|
| |
শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বত্ব © ২০২৬ গণমাধ্যম। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।

সর্বশেষঃ

ফরিদপুরে সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি ৪ কোটি টাকার সড়কের নির্মাণ কাজ

গণমাধ্যম ডেক্স

গণমাধ্যম ডেক্স

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
২৭৬ পঠিত
ফরিদপুরে সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি ৪ কোটি টাকার সড়কের নির্মাণ কাজ
যুক্ত থাকুন
সর্বশেষ খবরের জন্য ফলো করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে দুই কিলোমিটারেরও কম। অথচ এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ...

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন হেরিংবোন বন্ড (এইচবিবি) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হলেও এ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে দুই কিলোমিটারেরও কম। অথচ এরই মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ ও হতাশা।

উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল। কাজটি পায় এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে শুরু হয়ে সড়কটি ওয়াহেদ মোল্যার কান্দি এলাকার কালা মিয়া শিকদারের দোকান পর্যন্ত যাওয়ার কথা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ হাজার ৭১২ মিটার সড়ক নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা। এর বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৭০০ মিটার কাজ করে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে। অর্থাৎ মোট বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক বিল নেওয়া হলেও সড়কের কাজ শেষ হয়েছে এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি।

পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে দীর্ঘদিন ধরে পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়। এতে মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে দুর্ভোগ বাড়ে। স্থানীয়দের আশা, সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও সহজ হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা এলেই চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। তখন চলাচলের জন্য সড়কটির প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও তা শেষ না হওয়ায় তাদের দুর্ভোগ কমছে না। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর আকন গ্রামের বাসিন্দা আমিন শেখ বলেন, ‘সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, এবার আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার সময় আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, দ্রুত সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।’

ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, সড়কটি ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাওয়ায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত জানানো যাবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম বলেন, প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

সূত্র: নতুন আরএসএস সোর্স