বাংলাদেশের হাতে সময় ১৯ বছর, এরপর কমবে জনমিতিক সুবিধা
গণমাধ্যম ডেক্স
জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক কাঠামো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এত দিন বড় সুযোগ তৈরি করেছে। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, কমেছে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর অনুপাত। এতে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু এ সুবিধা চিরস্থায়ী নয়। আগামী দুই দশকে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অনুপাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে কমতে শুরু করবে। একই সময়ে বাড়বে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ফলে একদিকে কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, অন্যদিকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চাপ তৈরি হবে।
বিশ্বব্যাংকের নতুন এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনসংখ্যাগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের জন্য এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও জনসংখ্যা তাত্ত্বিকেরা বলছেন, বাংলাদেশের সামনে জটিল সময়। সেই সময়কে কাজে না লাগাতে পারলে জনমিতির সুবিধা একটি বোঝা হয়ে যাবে। এর আর্থসামাজিক প্রভাব মারাত্মক হতে পারে।
বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জনমিতির চিত্র
‘ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ ইন সাউথ এশিয়া: ফ্রম টেইলউইন্ডস টু হেডউইন্ডস ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন বিশ্বব্যাংকের আটজন গবেষক ও বিশেষজ্ঞ। এতে বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার পরিবর্তন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটি আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় প্রকাশিত হবে।
শ্রীলঙ্কা—এ ছয়টি দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয় জনসংখ্যার বয়সভিত্তিক পরিবর্তন এবং তার সঙ্গে অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার সম্পর্ক। জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্টস ২০২৪, বিশ্বব্যাংকের তথ্য, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার উপাত্ত, কয়েকটি দেশের শ্রমশক্তি জরিপ এবং প্রতিষ্ঠানের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করেছে বিশ্বব্যাংক। ভবিষ্যৎ আয় ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব বোঝাতে তারা মডেলভিত্তিক হিসাবও করেছে।
প্রতিবেদনের হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর অংশ ২০৩৪ সালে সর্বোচ্চ হবে। ২০৪৯ সালে এ অঞ্চলে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অংশ ১৪ শতাংশে পৌঁছাবে। এই সীমা অতিক্রম করলে একটি জনসংখ্যাকে ‘বয়স্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে জনমিতিক পরিবর্তন দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে গড়ে ০.৪ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করেছে বলে প্রতিবেদনের হিসাব। ২০২৪ থেকে ২০৫০ সময়ে এই অবদান কমে বছরে প্রায় ০.১ শতাংশ পয়েন্টে দাঁড়াতে পারে।
বাংলাদেশের হাতে প্রায় দুই দশক
কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ৭ শতাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি হলে বিশ্বব্যাংক তাকে ‘বার্ধক্যশীল’ বলে। এ অনুপাত ১৪ শতাংশে পৌঁছালে দেশটিকে ‘বয়স্ক’ জনসংখ্যার পর্যায়ে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৭ সালে বার্ধক্যশীল জনসংখ্যার পর্যায়ে প্রবেশ করবে। ২০৫১ সালে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের অংশ ১৪ শতাংশে পৌঁছে দেশটি ‘বয়স্ক’ জনসংখ্যার পর্যায়ে যাবে। কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ হবে ২০৪৫ সালে—অর্থাৎ সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে প্রায় ১৯ বছর আছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো একই সময়ে এই পরিবর্তনের মুখে পড়ছে না। শ্রীলঙ্কায় কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত ২০০৫ সালেই সর্বোচ্চ হয়েছিল; ২০৩০ সালে দেশটি ‘বয়স্ক’ পর্যায়ে পৌঁছাবে। ভারতে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত ২০৩৪ সালে সর্বোচ্চ হবে ও ২০৪৯ সালে দেশটি ‘বয়স্ক’ হবে। ভুটানে এই দুই বছর ২০৩১ ও ২০৪৮; মালদ্বীপে ২০৩৩ ও ২০৪৪। নেপালে কর্মক্ষম মানুষের অনুপাত সর্বোচ্চ হবে ২০৪৭ সালে, আর দেশটি ‘বয়স্ক’ পর্যায়ে যাবে ২০৫৯ সালে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বার্ধক্যশীল থেকে ‘বয়স্ক’ জনসংখ্যায় উত্তরণে গড়ে লাগবে ২৫ বছর। অন্য উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিতে লাগে গড়ে ৩২ বছর। ফ্রান্সে এই পরিবর্তনে লেগেছিল ১২৬ বছর, যুক্তরাষ্ট্রে ৭২ বছর। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো তাই কম সময়ে, তুলনামূলক কম মাথাপিছু আয়েই এই পরিবর্তনের মুখে পড়ছে।
কাজের বাজার বাড়তি কর্মী নিতে পারছে না
জনসংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগানোর প্রধান শর্ত হলো কর্মক্ষম মানুষের জন্য কাজ তৈরি করা। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় কর্মক্ষম মানুষের মাত্র ৬০ শতাংশ কর্মরত; অন্য উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিতে এ হার ৬৯ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম মানুষের ৩৪ শতাংশ কৃষিবহির্ভূত খাতে কাজ করেন; অন্য অঞ্চলে এ হার ৫১ শতাংশ। এ অঞ্চলে কর্মরত মানুষের ৮৮ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক কাজে যুক্ত।
বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মীরা আনুষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের তুলনায় ৪৫ থেকে ৮৪ শতাংশ কম আয় করেন। এতে শুধু শ্রমিকের আয় কমে না, উৎপাদনশীলতারও ক্ষতি হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজনীয় গতিতে কর্মসংস্থান বাড়াতে পারছে না। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাম্প্রতিক সময়ে বছরে গড়ে ২.৭ শতাংশ হারে কর্মসংস্থান বাড়িয়েছে। অন্য উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতিতে এ হার ৫.৪ শতাংশ। বিদ্যুৎ-সংকট, আমদানি শুল্কায়নে দেরি, কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও উদ্ভাবনে কম বিনিয়োগকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশের বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক।
অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিপুলসংখ্যক তরুণকে সক্ষম করে গড়ে তোলা। শুধু গড়ে তুললে হবে না। তাদের জন্য উৎপাদনশীল ও মানসম্মত কাজের সংস্থান করতে হবে। সমস্যা হচ্ছে এ চ্যালেঞ্জটি দেশের নীতিনির্ধারণী স্তরে মূল এজেন্ডা হিসেবে নেই।
নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে প্রবৃদ্ধির সুযোগ
দক্ষিণ এশিয়ায় নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার ৩৫ শতাংশ, যা উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম কম। একই সময়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যেও ঘাটতি আছে। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রাথমিক স্কুলে যাওয়ার বয়সী প্রতি ১০ শিশুর মধ্যে ৫ থেকে ৬ জন স্কুলে যায় না অথবা ১০ বছর বয়সেও সহজ লেখা পড়তে পারে না। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩২ শতাংশ খর্বাকৃতির শিকার।
বিশ্বব্যাংকের মডেলভিত্তিক হিসাব বলছে, শিক্ষা, শেখার মান, প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্য ও শিশুর খর্বাকৃতি কমানোর পাশাপাশি নারীর শ্রমে অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে ২০৫০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকার তুলনায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। নারী-পুরুষের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের ব্যবধান পুরোপুরি দূর করার মতো উচ্চাভিলাষী পরিবর্তনে ব্যবধান ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
এগুলো নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়; নির্দিষ্ট নীতি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন হলে সম্ভাব্য আয়ের পরিবর্তন বোঝাতে করা হিসাব। প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ, দ্রুত শুল্কায়ন, কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনে উৎসাহ তৈরি করলে বছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার আরও ০.২ থেকে ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, নারীদের ক্ষুদ্রঋণপ্রাপ্তি এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে।
তবে এসব অগ্রগতি নারীদের শোভন কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি মনে করেন ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, অনেক নারী এখনো শ্রমশক্তির বাইরে রয়েছেন। আবার যাঁরা কর্মজীবনে যুক্ত, তাঁদের অনেকেই অনানুষ্ঠানিক ও স্বল্প বেতনের কাজে নিয়োজিত। অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের দেখাশোনার দায়িত্ব, অনিরাপদ যাতায়াত ও কর্মপরিবেশ, শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত সেবার অভাব, দক্ষতার সঙ্গে কাজের চাহিদার অসংগতি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ ও পছন্দ সীমিত করে রেখেছে।
দীর্ঘায়ু বাড়ছে, স্বাস্থ্যকর জীবন ততটা নয়
দক্ষিণ এশিয়ায় ২০২৩ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশু গড়ে ৭২ বছর বাঁচতে পারে; এর মধ্যে ৬১ বছর কাটবে পূর্ণ স্বাস্থ্যে। অসংক্রামক রোগ এখন এ অঞ্চলের রোগের বোঝার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। ২০০০ সালে এ হার ছিল ৩৬ শতাংশ।
তবু স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনায় যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। দক্ষিণ এশিয়ায় চিকিৎসার ব্যয়ের বড় অংশ পরিবারকে নিজের পকেট থেকে দিতে হয়। জিডিপির অনুপাতে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যয় ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কমেছে—এমন একমাত্র অঞ্চল দক্ষিণ এশিয়া। বাংলাদেশ ও নেপালের এক-তৃতীয়াংশের কম প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অসংক্রামক রোগের সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে।
বয়স্ক মানুষের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার চাহিদাও বাড়বে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার হিসাবে, দক্ষিণ এশিয়ায় এ কাজে প্রয়োজনীয় কর্মীর সংখ্যা ২০২৩ সালের ১ কোটি ৩০ লাখ থেকে বেড়ে ২০৫০ সালে ৩ কোটি ১০ লাখ হতে পারে। অথচ পরিচর্যার বড় অংশ এখনো পরিবারের সদস্যরা দেন, যাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। প্রশিক্ষণ, পারিশ্রমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা না থাকলে এই দায়িত্ব নারীর কর্মসংস্থান ও পরিবারের সঞ্চয়ের ওপর চাপ তৈরি করে।

বাংলাদেশের জনমিতির এই সুবিধাকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো না যায়, তবে তা বোঝায় রূপান্তরিত হতে পারে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সঠিকভাবে এগোচ্ছে না। ইতিমধ্যে মোট প্রজনন হার বেড়ে গেছে। জনসংখ্যা তরুণ অংশকে কার্যকর মানবসম্পদে রূপান্তর না করলে বিপদ বাড়তে পারে।’
মঈনুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিপুল বিনিয়োগ না করলে আমরা জনমিতির সুবিধা পাব না। সেই দুই খাতে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক নয়।’
বার্ধক্যের আয় সুরক্ষা কতটা আছে
দক্ষিণ এশিয়ার কর্মক্ষম মানুষের মাত্র ১৭ শতাংশ সরকার-নির্ধারিত অবদানভিত্তিক পেনশন স্কিমে অংশ নেন। বয়স্ক মানুষের মধ্যে পেনশন সুবিধা পান মাত্র ১০ শতাংশ—বিশ্বে এ হার সর্বনিম্ন। বিশেষভাবে বৃদ্ধ বয়সের জন্য সঞ্চয় করেন প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ৬ শতাংশ।
বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক অবদানভিত্তিক পেনশনব্যবস্থা নেই। ২০২৩ সালে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম স্বেচ্ছামূলক। ফলে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা অনেক মানুষের অবসরকালীন আয় অনিশ্চিত থেকে যায়। তাঁদের জন্য পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাড়ানো যাবে, সেটিও বড় নীতিগত প্রশ্ন।
প্রতিবেদনের সামগ্রিক বার্তা হলো, বাংলাদেশের হাতে সময় থাকলেও তা নিজে থেকে সুফল এনে দেবে না। কর্মক্ষম মানুষের জন্য উৎপাদনশীল কাজ, নারীর অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও দক্ষতা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অবসরকালীন আয়ের ব্যবস্থা—এসব ক্ষেত্রে এখনকার অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে জনসংখ্যাগত সুবিধা প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেবে, নাকি বার্ধক্যের চাপ আরও কঠিন হবে।
অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জনমিতির সুবিধা লাভের জন্য শিক্ষাকে সবচেয়ে বড় উপাদান হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু দীর্ঘসময় ধরে এর ওপর জোর দেওয়া হয়নি। কোভিডের পর এ নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট অভ্যুত্থানের পর তরুণসমাজ সঠিক সহযোগিতা পায়নি। শিক্ষার প্রতি একধরনের অনীহা তৈরি হয়েছে। শিক্ষায় আগ্রহ তৈরি বড় একটা কাজ এখনকার সময়ের জন্য।
সূত্র: প্রথম আলো