বাংলাদেশের আকাশে দেখা যাবে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি ও গ্রহের মেলা, কবে ও কখন
গণমাধ্যম ডেক্স
হেমন্তের শুভ্রতায় বাংলাদেশের আকাশ এখন ধূলিকণা ও মেঘমুক্ত; আর তাই ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের আকাশে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি, উজ্জ্বল গ্রহের মেলাসহ বিভিন্ন মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে। শুধু তা–ই নয়, নভেম্বর মাসেই আকাশে দেখা মিলবে পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির।
টাওরিড উল্কাবৃষ্টি
নভেম্বরের শুরুতেই রাতের আকাশে দেখা যাবে টাওরিড উল্কাবৃষ্টি। ৪ থেকে ৫ নভেম্বরের রাতে দক্ষিণ টাওরিড এবং ১১ থেকে ১২ নভেম্বরের রাতে উত্তর টাওরিড উল্কাবৃষ্টি তাদের শীর্ষ বিন্দুতে পৌঁছাবে। টাওরিড উল্কাবৃষ্টিতে উল্কার সংখ্যা প্রতি ঘণ্টায় কম (৫ থেকে ১০টি) হলেও এর উল্কাগুলো আকারে বেশ বড় এবং অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়। এর কারণে ফায়ারবল দেখা যাবে। ৯ নভেম্বরের অমাবস্যার কারণে এই সময় চাঁদ আকাশে থাকবে না। ফলে চাঁদের আলোর বাধা না থাকায় নিশিরাতে আকাশে ক্ষণিকের জন্য তীব্র আলো ছড়িয়ে দেওয়া এই ফায়ারবলগুলো অত্যন্ত স্পষ্ট দেখা যেতে পারে।
পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
নভেম্বরের শুরুতে পুব আকাশে হেমন্ত ও শীতকালীন নক্ষত্রমণ্ডলগুলো প্রস্ফুটিত হতে শুরু করে। আর তাই আমাদের নিকটতম স্পাইরাল গ্যালাক্সি অ্যান্ড্রোমিডা দেখার জন্য এটি উপযুক্ত সময়। ৯ নভেম্বর পর্যন্ত চাঁদহীন সন্ধ্যার আকাশে বাইনোকুলার দিয়ে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সিকে আবছা আলোর মেঘের মতো দেখা যাবে। শুধু তা–ই নয়, পূর্ব-উত্তরপূর্ব আকাশে ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতির পেগাসাস নক্ষত্রমণ্ডলের চারকোনা বিন্যাস এবং উত্তর আকাশে ইংরেজি ডব্লিউ অক্ষরের আকৃতি নিয়ে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডলও স্পষ্ট দেখা যাবে।
পশ্চিমের গোধূলিতে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ
নভেম্বরের প্রথম পক্ষ জুড়ে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিগন্তে অবস্থান করবে শুক্র গ্রহ। সূর্যাস্তের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর গোধূলির আলো হারিয়ে যেতেই পশ্চিম আকাশে দেখা মিলবে গ্রহটির। সন্ধ্যার পর এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত শুক্র গ্রহকে খালি চোখেই স্পষ্ট দেখা যাবে।
দক্ষিণ আকাশে শনি গ্রহ
নভেম্বরের প্রথম পক্ষে সূর্যাস্তের পরপরই দক্ষিণ-পূর্ব আকাশে বেশ ভালোভাবে দেখা যাবে শনি গ্রহ। সন্ধ্যার পর গ্রহটি দক্ষিণ আকাশের উচ্চভাগে উঠে এলেও মধ্যরাতের পর পশ্চিম দিগন্তে হেলে পড়বে। নক্ষত্রের মতো মিটমিট না করে স্থির ও ঈষৎ সোনালি আভায় দেখা যাবে গ্রহটিকে; আর তাই মাঝারি শক্তির বাইনোকুলার বা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে শনি গ্রহের বলয় এবং এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানও স্পষ্ট দেখা যাবে।
চাঁদের রূপ পরিবর্তন
মাসের শুরুতে চাঁদ তার শেষ চতুর্থাংশ অতিক্রম করে কৃষ্ণাংশে প্রবেশ করবে। এই দিনগুলোতে চাঁদ মধ্যরাত বা শেষ রাতে উঠবে, ফলে সন্ধ্যার আকাশ থাকবে সম্পূর্ণ অন্ধকার ও চাঁদের আলোমুক্ত। ৯ নভেম্বর হবে অমাবস্যা। চাঁদের আলো না থাকায় আকাশে নক্ষত্র, ছায়াপথ এবং গভীর মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু সহজেই পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহ
নভেম্বরের ১৫ তারিখের কাছাকাছি সময়ে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিগন্তে অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে বৃহস্পতি গ্রহ দেখা যাবে। শুধু তা–ই নয়, মধ্যরাতের পর পূর্ব আকাশে মঙ্গল গ্রহেরও দেখা মিলবে।
সূত্র: স্কাইম্যাপ, টাইম অ্যান্ড ডেট, স্কাই অ্যান্ড টেলিস্কোপ, অ্যাস্ট্রোনমি ডটকম, সাইটেক
সূত্র: প্রথম আলো