ভূমি অফিসে ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, কর্মকর্তার দাবি এআই চিত্র
গণমাধ্যম ডেক্স
নরসিংদীর মনোহরদীতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। ভিডিওতে দেখা যায়, চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অন্তরা দেবনাথ এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা নিচ্ছেন। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি, খাজনা পরিশোধের জন্য নেওয়া ৩ হাজার টাকা পরে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ভিডিওটি সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে। ভিডিওটি আসল, নাকি এতে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কারসাজি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ দালাল চক্র এবং কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকারি নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং নানা অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের ঘোরানোর অভিযোগও দীর্ঘদিনের। চালাকচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভিডিওটি সেই অভিযোগকে নতুন করে সামনে এনেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা অন্তরা দেবনাথ সরকার বলেন, ঘটনার দিন এক সেবাগ্রহীতা জমির খাজনা পরিশোধ করতে অফিসে আসেন। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন এবং সেদিনই খাজনা পরিশোধ করে কর্মস্থলে ফিরতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু অফিসে বিদ্যুৎ না থাকায় অনলাইনে খাজনা পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছিল না।
অন্তরা দেবনাথের দাবি, সেবাগ্রহীতা বিদ্যুৎ এলে তার বিকাশ থেকে খাজনা পরিশোধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তাকে ৩ হাজার টাকা দেন। পরে ওই দিন অফিস এলাকায় সন্ধ্যার আগে বিদ্যুৎ আসবে না জানতে পেরে সেবাগ্রহীতাকে ডেকে টাকা ফেরত দেন এবং অন্য দিন আসতে বলেন।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, টাকা ফেরত দেওয়ার পরপরই আল আমিন নামে এক কনটেন্ট ক্রিয়েটর অফিসে এসে টাকা নেওয়ার ভিডিও দেখান। বিষয়টি নিয়ে ‘সমঝোতায়’ আসার জন্য চাপ দেন এবং তা না হলে প্রতিবেদন প্রকাশের হুমকি দেন। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তার ভাষ্য, চাঁদা না পেয়ে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে ভিডিওটি সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান।
ইউএনও বলেন, গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইদুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কানুনগো মো. হাবিবুর রহমানকে সদস্যসচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে কি না এবং ভিডিওতে প্রকাশিত ঘটনার প্রকৃত সত্যতা কী, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স