|
| |
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামায় প্রধান শিক্ষিকার মমতার সেলাই

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
৪৪৭ পঠিত
শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামায় প্রধান শিক্ষিকার মমতার সেলাই
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করছেন প্রধান শিক্ষিকা। দূর থেকে সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সহকারী শিক্ষিকা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খাইরুন নাহার ল...

ক্লাসের ফাঁকে শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করছেন প্রধান শিক্ষিকা। দূর থেকে সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সহকারী শিক্ষিকা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খাইরুন নাহার লিপি নামের একটি আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকার মানবিক কর্মকাণ্ডের ছবি ও বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করা হয়। অনেকেই পোস্টটি শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

কালবেলার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ওই স্কুলের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানিয়েছেন, এমন কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান শিক্ষিকা নাইলা আগে থেকেই এলাকায় পরিচিত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বরাবরই তার এমন সম্পর্ক।

সহকারী শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদান-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তার নজরে আসে, এক শিক্ষার্থীর গায়ের জামাটি ছেঁড়া। বিষয়টি চোখে পড়ার পর কাউকে দিয়ে কাজটি করানোর অপেক্ষা না করে নিজেই সেলাইয়ের কাজে বসে যান। সুঁই-সুতো ও কাঁচি হাতে নিয়ে পরম যত্নে শিক্ষার্থীর জামাটি সেলাই করে দেন।

ওই পোস্টে খাইরুন নাহার লিপি লিখেছেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষিকা নাইলা। তবে এদিন তাকে দেখা গেছে ভিন্ন এক রূপে। এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা চোখে পড়তেই প্রশাসনিক গাম্ভীর্য সরিয়ে রেখে নিজেই সুঁই-সুতো হাতে বসে পড়েন তিনি। পরম মমতায় জামাটি সেলাই করে দেন।

তিনি লেখেন, শিক্ষাঙ্গন যে কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, বরং একটি যত্নের পরিবার, নাইলা ম্যাডাম তার কাজের মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণ করেছেন। একজন সহকর্মী হিসেবে এমন মানবিক ও অসাধারণ মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্যে প্রধান শিক্ষিকার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। নানা নেতিবাচক ঘটনা ও সমালোচনার ভিড়ে শিক্ষকদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সামনে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।

সূত্র: কালবেলা