|
| |
শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

মৃত ও প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাবে কর্মসংস্থান প্রকল্পের টাকা, অনুসন্ধানে দুদক

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
৩৭০ পঠিত
মৃত ও প্রবাসীদের ব্যাংক হিসাবে কর্মসংস্থান প্রকল্পের টাকা, অনুসন্ধানে দুদক
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কেউ কাজ করেছেন মাত্র চার-পাঁচ দিন। মজুরি পেয়েছেন দুই থেকে চার হাজার টাকা। অথচ তাদের ব্যাংক হিসাবের বিবরণীতে দেখা গেছে, লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার কর্মসংস্থান কর্মসূচির তালিকায় নাম রয়েছে মৃত ও প্রবাসী ব্যক্তিদেরও। অন্যদিকে, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর নিজ...

কেউ কাজ করেছেন মাত্র চার-পাঁচ দিন। মজুরি পেয়েছেন দুই থেকে চার হাজার টাকা। অথচ তাদের ব্যাংক হিসাবের বিবরণীতে দেখা গেছে, লেনদেন হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত। আবার কর্মসংস্থান কর্মসূচির তালিকায় নাম রয়েছে মৃত ও প্রবাসী ব্যক্তিদেরও। অন্যদিকে, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পের ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর নিজেদের নয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ী।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের দুটি উন্নয়ন কর্মসূচিতে এমন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পে মোট ১ কোটি ১৮ লাখ ৬৮ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে সংস্থাটি। 

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ মামলা দুটি করা হয়।

মামলা দুটির একটিতে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির (ইজিপিপি) ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টাকা এবং অন্যটিতে ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়িত প্রকল্পের ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। উভয় মামলায় করেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পরবর্তী সময়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. এনায়েত হোসেন নয়নকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক ইউপি সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ইজিপিপি প্রকল্পে শ্রমিকদের তালিকা, কাজের হিসাব ও ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরের ৩৫টি প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা করেছে সংস্থাটি। চার শতাধিক শ্রমিকের বক্তব্য নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বক্তব্য পাওয়া গেছে ৪৮ জনের। পাশাপাশি তিন প্রবাসী ও সাত মৃত শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত তথ্যও পরীক্ষা করা হয়েছে।

শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের কেউ কেউ ব্যাংক হিসাব খোলার পর মাত্র চার-পাঁচ দিন কাজ করেছেন। মজুরি হিসেবে পেয়েছেন দুই থেকে চার হাজার টাকা। কিন্তু তাদের ৯০ শতাংশের বেশি ব্যাংক হিসাবের বিবরণী বিশ্লেষণ করে প্রায় ৭২ হাজার টাকা পর্যন্ত ডেবিট ও ক্রেডিট লেনদেনের তথ্য পেয়েছে দুদক।

শ্রমিকদের অভিযোগ, হিসাব খোলার কয়েক দিন পর প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা তাদের চেকবই নিয়ে যান। পরে ওই চেকবই ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে টাকা তোলা হয়। ব্যাংক কর্মকর্তারা হিসাবধারীর পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই না করেই অর্থ দিয়েছেন বলেও দুদকের অনুসন্ধানে অভিযোগ উঠে এসেছে। মৃত ও প্রবাসী শ্রমিকদের হিসাব থেকেও অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকল্প বাস্তবায়নেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে শ্রমিকের তালিকায় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম অন্তর্ভুক্তি, একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার ব্যবহার, কাজ না করিয়ে মজুরি দেখানো এবং ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া জব কার্ড হালনাগাদ না করা, হাজিরা ও মজুরি পরিশোধের যথাযথ নথি না রাখা এবং প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড না থাকার তথ্যও এসেছে অনুসন্ধানে।

অন্য মামলাটি ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ করের অর্থে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে। ২০১৭-১৮ থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ৫৫টি প্রকল্পের নথি পর্যালোচনা করে ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং কাজ না করেই বিলের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। এসব প্রকল্পে ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বক্তব্য নেওয়া হয়। তাদের কেউ কেউ ভাউচারে থাকা লেখা ও স্বাক্ষর নিজেদের নয় বলে জানিয়েছেন। প্রকল্প কমিটির সভার কার্যবিবরণী ও অন্যান্য নথিতে থাকা স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের বিল-ভাউচার তৈরির বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিবের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তবে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আরও যাচাই করার কথা জানিয়েছে দুদক।

এজাহারে বলা হয়েছে, প্রকল্প অনুমোদন, বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সাবেক চেয়ারম্যান এনায়েত হোসেন নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যদের পারস্পরিক যোগসাজশে ভুয়া ভাউচার তৈরি ও অর্থ উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। ইজিপিপি মামলায় সাবেক ইউপি সদস্যদের পাশাপাশি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মিলন বড়ালকেও আসামি করা হয়েছে। অন্য মামলায় সাবেক চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক সাবেক ইউপি সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় থেকে গত ৫ অক্টোবর মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে পাওয়া নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে মামলাগুলো করা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।

চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন কালবেলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স