|
| |
বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু জনগণের সরকার পরাজিত হবে না

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৫০ পিএম
৩১৫ পঠিত
চ্যালেঞ্জ আছে, কিন্তু জনগণের সরকার পরাজিত হবে না
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা যেকোনো দলের সামনেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকত—একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে বিএনপি সরকার। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও পলায়ন একটা যুদ্ধের বিজয়, কিন্তু বৃহত্তর যুদ্ধটা এতে শেষ হয়ে যায়নি। লড়াই আরও বেশি দীর্ঘ—সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির পথে যাত্রা শুরু করা। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর ক্ষমতায় আসা যেকোনো দলের সামনেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ থাকত—একটি ধ্বংসপ্রায় রাষ্ট্রব্যবস্থার পুনর্গঠন। আওয়ামী লীগের মাফিয়া দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে অকার্যকর করা হয়েছে যে অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল।

অনেকে বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কিংবা নেপালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের তুলনা করেন। এই তুলনা যথাযথ নয়। বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝতে হলে বরং তিউনিসিয়া কিংবা আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে যাওয়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা যেতে পারে। কারণ, ওই দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও দীর্ঘ সময় ধরে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র শুধু নির্বাচন বা সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়। এটি কতগুলো প্রতিষ্ঠান, নিয়মনীতি ও কাঠামোর সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিজ নিজ দায়িত্ব ও এখতিয়ারের মধ্য থেকে কাজ করতে হয়। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন সেই ব্যবস্থা কার্যকর ছিল না। ফলে বর্তমান সরকারকে একই সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জনগণের বিপুল প্রত্যাশাও পূরণ করতে হচ্ছে।

২

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে গণতন্ত্রের প্রথম অর্থ অবাধ ভোটাধিকার। মানুষ এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চায়, যেখানে নিজের পছন্দের প্রতিনিধি ও সরকার নির্বাচন করতে পারবে। স্থানীয় সরকারেও সেই অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। মানুষ আরও চায়, নির্বাচিত সরকার তাদের ভালো-মন্দের তদারক করুক। নাগরিকদের সচেতন অংশ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এগুলোও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত।

সরকারের আট মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গেলে এই প্রত্যাশাগুলোর কথা বিবেচনায় নিতে হবে। অস্বীকার করা যাবে না যে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জনগণ যতটা অগ্রগতি আশা করেছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম হয়েছে। তবে একই সঙ্গে দেখতে হবে, সরকার কোন পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করেছে। সরকারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, আমলাতন্ত্রের বড় অংশেরই দীর্ঘদিন ধরে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। একটি নির্বাচিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার থাকে। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে কীভাবে কাজ করতে হবে, সেটিও নতুন করে আয়ত্ত করতে হচ্ছে। তারপরও আমি মনে করি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধীরে ধীরে কার্যকর অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে; এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।

রাজনৈতিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো এবং সাধারণ নাগরিকেরা সরকারের কঠোর সমালোচনা করতে পারছে। কোনো কোনো বক্তব্য কারও কাছে গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে বলেও মনে হতে পারে। কিন্তু সরকার সেগুলো সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করছে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই সহনশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৩

বাংলাদেশের মতো একটি দেশে অর্থনীতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষের আয়রোজগার ও জীবনযাত্রায় সংকট তৈরি হলে অন্য সমস্যাগুলো অনেক বড় হয়ে ওঠে। সবচেয়ে দক্ষ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও দেশে নানা সমস্যা থাকবে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে মানুষ সেই সমস্যাগুলোর চাপ আরও বেশি অনুভব করে।

বর্তমানে অর্থনীতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আওয়ামী শাসনামলের ভয়ংকর লুটপাটের ফল ফলতে শুরু হওয়া। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্ব–পরিস্থিতি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ এই সংকটের মুখে পড়েছে এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসিনা সরকারের আমলে দেশীয় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশকে তার বড় মূল্য দিতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান

এ পরিস্থিতিতে সরকার একদিকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এর সুবিধা পাবে। পরিবারপ্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভিজিএফ ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বরাদ্দ চালের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা মানুষের কষ্ট লাঘব করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

জ্বালানিনিরাপত্তার জন্য নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভোলায় আবিষ্কৃত গ্যাস দ্রুত কাজে লাগানোর চেষ্টা চলছে। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। মানুষ যাতে সহজে বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করতে পারে এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারে, সে জন্য প্রণোদনা ও নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগও রয়েছে।

এসব প্রচেষ্টার সুফল রাতারাতি পাওয়া যাবে না। তবে জ্বালানিসংকট অনেকটা সামাল দেওয়া গেলে অর্থনীতির অন্যান্য ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে; বিনিয়োগ বেড়ে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে।

৪

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, ৫ আগস্টের আগে পুলিশ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। হাসিনা সরকারের আমলে পুলিশের একজাতীয় সামরিকীকরণ ঘটেছিল। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পুলিশ এভাবে কাজ করে না। 

৫ আগস্টের পর পুলিশ যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে আসাও সহজ ছিল না। আমার মূল্যায়ন হলো, বর্তমানে পুলিশ আগের তুলনায় ভালো কাজ করছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে পরিবর্তনটি স্পষ্ট হবে। তখন অনেক ক্ষেত্রে কেউ যেকোনো জায়গায় সংঘবদ্ধ হয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গান গাওয়া বন্ধ করা হচ্ছিল; মেয়েদের ফুটবল খেলতে দেওয়া হচ্ছিল না; যাত্রা, মেলা বা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিয়মিত ঘটেছে। ভয়ংকর সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল মাজার। শতাধিক মাজারে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এমনকি প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা অফিসে ঘোষণা দিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল, কিন্তু সরকার ছিল নির্বিকার।

বর্তমান বাংলাদেশ সেই পরিস্থিতি থেকে প্রায় পুরোপুরি বেরিয়ে এসেছে। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে না, তা নয়। সেগুলোও হওয়া উচিত নয়। তবে আইনশৃঙ্খলার সামগ্রিক উন্নতি হয়েছে।

তবে এটাও সত্য, যে সরকার সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং অর্ধেকের বেশি ভোটারের সমর্থন পেয়েছে, তার কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি থাকবে। সেই প্রত্যাশার জায়গা থেকে কারও মনে হতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়নি। একটি গণতান্ত্রিক সরকারকে জনগণের এই উদ্বেগ ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা অনেক উন্নতি করতে পারব।

৫

অস্বীকার করার সুযোগ নেই যে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ উঠছে। তবে বুঝতে হবে, বাংলাদেশে এসব সমস্যা অনেক গভীরে প্রোথিত। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের পতন হয়েছে বলেই পরদিন থেকে সমাজের সব অনিয়ম দূর হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি পরিবর্তন করতে সময় প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সরকার সমস্যাগুলো মোকাবিলায় পদক্ষেপ নিচ্ছে কি না এবং পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে কি না। ইতিমধ্যে কিছু ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে তাঁদের পদ ছাড়তে হয়েছে। একজনের বিরুদ্ধে দখলদারির অভিযোগ ছিল, অন্যজন প্রকাশ্যে আইন ভঙ্গ করেছিলেন।

নাগরিকদের কাছে নিশ্চয়ই এই বার্তা গেছে যে অভিযোগ উঠলে সরকার সেগুলো উপেক্ষা করছে না। তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি এবং অন্যান্য অভিযোগ চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে সমস্যাটির গভীরতা বিবেচনায় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে।

৬

সরকারের প্রণীত বিভিন্ন আইন নিয়ে নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে কিছু উদ্বেগ দৃশ্যমান। এসব বিষয়ে আলোচনা ও সমালোচনা অবশ্যই চলবে। তবে আইনের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন—আমরা যেন প্রতিটি আইনকে শুধু শেখ হাসিনা সরকারের অভিজ্ঞতার আলোকে বিচার না করি। অতীতে কোনো আইন যেভাবে অপব্যবহার করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও সেটি একইভাবে ব্যবহার করা হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। সবচেয়ে ভালো আইন অপব্যবহার করেও সরকারের পক্ষে হয়রানি করা সম্ভব। কিন্তু সুযোগ থাকলেই যে সরকার তা অপব্যবহার করবে, এমন নয়। আইনের বিধানের পাশাপাশি বাস্তবে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। শুধু আইনের ভাষা নয়, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহিও গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে কিংবা হয়রানির ঘটনা ঘটলে অবশ্যই প্রশ্ন তুলতে হবে। প্রয়োজন হলে আইন সংশোধন করতে হবে।

একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বড় বৈশিষ্ট্য হলো, সে ভুল স্বীকার করতে এবং তা সংশোধন করতে প্রস্তুত। গণতন্ত্রের শক্তি এখানেই। সরকার সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে, এমন নয়। তবে ভুল হলে তা সংশোধনের মানসিকতা আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন থেকে শুরু করে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক অধিকার—সব ক্ষেত্রেই আমাদের সেই গণতান্ত্রিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সরকার এই চ্যালেঞ্জে পরাজিত হবে না। l

* জাহেদ উর রহমান: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি, তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি

সূত্র: প্রথম আলো