হাসিতে। জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দ কেমন- জানতে চাইলে লিকা নিজেই বলেন, ‘ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’ কিছু অনুভূতি আসলেই শব্দের বাইরে থাকে। লিকা এখানেই থামতে চান না। শতভাগ পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে আগামী দিনেও শিরোপা ধরে রাখার কথা বলেছেন তিনি। স্বপ্ন দেশের জন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরব বয়ে আনার। নতুন এই ব্যাডমিন্টন রানির মুকুট তাই শেষ বিন্দু নয়, বরং পথচলার প্রথম মাইলফলক। এক জেলের মেয়ে যখন নদীর জাল থেকে কোর্টের জালে এসে জীবন বদলায়, তখন সেটা শুধু একজন খেলোয়াড়ের জয় থাকে না। সে হয়ে ওঠে অসংখ্য ঘরের অপেক্ষার প্রমাণ, অন্যদের পথ দেখানোর সাহস।  

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স