|
| |
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ইয়াহিয়া খান পারেনি, তোমরা কী ঠেকাবে: আখতারুজ্জামান

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ০২:২৭ পিএম
৩১৫ পঠিত
ইয়াহিয়া খান পারেনি, তোমরা কী ঠেকাবে: আখতারুজ্জামান
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
কারামুক্তির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে...

কারামুক্তির পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগকে (ডিবি) কড়া ভাষায় চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন দলটির নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। নিজের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান তাদের ঠেকাতে পারেননি, এখন ডিবি-পুলিশ কীভাবে ঠেকাবে?

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কারামুক্তির পর জামায়াত আমিরের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি ডিবিকে চ্যালেঞ্জ করেছি, আমরা তো ভাই পানিতে ভেসে আসিনি। ডিবি, পুলিশ, মিলিটারি দিয়ে আমাদের ঠেকানোর বয়স চলে গেছে। ৭১ সালে পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান ঠেকাতে পারেনি, আর তোমরা কী ঠেকাবে? এই বয়সে এখন তো মৃত্যু একমাত্র কাম্য, আর কিছু নেই।’

নিজের গ্রেপ্তারের আগের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ডিবির সদস্যরা তার বাসায় গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। পরে ঘরে প্রবেশ করে তার অফিসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছবি টাঙানো দেখতে পান। ছবিটি দেখে ডিবি কর্মকর্তারা বিস্মিত হন এবং তাকে প্রশ্ন করেন, তিনি বিএনপি ছাড়লেন কেন।

আখতারুজ্জামান বলেন, ‘তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি দল ছাড়লেন কেন? আপনি তো বিএনপির বড় নেতা ছিলেন। তারেক রহমান সাহেব আপনাকে ভালো জানেন, আপনি দল ছাড়লেন কেন? আমি বলেছি, এটা কি আপনার বিবেচ্য বিষয়? এটা কি গ্রেপ্তারের কোনো কারণ? কারণ থাকলে বলেন। তখন তারা বলেন, না, এমনিই মনে হলো।’

তার দাবি, জামায়াতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে বিশেষ কোনো তথ্য বা বক্তব্য থাকার কারণেই ডিবি কর্মকর্তারা এ ধরনের প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে মনে এই প্রশ্ন এলো কেন? তার মানে আমার জামায়াতে যাওয়ার পিছনে সরকারের কাছে নিশ্চয়ই বিকল্প কোনো নথি আছে, কোন বক্তব্য আছে। কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, আমি জামায়াতে যোগদান করেছি এবং প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছি।

এরপর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গিয়ে তাকে ডিবি কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তবে তিনি স্বেচ্ছায় যেতে অস্বীকৃতি জানান। ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি আমাকে বললেন, ডিবিতে যেতে হবে। আমি বললাম ‘আমি তো ডিবি যাব না, আপনার কথায় কেন যাব?।’

পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের বর্ণনা দিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমি বলেছি, গ্রেপ্তার করেন, সমস্যা নেই। তবে গ্রেপ্তার করতে হলে ওয়ারেন্ট দেখান। আমার সামনে গরম আওয়াজ করার মতো বাংলাদেশে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেনি। বড় বড় প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সামনেও গরম আওয়াজ দেখিয়েছি। আপনি তো আমার কাছে বাচ্চা। কাজেই আমার সামনে বড় গলায় কথা বলবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমার সামনে বড় গলায় কথা বলার মতো বাংলাদেশে একমাত্র আমার জামায়াতের আমির ছাড়া আর কেউ নেই।’

আখতারুজ্জামান জানান, মাগরিবের আজানের সময় তিনি নামাজ পড়তে চাইলে পুলিশ সদস্যরা তাকে ঘরেই নামাজ পড়ার অনুমতি দেন। এরপর তিনি জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ফোন করে পুরো ঘটনা জানান। আমির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘চিন্তা কইরেন না, আমি যাচ্ছি, অসুবিধা নেই।’

পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি এসে তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে তিনি হাতকড়া পরিয়ে অথবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখিয়ে নেওয়ার কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশের অনুরোধে গাড়িতে উঠতে রাজি হন তিনি। তবে গাড়িতে কোথায় বসবেন, তা নিয়েও পুলিশের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। পরে উপস্থিত লোকজনকে সাক্ষী রেখে হাত তুলে জানান, তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় নিয়ে রাখা হয়।

তবে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই জানিয়ে আখতারুজ্জামান বলেন, তার আপত্তি রিমান্ডে নেওয়া এবং রিমান্ডে নিয়ে চোখ বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করা নিয়ে।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘গ্রেপ্তারের ব্যাপারে আমার কোন কথা নাই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাকে রিমান্ডে নিলা কেন? এখানে কি হয়েছে তুমি রিমান্ডে নিলা? রিমান্ডে নিয়ে তুমি আমার চোখ বাধলা কেন? আর চোখ বেঁধে তুমি আমাকে জামায়াতের সম্বন্ধে বিভিন্ন প্রশ্ন কেন করলা?’

জিজ্ঞাসাবাদের সময় জামায়াত সম্পর্কে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছিল, তা প্রকাশ্যে বলতে চাননি আখতারুজ্জামান।
বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বলেন, ‘তুমি পুলিশ হয়ে, ডিবি হয়ে একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরের খবর জানার ন্যক্কারজনক সাহস কোথায় পেলে? একটি রাজনৈতিক দল কীভাবে চলে, নেতৃত্ব কীভাবে চলে, কী করে আর কী করে না- সেই প্রশ্ন করার অধিকার বাংলাদেশের পুলিশকে কে দিয়েছে? আমি বিনীতভাবে আমির সাহেবের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম।’

সূত্র: কালবেলা